এমন ৭টি আচরণ যা শিশুর সাথে করা উচিত নয়
প্রাথমিক কথাঃ
আপনার শিশুটি আপনাকে তার আনন্দ বা উচ্ছাস দেখতে গিয়ে বা তার বায়না পূর্ণ করতে কখনো কখনো খিটখিটে উগ্র স্বভাবের আচরণ করে। বিষয়টি সামলাতে গিয়ে শিশুটিকে মাঝে মধ্যেই বোকা ঝকা করেন। আপনার মতে এতে কোনো সমস্যা নেই , শিশু খারাপ কিছু করলেই তাকে বকা যায়। এতে আবার কি সমস্যা ???
এই পৃথিবীতে আপনার শিশুর শেষ আশ্রয়স্থল ,ভরসার জায়গা হচ্ছে বাবা - মা হিসাবে আপনারা নিজেই। আর আপনাদের থেকেই শিশুটি খারাপ আচরণ পেলে হিতে বিপরীত হতেই পারে এমনকি গবেষকরা বলছেন এতে শিশুর ব্যাক্তি ও মানসিক গঠনেও খারাপ প্রভাব পড়তে পারে। আমরা আজকের এই ব্লগে এমন ৭ টি আচরনের ব্যাপারে জানাবো যা আপনার শিশুর সাথে ঘটলে তার ভবিষ্যৎ জীবনে খারাপ প্রভাব পড়বে।
পোস্ট সূচিপত্রঃ
- প্রাথমিক কথাঃ
- শিশুর সাথে খারাপ আচরণ বলতে কি বুঝায় ???
- কেন আমরা শিশুর সাথে খারাপ আচরণ করি ???
- শিশুর সাথে খারাপ আচরণের ফলাফল কি হতে পারে???
- এমন ০৭টি আচরণ যা শিশুর সাথে করা উচিত নয়ঃ
- শেষ কথাঃ
শিশুর সাথে খারাপ আচরণ বলতে কি বুঝায় ???
শিশুর সাথে এমন আচরণ করা যা তার আবেগ বা অনুভুতি, চিন্তা-চেতনা এমনকি শারীরিক ,মানসিক ও সামাজিক বিকাশের পথে বাধা তৈরী করে । এগুলো শিশুদের ব্যাক্তি মর্যাদা ,নিরাপত্তা এবং আত্মবিশ্বাসে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে ।
আরো পড়ুনঃ প্রাকৃতিক ভাবে কৃমির সংক্রমন প্রতিরোধের উপায়।
কেন আমরা শিশুর সাথে খারাপ আচরণ করি ???
শুরুতেই আপনাদের একটা কথা বলে রাখি , আসলে আমরা কেউই শিশুদের সাথে খারাপ আচরণ করতে চাই না। কিন্তু এমন কিছু পরিবেশ পরিস্থিতি বা বিষয় তৈরী হয়ে যায় যে, আমরা শিশুদের সাথে নিজের অজান্তেই খারাপ আচরণ করে ফেলি যেমনঃ
- সহজেই মেজাজ হারানোঃ নিজের কর্ম পরিবেশ ,মানসিক চাপ বা দুঃশ্চিন্তা , ক্লান্তি বা রাগের মাথায় শিশুর ছোট ভূলটিকেও আমরা বড়ো করে দেখি তখন আমাদের মাঝে রাগ ঝাড়ার প্রবণতা তৈরী হয় ফলে আমরা শিশুর সাথে খারাপ আচরণ করি।
- শিশুদের কাছে অধিক আশা করাঃ এমনটি ভাবা যে শিশু কখনো ভুল করবে না। সে যা করবে সব কিছুই সঠিক করবে অর্থাৎ শিশুর বয়স অনুযায়ী তার সীমাবদ্ধতাকে বুঝা হয় না।
- অন্য শিশুর সাথে তুলুনা করাঃ অমুকের বাচ্চা এই করতে পারে অই করতে পারে ,আমার বাচ্চা পারে না কেন? এই রকম চিন্তা ভাবনা নিজেদের মাঝে নিয়ে আসা।
- ভুল ধারনাঃ মার না খেলে বাচ্চা মানুষ হয় না ,এই রকম ভুল ধারনা আমাদের সমাজে এখনো অনেক মানুষ করে থাকে ফলশ্রুতিতে অনেক শিশু মারধরের শিকার হয় এবং অপমানিত হয়।
- শৈশবের খারাপ অভিজ্ঞতাঃ যারা ছোট বেলায় খারাপ আচরণের শিকার হয়েছেন, তারা নিজের অজান্তেই সেই রকম খারাপ আচরন সন্তান বা শিশুদের সাথে করে থাকেন।
- পারিবারিক কলহঃ অনেক সময় পারিবারিক দ্বন্দ্ব বা কলহের কারনেও শিশুরা খারাপ আচরনের শিকার হতে পারে।
শিশুর সাথে খারাপ আচরণের ফলাফল কি হতে পারে???
- ভয় এবং উদ্বেগ তৈরি হয় ফলশ্রুতিতে আত্মবিশ্বাসের অভাব তৈরি হতে পারে ।
- শিশুর মাঝে দুঃখ ,হতাশা এবং একাকীত্ব কাজ করে।
- শিশুটি সবসময় নিজেকে অপ্রয়োজনীয় ও মূল্যহীন ভাবতে শুরু করে।
- শারীরিক ভাবে আঘাতগ্রস্থ হওয়ার ফলে শারীরিক সমস্যা হতে পারে এমনকি অঙ্গহানি পর্যন্তও হতে পারে।
- শারীরিক বিকাশে বাধার সম্মুখীন হতে পারে।
- আত্মীয় স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশি, বন্ধুবান্ধব ও অন্যনাদের সাথে মেলামেশায় সমস্যা দেখা দিতে পারে।
- সকলের সঙ্গ হারিয়ে একাকীত্ব তৈরি হতে পারে।
- বেশি বেশি রাগ করা, উগ্র মেজাজী হওয়া অথবা হঠাৎ চুপ হয়ে যাওয়ার মত সমস্যা দেখা দিতে পারে।
- অন্যদের সাথে খারাপ ব্যবহার করা, মিথ্যা কথা বলা বা পরিবার ত্যাগ করার মত সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
- শিশুটি বড় হয়ে অন্যদের সাথেও খারাপ আচরণ করতে পারে।
- মানসিক রোগ, অপরাধ প্রবনতা বা খারাপ আসক্তি তৈরি হতে পারে।
- ভবিষ্যতে নিজের ক্যারিয়ার,সম্পর্ক গড়তে সমস্যা হতে পারে।
- আত্মবিশ্বাস হারিয়ে শিক্ষাগত সফলতাও হুমকির মুখে পড়তে পারে।
ব্লগ টু বাজারের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url