প্রাকৃতিক ভাবে কৃমির সংক্রমন প্রতিরোধের উপায়
ভূমিকাঃ
জন্মের পরে কৃমির যন্ত্রনার শিকার হয় নি এমন শিশু পাওয়া প্রায় অসম্ভব। এটা যেন প্রত্যেক শিশুর ক্ষেত্রে একটি সাধারন সমস্যা । মলদ্বারে চুলকানি উপসর্গ ছাড়াও আরো কিছু মারাত্মক উপসর্গ রয়েছে ,যা আপনার শিশুর শারীরিক এবং মানসিক বিকাশ কে ব্যাহত করতে পারে চলুন এইবার সেই সকল উপসর্গগুলো জেনে এবং প্রাকৃতিক ভাবে কৃমি নিয়ন্ত্রণ করা যায় জেনে নেওয়া যাক।
পোস্ট সূচিপত্র ঃ
- ভূমিকাঃ
- উপসর্গসমূহ কি কি ?
- কৃমি কি ?
- কৃমি কীভাবে মানবদেহে প্রবেশ করে ?
- প্রাকৃতিক ভাবে কৃমির সংক্রমন প্রতিরোধের উপায়ঃ
- শেষ কথাঃ
উপসর্গসমূহ কি কি ?
- পেট ফুলে যাওয়া
- বারে বারে থুতু আসা
- ওজন কমে যাওয়া
- শুকনো কাশি
- জ্বর জ্বর ভাব
- পেটে হালকা বা তীব্র ব্যথা
- খাবারে অরুচি
- বমি বমি ভাব
- খিটখিটে আচরণ
- প্রসাব জ্বালাপোড়া করা।
- পায়খানার সাথে রক্ত যাওয়া, আমাশয়
- মলদ্বারে চুলকানি
কৃমি কি ?
কৃমি হচ্ছে এক ধরনের পরজীবী প্রাণী । এরা মূলত মানুষ সহ অন্যান্য প্রাণীর দেহে বসবাস করে এবং এরা প্রাণীদেহের পুষ্টি শোষণ করে বেচে থাকে। এই পরজীবীগুলো মানবদেহে বিভিন্ন ভাবে শারীরিক সমস্যা তৈরি করতে পারে বিশেষ করে শিশুদের শরীরে এরা মারাত্মক অপুষ্টির সৃষ্টি করে। তাহলে বুঝতেই পারছেন যে, কৃমি মানব দেহের জন্য কতটা ক্ষতিকর !
কৃমি কীভাবে মানবদেহে প্রবেশ করে ?
১। সরাসরি মাটীর সংস্পর্শেঃ দূষিত মাটি হাতে স্পর্শ করলে অথবা দূষিত মাটিতে খালি পায়ে হাটলে কৃমির লার্ভা ত্বকের মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করতে পারে এছাড়াও টয়লেট বা পায়খানায় খালি পায়ে গেলে কৃমি সংক্রমনের ঝুকি বাড়ে।
২। স্বাস্থ্যবিধি অনুসরন না করাঃ পায়খানা হতে আসার পরে ,খাবার খাওয়ার পূর্বে দুই হাত সাবান দিয়ে ভালোভাবে পরিস্কার না করলে কৃমির দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার ঝুকি বাড়ে।
৩। দূষিত পানির দ্বারাঃ কৃমির লার্ভা উপস্থিত আছে এমন পানি পান করা বা এমন পানি দ্বারা তৈরি খাবার খাওয়া।
৪।নখের সাহায্যেঃ হাত-পায়ের নখ বড় থাকলে কৃমির দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার ঝুকি বাড়ে।
৫।সংক্রমিত পোষা প্রানীর দ্বারা: সংক্রমিত পোষা প্রাণীদের সংস্পর্শে আসলেও কৃমি সংক্রমনের ঝুকি বাড়ে।
৬। অপরিস্কার হাতের মাধমেঃ অপরিস্কার হাত বার বার মুখে বা নাকে দেওয়ার কারনেও কৃমির দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার ঝুকি আছে।
প্রাকৃতিক ভাবে কৃমির সংক্রমন প্রতিরোধের উপায়ঃ
প্রথমেই আপনাদের বলে রাখা দরকার, কৃমি হচ্ছে এক ধরনের পরজীবী প্রাণী। এই পরজীবীর বৃদ্ধি রোধ করতে পারলেই কৃমির সংক্রমণ হতে বাঁচা যাবে। এমন কিছু খাবার রয়েছে যেগুলো পরজীবীর বৃদ্ধিকে রোধ করতে পারে তা আপনাদের কাছে তুলে ধরা হলো।
১। কাঁচা পেপেঃ কাঁচা পেঁপে কৃমি কমাতে সাহায্যে করে কারন এতে পরজীবী নাশক গুন রয়েছে।
২। রসুনঃ কৃমি তাড়াতে রসূন বেশ কার্যকারী ভূমিকা পালন করে কারন এতেও পরজীবী নাশক গুন রয়েছে।
৩। নারকেলঃ নারকেলে রয়েছে এন্টি প্যারাসাইটিক বা পরজীবী নাশক গুন যা কৃমির বৃদ্ধিকে রোধ করে।
৪।হ্লুদঃ হলুদের রয়েছে অ্যান্টি ইনফ্লামেটরি এবং অ্যান্টি ব্যাক্টোরিয়াল গুণ যা অন্ত্রের ক্রিমিকে রোধ করতে সাহায্যে করে। এখানে উল্লেখ্য যে হলুদকে দুধের সাথে মিশিয়ে পান করা ভালো হবে।
৫। লবঙ্গঃ কৃমি থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য প্রতিদিন ২-১ টি লবঙ্গ খাওয়া যেতে পারে।
৬। মিষ্টি কুমড়ার বীজঃ তিন কাপ পানির সাথে দুই টেবিল চামচ মিষ্টি কুমড়ার বীজ ৩০ মিনিট সিদ্ধ করে পান করলে কৃমি হতে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
৭।তিত ভেট বা ঘেঁটুর পাতার রস : এই পাতার রস আপনার শিশুকে এক চামচ খাওয়ালে কৃমির যন্ত্রণা নিয়ে আপনার আর কোন চিন্তাই থাকবে না। এটি পরীক্ষিত একটি প্রতিষেধক।
শেষ কথাঃ
পরিশেষে আপনাদের বলে রাখি, উপরোক্ত খাবারগুলো কৃমি বা পরজীবীর বৃদ্ধিকে ব্যাহত করে কিন্তু পরজীবী হতে মুক্তি দিতে পারে না। কৃমি হলে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এর পরামর্শ নিন ।
এছাড়াও শিশুদের ক্ষেত্রে কৃমি হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হউন কারন কৃমির নির্দিষ্ট চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের পরামর্শ ও ওষুধের প্রয়োজন হতে পারে।
ব্লগ টু বাজারের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url