eno খাওয়ার অপকারিতা কি হতে পারে

Eno খাওয়ার অপকারিতা কি সত্যিই কি ইনো খেলে কোন ক্ষতি হতে পারে। মনের মধ্যে এমন অজানা প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে আপনি গুগলে সার্চ দিয়েছেন ইনো খাওয়ার অপকারিতা কি। তাই আজকের আমার এই আর্টিকেলটি ইনো সম্পর্কিত আপনার মনের ভিতরে যত অজানা প্রশ্ন রয়েছে তার উত্তর হিসেবে আপনার জন্য যথেষ্ট হবে। 

eno খাওয়ার অপকারিতা

আমরা ভোজন রসিক বাঙালি আমরা মসলাদার খাবার পছন্দ করি আর এই পছন্দ থেকেই সহজে গ্যাস্ট্রিক বাঁধিয়ে বসি। তারপর আমরা বলতে থাকি কিছুই খেতে পারি না,বুক জ্বালাপোড়া করে, গ্যাস্টিক হয়,এর সমাধান কি? তখন আমরা খুব সহজ সমাধান হিসাবে ইনো খেয়ে থাকি। তাই আমি আপনাদেরকে জানাবো ইনো খাওয়ার নিয়ম এটি খেলে কি হয় এটি খালি পেটে খাওয়া যায় কিনা এবং এর অপকারিতা সম্পর্কে বর্ণনা করব।

পোস্ট সূচিপত্রঃ Eno খাওয়ার অপকারিতা 

eno খাওয়ার অপকারিতা 

Eno খাওয়ার অপকারিতা সত্যিই রয়েছে কি না এই প্রশ্নের উত্তরে বলবো যে ইনো, ডাক্তারের পরামর্শ মতে এবং নিয়ম মেনে সঠিক মাত্রায় বা ডোজে ইনো খেলে তেমন কোন অপকারিতা নেই বরং কিছু সুবিধা রয়েছে। তবে মনে রাখবেন যে , কোন কিছুরই অতিরিক্ত ভালো না তাই Eno অতিরিক্ত খাওয়া উচিত নয়। আমরা প্রত্যেকে জানি ইনোর কাজ হচ্ছে গ্যাস বা আসিডিটি কমানো। এটি এত দ্রুত কমায় যে,বলা হয়ে থাকে মাত্র ৬ সেকেন্ডের মধ্যে কমিয়ে দেয়।

কিন্তু যাদের ক্ষেত্রে এটি সেবন করা ঠিক হবে না তা একটু জেনে নেওয়া যাক।যে সকল ব্যাক্তির কিডনির সমস্যা রয়েছে বা লিভারের সমস্যা রয়েছে অথবা যাদের হার্টের সমস্যা রয়েছে তারা কখনোই এটি পান করবেন না। এমনকি যারা হাই ব্লাড প্রেসার ওষুধ খেয়ে থাকেন বা হাই ব্লাড প্রেসার রয়েছে তারা এগুলো খেতে পারবেন না এবং বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন রয়েছেন যারা গর্ভবতী মা রয়েছেন এবং বাচ্চাদেরকে দুধ পান করান তারা অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ মতে এটি খাবেন। যাদের কিডনি, লিভার ,হাই ব্লাড প্রেসার বা হার্টের সমস্যা রয়েছে তারা কেন এটি খাবেন না চলুন তা ব্যাখ্যা করা যাক।

  • অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে পেট ফাঁপা সমস্যা হতে পারে এর ফলে ডায়রিয়াও হতে পারে। অতিরিক্ত গ্যাস তৈরি হওয়ার কারণে অনেকের অস্বস্তি বা বমি ভাব হতে পারে। 
  • ইনো দীর্ঘদিন বা বেশি পরিমাণে খেলে আপনি এর দ্বারা অভ্যস্ত হয়ে যেতে পারেন যার কারণে এটি বন্ধ করলে আবার অম্লতা বেড়ে যেতে পারে। তখন এটি তখন বন্ধ করা কঠিন হয়ে পড়বে।
  • ইনোতে সোডিয়ামের পরিমাণ বেশি থাকে তাই বেশি পরিমাণে খেলে শরীরে সোডিয়াম জমে যেতে পারে তখন কিডনির উপরে চাপ পড়বে ফলে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির সম্ভাবনা বাড়তে পারে।
  • বেশি পরিমাণে ইনো খেয়ে নিলে অতিরিক্ত সোডিয়াম গ্রহণ করা হতে পারে যার ফলে আপনার রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে তাই এটি এড়িয়ে চলা উচিত বিশেষ করে যাদের রক্তচাপ অর্থাৎ ব্লাড প্রেসার রয়েছে। 

ইনো মাঝে মধ্যে বা প্রয়োজনে খাওয়া নিরাপদ কিন্তু প্রতিদিন নিয়ম করে খাওয়া ঠিক নয়। তবে যেহেতু এটি স্বাস্থ্যগত বিষয় তাই দীর্ঘ মেয়াদে এসিডিটির বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থাকলে ডাক্তার এর পরামর্শ মত ইনো খাওয়া উচিত হবে।

ইনো এর উপকারিতা 

ইনো এর উপকারিতা বর্ণনা করার পূর্বে  আপনাদেরকে একটি তথ্য দিয়ে রাখি তা হচ্ছে, ইনো শুধু আপনাকে তাৎক্ষণিক আরাম দেবে কিন্তু আপনার অ্যাসিডিটির মূল কারণ কে সমূলে নির্মূল করতে পারে না তাই অবশ্যয় এ কথা স্বীকার করতে হয় যে তাৎক্ষণিক বুক জ্বালাপোড়া বা এসিডিটি থেকে আরাম পাওয়ার একটি বিশাল সুবিধা রয়েছে ইনোতে।

ইনোতে রয়েছে সোডিয়াম বাই কার্বনেট, সোডিয়াম কার্বনেট ও সাইট্রিক এসিড যা পানির  সঙ্গে মিশে দেহের অর্থাৎ পেটের অতিরিক্ত এসিডকে নিরপেক্ষ করে। ইনো খেলে কি কি উপকারিতা পাওয়া যাবে তা বিস্তারিত নিচে উল্লেখ করছি। 
  • দ্রুত সমাধানঃ বুক জ্বালাপোড়া বা এসিডিটি অথবা বদহজম থেকে ইনো আপনাকে মাত্র ৬ সেকেন্ডে মুক্তি দেবে। তাই এটি আপনাকে তাৎক্ষণিক বা খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে স্বস্তি বা আরাম এনে দিতে পারে।
  • এসিডিটি থেকে মুক্তিঃ ইনোতে থাকা সোডিয়াম বাই কার্বনেট, সাইট্রিক এসিড ও সোডিয়াম কার্বনেট পেটে জমে থাকা অতিরিক্ত এসিডকে নিরপেক্ষ করে ফলে খুব দ্রুত অম্লতা ও জ্বালাপোড়া ভাব কমে ।
  • পেট ফাঁপা কমায়ঃ ইনো খাওয়ার ফলে আপনার পেটে অতিরিক্ত গ্যাস খুব সহজেই বের হয়ে যায় ফলস্বরূপ আপনার পেট ফাঁপা বা পেট ফোলা ভাব কমে যায়। 
  • সহজ পদ্ধতিঃ এটি বাজারে সাধারণত ছোট ছোট প্যাকেট আকারে পাওয়া যায় যেগুলোতে সাধারণত ৫ গ্রাম ইনো থাকে। এগুলো বহন করা বা সাথে রাখা খুবই সহজ এবং খাওয়ার পদ্ধতিটিও খুব সহজ বিধায় এটি ব্যবহারযোগ্য তাকেও সহজ করে।
  • অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ বা বেশি তেল মশলা জাতীয় খাবার খাওয়ার পর যদি বমি বমি ভাব বা অস্বস্তি বোধ করেন তবে এটি এক প্যাকেট খাওয়ার পর আপনাকে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে আরাম এনে দেবে।

ইনো খাওয়ার নিয়ম 

ইনো খাওয়ার সঠিক নিয়ম এবং তা কখন কিভাবে খেতে হয় সে সম্পর্কে সঠিক তথ্য দিবো আপনি শুধু একটু ধৈর্য সহকারে পড়তে থাকুন। ইনো খাওয়ার সঠিক নিয়ম বা পদ্ধতি না জানার কারণে আমরা অনেকেই এটি খেতে পারি না বা খেলেও ফলাফল ভালো পাওয়া যায় না। তাই এটি কিভাবে খাবেন সে সম্পর্কে প্রত্যেকেরই জেনে রাখা উচিত। আপনি প্রতিদিন কয়টি খেতে পারবেন, কোন বয়স থেকে খেতে পারবেন, কতদিন পর পর খেতে পারবেন তার বিস্তারিত উল্লেখ করছি।
  • এটি খাওয়ার জন্য ১২ বছরের উপরে বয়স হতে হবে অর্থাৎ ১২ বছরের ঊর্ধে পুরুষ নারী উভয়েই এটি খেতে পারবেন। 
  • এটি আপনি ২৪ ঘন্টা পর পর অর্থাৎ প্রতিদিনই খেতে পারবেন না তবে যদি আপনার অতিরিক্ত এসিডিটি বা গ্যাসের সমস্যা থাকে তবে ২৪ ঘন্টা পর পর অথবা ২৪ ঘণ্টায় দুইবার খেতে পারেন কিন্তু তা অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী। 
  • আপনার যদি অতিরিক্ত গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা না থাকে তাহলে আপনি এটি ৭ দিন পর পর খেতে পারবেন।
  • এটি ১৫০ মিলিগ্রাম পানিতে এক প্যাকেট মিশাবেন এবং মিশ্রণটি একসাথে পুরোটাই খেয়ে নেবেন। আপনি যদি মনে করেন যে, অল্প পরিমাণ পানিতে মিশাবেন তাহলে আপনি খুব একটা ভালো উপকার পাবেন না। তাই দ্রুত এবং ভালো ফলাফল পাওয়ার জন্য অবশ্যই সঠিক মাত্রায় মেশাতে হবে।
মনে রাখবেন এটি খালি পেটে খাওয়া ঠিক হবে না বরং খাবারের এক থেকে দুই ঘন্টা পরে খেলে ভালো কাজ করবে। আরেকটি বিষয় আপনি মনে রাখবেন এটি দীর্ঘ মেয়াদে বা একটানা(তিন থেকে পাঁচ দিনের বেশি) খাওয়া আপনার জন্য বিপদজনক হতে পারে।

Eno খেলে কি হয় 

ইনো খেলে কি হয় এর সহজ উত্তর বলতে গেলে, ইনো বুক জ্বালাপোড়া, এসিডিটি বা অম্লতা, এসিডিটির কারণে বুকের ব্যথা, বদহজম, পেট ফাঁপা বা ফুলে যাওয়া যাওয়ার মত সমস্যাগুলোকে দূর করে। ইনো  হচ্ছে একটি অ্যান্টাসিড যা পেটে জমে থাকা অতিরিক্ত হাইড্রোক্লোরিক এসিডকে নিরপেক্ষ করে। ইনো কিভাবে মানবদেহে কাজ করে এই সমস্যা গুলোর দ্রুত সমাধান দেয় বা ইনো আপনার শরীরে কিভাবে কাজ করে চলুন একটু ব্যাখ্যা করা যাক। 
 
আমি পূর্বেই বলেছিলাম যে ইনোর প্রধান উপাদান হচ্ছে সোডিয়াম বাই কার্বনেট, সাইট্রিক এসিড ও সোডিয়াম কার্বনেট তো এগুলো যখন পানির সাথে মেশানো হয় তখন তা পানির সাথে বিক্রিয়া করে হাইড্রো ক্লোরিক এসিড উৎপন্ন করে অর্থাৎ সোডিয়াম ক্লোরাইড যা লবণ (Nacl) এবং (H2o) পানি তে পরিণত হয় অর্থাৎ লবণ ও পানিতে পরিণত হয়। 

পেটের মধ্যে উক্ত বিক্রিয়ার ফলে হাইড্রোক্লোরিক এসিডকে নিরপেক্ষ করে দেয়। যার কারণে পেটের অম্লতা কমিয়ে দেয় ও একই সাথে আপনার পেটের ভেতরের তৈরি হওয়া কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্যাস বের হয়ে যায় এবং পেটের চাপ ও গ্যাসের অস্বস্তিকে  কমিয়ে দেয়। তাই আপনি খুব দ্রুত সুস্থতা অনুভব করেন বা স্বস্তি পান।
eno খাওয়ার অপকারিতা

ইনো এর দাম 

ইনো এর দাম কতো তা মূলত মার্কেট বা বাজার দর, সুপার শপ ,ব্যান্ড এর ভিন্নতায় কিছুটা দাম ভিন্ন হতে পারে। যেমন আপনি যদি দারাজ থেকে নেন তবে ৩০ প্যাকেটের একটি বক্স থাকে যার দাম ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা। আবার আপনি যদি স্বপ্নের আউটলেট থেকে নেন তখন ছয়টি প্যাকেটের দাম তারা নিবে ৯০ টাকা। এছাড়াও যদি আপনি ইন্ডিয়ান ইনো নিতে চান তাহলে প্রতি পাঁচ গ্রামের একটি প্যাকেটের দাম পড়বে আনুমানিক ১২ থেকে ১৫ টাকা। 

ইনো আপনি বিভিন্ন দোকান অনলাইন প্লাটফর্ম এবং আপনার বাড়ির আশেপাশের যেকোন ফার্মেসী অথবা মুদির দোকানে কিনতে পারবেন। এটিকে আপনি প্যাকেজিং অবস্থায় অথবা খুচরা এক প্যাকেট হিসেবেও কিনতে পারবেন। তবে বাজার, প্যাকেট অথবা অফারের ভিন্নতায় দাম কিছুটা কম বেশি হতে পারে। ইনু সাধারণত বিভিন্ন রকম ফ্লেভার এ পাওয়া যায় যেমন অরেঞ্জ ফ্লেভার ফ্রুট সল্ট লেমন ফ্লেভার ইত্যাদি নামে কয়েক রকম ফ্লেভার আপনি বাজারে কিনতে পারবেন।

Eno কি খালি পেটে খাওয়া যায় 

ইনো সকালে বা খালি পেটে খাওয়া সাধারণত নিরাপদ মনে করা হয় কারণ এটি এসিডিটিকে দ্রুত উপশম করতে পারে কিন্তু খালি পেটে ইনো খাওয়ার অপকারিতাও রয়েছে। কিভাবে অপকারিতা বা ঝুঁকি রয়েছে চলুন তা ব্যাখ্যা করা যাক।
  • আমরা জানি ইনো খেলে পেটে কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্যাস তৈরি হয়। তো এই গ্যাস খালি পেটে থাকার ফলে পেটের দেয়ালে সরাসরি চাপ সৃষ্টি করে ফলস্বরূপ আপনি অস্বস্তি ঢেকুর বা পেট ব্যথার মতো সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন।
  • খালি পেটে খাবার ফলে আপনার বমি বা অম্বল বেড়ে যেতে পারে। এছাড়াও যাদের গ্যাস বা আলসার রয়েছে তাদের খালি পেটে ইনো না খাওয়া উচিত কারণ এর ফলে বমি বা জ্বালাপোড়া আরও বাড়তে পারে।
  • আমরা পূর্বেই জেনেছি যে ইনো পেটে থাকা এসিডকে দ্রুত নিরপেক্ষ করে তাই আপনি যখন খালি পেটে ইনো খাবেন তখন আপনার পেটে অল্প এসিড থাকে যা ইনো দ্রুত নিরপেক্ষ করে ফেলে। ফলস্বরূপ আপনার শরীর এটা বুঝে উঠতে না পেরে অতিরিক্ত এসিড উৎপাদন শুরু করে দিতে পারে ফলে কিছু সময় পর আপনার বুক জ্বালাপোড়া আরও বেড়ে যেতে পারে। 
তাই ইনো খাওয়ার সঠিক সময় হচ্ছে খাবারের এক থেকে দুই ঘন্টা পরে বা বুক জ্বালাপোড়া বা গ্যাসের উপসর্গ শুরু হয়েছে এমন সময় অথবা যখন পেটে হালকা খাবার আছে এ সময় গুলো হচ্ছে ইনো খাওয়ার উত্তম সময়।

পেটের গ্যাস তৈরি হওয়ার কারন 

পেটে গ্যাস তৈরি হওয়ার কারণ অনেক রকমই হতে পারে। তবে সাধারণ কথায় যখন আমাদের হজম প্রক্রিয়া ঠিকঠাক ভাবে কাজ করে না তখন আমরা গ্যাসের দ্বারা আক্রান্ত হই। কিছু খাবার রয়েছে যেমন ভাজাপোড়া বা পুরাতন তেলে ভাজা কোন খাবার, চর্বি জাতীয় খাবার, দুধ বা ল্যাকটোজ জাতীয় খাবার ইত্যাদি। এ সকল খাবার থেকে গ্যাস বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক থাকে। আবার অনেক সময় খালি পেটে চা বা কফি খাওয়ার কারণেও গ্যাস বাড়তে পারে তবে কিছু কমন বিষয় রয়েছে যেগুলো গ্যাস হওয়ার কারণ হিসেবে মনে করা হয়। যেমন 
  • কোষ্ঠকাঠিন্যঃ কোষ্ঠকাঠিন্য কারণে পেটে গ্যাস হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকেন কারণ পেটে মল জমে থাকলে তা গ্যাসের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
  • অল্প সময়ের মধ্যে অতিরিক্ত খাওয়াঃ যখন তাড়াহুড়া করে খুব বেশি খেয়ে ফেলি তখন আমরা খাবারের সাথে বাতাসও গিলে ফেলি এই বাতাস পরে গ্যাসে রূপান্তরিত হয় যার কারণে পেটের মধ্যে গ্যাস সৃষ্টি হয়। 
  • গ্যাস জাতীয় খাবার খাওয়াঃ কিছু খাবার রয়েছে যেগুলোতে গ্যাস তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে যেমন দুধ ডাল, চিড়া, আলো, ফুলকপি ইত্যাদি খাবারে গ্যাস বৃদ্ধি পেতে পারে। 
  • ভাজাপোড়া বা চর্বি জাতীয় খাবার: কিছু খাবার রয়েছে যেগুলো পুরাতন তেলে ভাজা হয় বা ভাজা পড়া জাতীয় খাবার খাওয়ার পরে গ্যাস বৃদ্ধি পেতে পারে যেমন সিঙ্গারা, পুরি, পিয়াজু,সমচা ইত্যাদি এছাড়াও চর্বি জাতীয় খাবার যেগুলো হজম হতে অনেক সময় নেই। এ সকল খাবার থেকে গ্যাস তৈরি হওয়া সম্ভবনা বেশি থাকে।

পেটের গ্যাস কমানোর ঘরোয়া ৫টি উপায়

পেটের গ্যাস কমানোর জন্য এমন কিছু ঘরোয়া উপায় রয়েছে যেগুলো আপনি নিয়মিত ব্যবহার করলে কোন রকম ওষুধ ছাড়াই আপনি আপনার পেটের গ্যাস কে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন। এর ফলে দীর্ঘদিন ও দীর্ঘ সময় ধরে গ্যাসের ওষুধ খাওয়ার দরুন যে ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে তা থেকে আপনি বেঁচে যাবেন একই সাথে আর্থিকভাবেও বেঁচে যাবেন। তাই আর কথা না বাড়িয়ে চলুন জেনে নেওয়া যাক ঘরোয়া উপায়ে গ্যাস কমানোর কিছু সহজ পদ্ধতি। 
  1. শসাঃ শসাতে রয়েছে ফ্লেভানয়েড ও এন্টি ইনফ্লেমেটরি উপাদান যা আপনার পেটে গ্যাস সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা কে কমিয়ে দেয় দীর্ঘ সময় ধরে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। তাই গ্যাসকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য শসা হতে পারে আপনার জন্য একটি সর্বোত্তম মাধ্যম। 
  2. মৌরিঃ মৌরি আমরা কম বেশি সবাই চিনি। এক গ্লাস পানিতে কিছু পরিমাণ মৌরি ভিজিয়ে রেখে সেই পানি সকালে বাসি পেটে খান তাহলে গ্যাস থেকে মুক্তি পেতে পারেন।
  3. পুদিনা পাতার রসঃ পুদিনা পাতা হজমে সাহায্য করে এবং পুদিনা পাতার রস গ্যাস কে দ্রুত কমাতে সাহায্য করে তাই প্রতিদিন পুদিনা পাতার রস এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে মিশিয়ে খেলে আপনি গ্যাস থেকে মুক্তি পেতে পারেন।
  4. জিরাঃ এক গ্লাস পানিতে এক চা চামচ জিরা দিয়ে, পানি জিরা একসাথে সিদ্ধ করে সেই পানি খেলে গ্যাস দূর হবে এবং আপনার হজম শক্তি বৃদ্ধি পাবে।
  5. গরম পানি লেবু ও বিট লবণ: গ্যাস কমানোর জন্য এটি একটি পরীক্ষিত পদ্ধতি। এজন্য আপনাকে এক চিমটি বিট লবণ এবং অর্ধেক লেবু এক গ্লাস গরম পানি নিয়ে ভালোভাবে মিশে পান করতে হবে।

এখানে বিশেষ ভাবে উল্লেখ্য যে, Eno খাওয়ার অপকারিতা বিষয়ক আর্টিকেলটি শুধুমাত্র সাধারণ তথ্যর জন্য। এটি কোন ওষুধ বা চিকিৎসার অংশ নয়। স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। তথ্য ব্যবহারজনিত কোন ক্ষয়-ক্ষতির জন্য লেখক বা ওয়েবসাইট কোনভাবেই দায়ী নয়।

শেষকথাঃ Eno খাওয়ার অপকারিতা

প্রিয় পাঠক, Eno খাওয়ার অপকারিতা সম্পর্কিত এই পোস্টে আমি আপনাদের কাছে ইনো কেন খাবেন কিভাবে খাবেন ইনো খাওয়ার উপকারিতা অপকারিতা সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করার চেষ্টা করেছি। ইনো আপনাকে খুব দ্রুত স্বস্তি বা আরাম দিতে পারে কিন্তু কখনোই আপনার গ্যাস চিরতরে নির্মূল করতে পারবে না। 

তাই আপনি গ্যাস থেকে চিরতরে মুক্তি পাওয়ার জন্য কিছু প্রাকৃতিক উপায় রয়েছে যা অবলম্বন করুন এবং পাশাপাশি একজন ভালো ডাক্তারের পরামর্শ নিন। পাঠক আমার এই আর্টিকেলটি যদি আপনাদের ভালো লেগে থাকে তবে আপনার আত্মীয়-স্বজন বন্ধু-বান্ধব পরিচিতজনদের সাথে অবশ্যই শেয়ার করবেন এবং কোন ভুলভ্রান্তি পরিলক্ষিত হলে অবশ্যই তা কমেন্টসে জানাবেন।










এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ব্লগ টু বাজারের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

Md. Abu Saleh
Md. Abu Saleh
আমি একজন ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট আমি অনলাইন ইনকাম, ব্লগিং, SEO ও টেকনোলজি নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করি।