eno খাওয়ার অপকারিতা কি হতে পারে
Eno খাওয়ার অপকারিতা কি সত্যিই কি ইনো খেলে কোন ক্ষতি হতে পারে। মনের মধ্যে এমন অজানা প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে আপনি গুগলে সার্চ দিয়েছেন ইনো খাওয়ার অপকারিতা কি। তাই আজকের আমার এই আর্টিকেলটি ইনো সম্পর্কিত আপনার মনের ভিতরে যত অজানা প্রশ্ন রয়েছে তার উত্তর হিসেবে আপনার জন্য যথেষ্ট হবে।
![]() |
আমরা ভোজন রসিক বাঙালি আমরা মসলাদার খাবার পছন্দ করি আর এই পছন্দ থেকেই সহজে গ্যাস্ট্রিক বাঁধিয়ে বসি। তারপর আমরা বলতে থাকি কিছুই খেতে পারি না,বুক জ্বালাপোড়া করে, গ্যাস্টিক হয়,এর সমাধান কি? তখন আমরা খুব সহজ সমাধান হিসাবে ইনো খেয়ে থাকি। তাই আমি আপনাদেরকে জানাবো ইনো খাওয়ার নিয়ম এটি খেলে কি হয় এটি খালি পেটে খাওয়া যায় কিনা এবং এর অপকারিতা সম্পর্কে বর্ণনা করব।
পোস্ট সূচিপত্রঃ Eno খাওয়ার অপকারিতা
eno খাওয়ার অপকারিতা
Eno খাওয়ার অপকারিতা সত্যিই রয়েছে কি না এই প্রশ্নের উত্তরে বলবো যে ইনো, ডাক্তারের পরামর্শ মতে এবং নিয়ম মেনে সঠিক মাত্রায় বা ডোজে ইনো খেলে তেমন কোন অপকারিতা নেই বরং কিছু সুবিধা রয়েছে। তবে মনে রাখবেন যে , কোন কিছুরই অতিরিক্ত ভালো না তাই Eno অতিরিক্ত খাওয়া উচিত নয়। আমরা প্রত্যেকে জানি ইনোর কাজ হচ্ছে গ্যাস বা আসিডিটি কমানো। এটি এত দ্রুত কমায় যে,বলা হয়ে থাকে মাত্র ৬ সেকেন্ডের মধ্যে কমিয়ে দেয়।
কিন্তু যাদের ক্ষেত্রে এটি সেবন করা ঠিক হবে না তা একটু জেনে নেওয়া যাক।যে সকল ব্যাক্তির কিডনির সমস্যা রয়েছে বা লিভারের সমস্যা রয়েছে অথবা যাদের হার্টের সমস্যা রয়েছে তারা কখনোই এটি পান করবেন না। এমনকি যারা হাই ব্লাড প্রেসার ওষুধ খেয়ে থাকেন বা হাই ব্লাড প্রেসার রয়েছে তারা এগুলো খেতে পারবেন না এবং বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন রয়েছেন যারা গর্ভবতী মা রয়েছেন এবং বাচ্চাদেরকে দুধ পান করান তারা অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ মতে এটি খাবেন। যাদের কিডনি, লিভার ,হাই ব্লাড প্রেসার বা হার্টের সমস্যা রয়েছে তারা কেন এটি খাবেন না চলুন তা ব্যাখ্যা করা যাক।
- অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে পেট ফাঁপা সমস্যা হতে পারে এর ফলে ডায়রিয়াও হতে পারে। অতিরিক্ত গ্যাস তৈরি হওয়ার কারণে অনেকের অস্বস্তি বা বমি ভাব হতে পারে।
- ইনো দীর্ঘদিন বা বেশি পরিমাণে খেলে আপনি এর দ্বারা অভ্যস্ত হয়ে যেতে পারেন যার কারণে এটি বন্ধ করলে আবার অম্লতা বেড়ে যেতে পারে। তখন এটি তখন বন্ধ করা কঠিন হয়ে পড়বে।
- ইনোতে সোডিয়ামের পরিমাণ বেশি থাকে তাই বেশি পরিমাণে খেলে শরীরে সোডিয়াম জমে যেতে পারে তখন কিডনির উপরে চাপ পড়বে ফলে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির সম্ভাবনা বাড়তে পারে।
- বেশি পরিমাণে ইনো খেয়ে নিলে অতিরিক্ত সোডিয়াম গ্রহণ করা হতে পারে যার ফলে আপনার রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে তাই এটি এড়িয়ে চলা উচিত বিশেষ করে যাদের রক্তচাপ অর্থাৎ ব্লাড প্রেসার রয়েছে।
ইনো মাঝে মধ্যে বা প্রয়োজনে খাওয়া নিরাপদ কিন্তু প্রতিদিন নিয়ম করে খাওয়া ঠিক নয়। তবে যেহেতু এটি স্বাস্থ্যগত বিষয় তাই দীর্ঘ মেয়াদে এসিডিটির বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থাকলে ডাক্তার এর পরামর্শ মত ইনো খাওয়া উচিত হবে।
ইনো এর উপকারিতা
- দ্রুত সমাধানঃ বুক জ্বালাপোড়া বা এসিডিটি অথবা বদহজম থেকে ইনো আপনাকে মাত্র ৬ সেকেন্ডে মুক্তি দেবে। তাই এটি আপনাকে তাৎক্ষণিক বা খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে স্বস্তি বা আরাম এনে দিতে পারে।
- এসিডিটি থেকে মুক্তিঃ ইনোতে থাকা সোডিয়াম বাই কার্বনেট, সাইট্রিক এসিড ও সোডিয়াম কার্বনেট পেটে জমে থাকা অতিরিক্ত এসিডকে নিরপেক্ষ করে ফলে খুব দ্রুত অম্লতা ও জ্বালাপোড়া ভাব কমে ।
- পেট ফাঁপা কমায়ঃ ইনো খাওয়ার ফলে আপনার পেটে অতিরিক্ত গ্যাস খুব সহজেই বের হয়ে যায় ফলস্বরূপ আপনার পেট ফাঁপা বা পেট ফোলা ভাব কমে যায়।
- সহজ পদ্ধতিঃ এটি বাজারে সাধারণত ছোট ছোট প্যাকেট আকারে পাওয়া যায় যেগুলোতে সাধারণত ৫ গ্রাম ইনো থাকে। এগুলো বহন করা বা সাথে রাখা খুবই সহজ এবং খাওয়ার পদ্ধতিটিও খুব সহজ বিধায় এটি ব্যবহারযোগ্য তাকেও সহজ করে।
- অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ বা বেশি তেল মশলা জাতীয় খাবার খাওয়ার পর যদি বমি বমি ভাব বা অস্বস্তি বোধ করেন তবে এটি এক প্যাকেট খাওয়ার পর আপনাকে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে আরাম এনে দেবে।
ইনো খাওয়ার নিয়ম
- এটি খাওয়ার জন্য ১২ বছরের উপরে বয়স হতে হবে অর্থাৎ ১২ বছরের ঊর্ধে পুরুষ নারী উভয়েই এটি খেতে পারবেন।
- এটি আপনি ২৪ ঘন্টা পর পর অর্থাৎ প্রতিদিনই খেতে পারবেন না তবে যদি আপনার অতিরিক্ত এসিডিটি বা গ্যাসের সমস্যা থাকে তবে ২৪ ঘন্টা পর পর অথবা ২৪ ঘণ্টায় দুইবার খেতে পারেন কিন্তু তা অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী।
- আপনার যদি অতিরিক্ত গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা না থাকে তাহলে আপনি এটি ৭ দিন পর পর খেতে পারবেন।
- এটি ১৫০ মিলিগ্রাম পানিতে এক প্যাকেট মিশাবেন এবং মিশ্রণটি একসাথে পুরোটাই খেয়ে নেবেন। আপনি যদি মনে করেন যে, অল্প পরিমাণ পানিতে মিশাবেন তাহলে আপনি খুব একটা ভালো উপকার পাবেন না। তাই দ্রুত এবং ভালো ফলাফল পাওয়ার জন্য অবশ্যই সঠিক মাত্রায় মেশাতে হবে।
Eno খেলে কি হয়
ইনো এর দাম
Eno কি খালি পেটে খাওয়া যায়
- আমরা জানি ইনো খেলে পেটে কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্যাস তৈরি হয়। তো এই গ্যাস খালি পেটে থাকার ফলে পেটের দেয়ালে সরাসরি চাপ সৃষ্টি করে ফলস্বরূপ আপনি অস্বস্তি ঢেকুর বা পেট ব্যথার মতো সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন।
- খালি পেটে খাবার ফলে আপনার বমি বা অম্বল বেড়ে যেতে পারে। এছাড়াও যাদের গ্যাস বা আলসার রয়েছে তাদের খালি পেটে ইনো না খাওয়া উচিত কারণ এর ফলে বমি বা জ্বালাপোড়া আরও বাড়তে পারে।
- আমরা পূর্বেই জেনেছি যে ইনো পেটে থাকা এসিডকে দ্রুত নিরপেক্ষ করে তাই আপনি যখন খালি পেটে ইনো খাবেন তখন আপনার পেটে অল্প এসিড থাকে যা ইনো দ্রুত নিরপেক্ষ করে ফেলে। ফলস্বরূপ আপনার শরীর এটা বুঝে উঠতে না পেরে অতিরিক্ত এসিড উৎপাদন শুরু করে দিতে পারে ফলে কিছু সময় পর আপনার বুক জ্বালাপোড়া আরও বেড়ে যেতে পারে।
পেটের গ্যাস তৈরি হওয়ার কারন
- কোষ্ঠকাঠিন্যঃ কোষ্ঠকাঠিন্য কারণে পেটে গ্যাস হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকেন কারণ পেটে মল জমে থাকলে তা গ্যাসের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
- অল্প সময়ের মধ্যে অতিরিক্ত খাওয়াঃ যখন তাড়াহুড়া করে খুব বেশি খেয়ে ফেলি তখন আমরা খাবারের সাথে বাতাসও গিলে ফেলি এই বাতাস পরে গ্যাসে রূপান্তরিত হয় যার কারণে পেটের মধ্যে গ্যাস সৃষ্টি হয়।
- গ্যাস জাতীয় খাবার খাওয়াঃ কিছু খাবার রয়েছে যেগুলোতে গ্যাস তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে যেমন দুধ ডাল, চিড়া, আলো, ফুলকপি ইত্যাদি খাবারে গ্যাস বৃদ্ধি পেতে পারে।
- ভাজাপোড়া বা চর্বি জাতীয় খাবার: কিছু খাবার রয়েছে যেগুলো পুরাতন তেলে ভাজা হয় বা ভাজা পড়া জাতীয় খাবার খাওয়ার পরে গ্যাস বৃদ্ধি পেতে পারে যেমন সিঙ্গারা, পুরি, পিয়াজু,সমচা ইত্যাদি এছাড়াও চর্বি জাতীয় খাবার যেগুলো হজম হতে অনেক সময় নেই। এ সকল খাবার থেকে গ্যাস তৈরি হওয়া সম্ভবনা বেশি থাকে।
পেটের গ্যাস কমানোর ঘরোয়া ৫টি উপায়
- শসাঃ শসাতে রয়েছে ফ্লেভানয়েড ও এন্টি ইনফ্লেমেটরি উপাদান যা আপনার পেটে গ্যাস সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা কে কমিয়ে দেয় দীর্ঘ সময় ধরে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। তাই গ্যাসকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য শসা হতে পারে আপনার জন্য একটি সর্বোত্তম মাধ্যম।
- মৌরিঃ মৌরি আমরা কম বেশি সবাই চিনি। এক গ্লাস পানিতে কিছু পরিমাণ মৌরি ভিজিয়ে রেখে সেই পানি সকালে বাসি পেটে খান তাহলে গ্যাস থেকে মুক্তি পেতে পারেন।
- পুদিনা পাতার রসঃ পুদিনা পাতা হজমে সাহায্য করে এবং পুদিনা পাতার রস গ্যাস কে দ্রুত কমাতে সাহায্য করে তাই প্রতিদিন পুদিনা পাতার রস এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে মিশিয়ে খেলে আপনি গ্যাস থেকে মুক্তি পেতে পারেন।
- জিরাঃ এক গ্লাস পানিতে এক চা চামচ জিরা দিয়ে, পানি জিরা একসাথে সিদ্ধ করে সেই পানি খেলে গ্যাস দূর হবে এবং আপনার হজম শক্তি বৃদ্ধি পাবে।
- গরম পানি লেবু ও বিট লবণ: গ্যাস কমানোর জন্য এটি একটি পরীক্ষিত পদ্ধতি। এজন্য আপনাকে এক চিমটি বিট লবণ এবং অর্ধেক লেবু এক গ্লাস গরম পানি নিয়ে ভালোভাবে মিশে পান করতে হবে।


ব্লগ টু বাজারের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url