মেয়েদের জন্য অশ্বগন্ধার উপকারিতা ও পুষ্টি উপাদান
মেয়েদের জন্য অশ্বগন্ধার উপকারিতা কি কি রয়েছে তা লিখে আপনারা গুগলে সার্চ দিয়ে থাকেন। তাই আজকের এই আর্টিকেলটি টি আপনাদের জন্য সাজিয়েছি অশ্বগন্ধার উপকারিতা নিয়ে। এই অশ্বগন্ধা খেলে আসলেই কি আপনার টেস্টোস্টেরন হরমোন বৃদ্ধি পায়? আপনার মাসল বা পেশী বৃদ্ধি করতে কিভাবে সাহায্য করে ? আবার এটি কিভাবে আপনার ফ্যাট কে কমাতে করতে সাহায্য করে অর্থাৎ এর কি কি সুবিধা রয়েছে সবকিছুই এখানে আলোচনা করব।
আসল কথা হচ্ছে এটি কখন খাবেন কিভাবে খাবেন এবং কখন থেকে আপনারা সুবিধাগুলো পাবেন আবার কিসের সাথে মিশিয়ে খেলে বেশি উপকার পাবেন কত বছর বয়স হলে আপনারা এই অশ্বগন্ধা খেতে পারবেন তা আপনাদের সবকিছুই জানাবো।
পোস্ট সূচিপত্রঃ মেয়েদের জন্য অশ্বগন্ধার উপকারিতা
- মেয়েদের জন্য অশ্বগন্ধার উপকারিতা
- লম্বা হওয়ার জন্য অশ্বগন্ধা খাওয়ার নিয়ম
- অশ্বগন্ধা যে সকল রোগের মহাঔষধ
- পতঞ্জলি অশ্বগন্ধা ক্যাপসুল এর কাজ কি
- পুরুষ বন্ধ্যাত্ব ও যৌন সমস্যায় অশ্বগন্ধার ব্যবহার
- ছেলেদের জন্য অশ্বগন্ধা খাওয়ার নিয়ম
- অশ্বগন্ধা তেলের উপকারিতা ও তৈরির উপায়
- অশ্বগন্ধার গুড়ার উপকারিতা
- অশ্বগন্ধার পুষ্টি উপাদান
- কেন খাবেন অশ্বগন্ধা
- অশ্বগন্ধার পার্শপ্রতিক্রিয়া বা ক্ষতিকর দিক
- শেষকথাঃ মেয়েদের জন্য অশ্বগন্ধার উপকারিতা
মেয়েদের জন্য অশ্বগন্ধার উপকারিতা
মেয়েদের জন্য অশ্বগন্ধার উপকারিতা বলতে গেলে তা বলে শেষ করা যাবে না এতই উপকারী
উদ্ভিদ এটি। সত্যিই সৃষ্টিকর্তার এক অনন্য নিয়ামত অশ্বগন্ধা যা শুধুমাত্র
মেয়েদের জন্যই নয় সমস্ত সৃষ্টি কূলের জন্যই উপকারী একটি উদ্ভিদ। আয়ুর্বেদিক
শাস্ত্রমতে অশ্বগন্ধা সেবনের ফলে শরীর ঘোড়ার মত শক্তি এবং কার্যক্ষমতা লাভ করে এই
কারণে এই গাছের নাম হয়েছে অশ্বগন্ধা। অশ্ব শব্দের অর্থ হলো ঘোড়া আর গন্ধ শব্দের
অর্থ হচ্ছে সুগন্ধি এই গাছের জ্বর বা শিকড়ে ঘোড়ার গন্ধের সাথে মিল রয়েছে
তাই এর নাম হয়েছে অশ্বগন্ধা।
অশ্বগন্ধা মূলত মেয়ে বা মহিলাদের জন্য খুবই উপকারী। এই অশ্বগন্ধা গর্ভবতী
অবস্থায় ও স্তন্যদানকালীন সময়ে ব্যবহার করলেন অনেক উপকার পাওয়া যায়।
এটি মেয়েদের শারীরিক ও মানসিক শক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে অশ্বগন্ধা শরীরের
হরমোন ব্যালেন্স বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং নারীদের প্রজনন স্বাস্থ্যের
উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এছাড়াও মেয়েদের স্কিন কেয়ার পাত্রকে যত্নের ক্ষেত্রে অশ্বগন্ধা হচ্ছে দারুন
উপকারী একটি উদ্ভিদ। এ গাছের যে রস রয়েছে তা অত্যন্ত শক্তিবর্ধক ও বলবর্ধক।
মেয়েদের মাসিকের সময় যে তীব্র পেটে ব্যথা করে অশ্বগন্ধা এটি দূর করতে সাহায্য
করে। নিচে আমরা অশ্বগন্ধার যে উপকারীতা রয়েছে সে ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য জানবো।
লম্বা হওয়ার জন্য অশ্বগন্ধা খাওয়ার নিয়ম
লম্বা হওয়ার জন্য অশ্বগন্ধা খাওয়ার নিয়ম বর্ণনা করছি এবং একই সাথে বলি যে,
দৈহিক উচ্চতা বৃদ্ধি যদি আপনার স্বপ্ন হয়ে থাকে তবে আপনার সেই স্বপ্নকে
বাস্তবে পরিণত করতে পারে এই অশ্বগন্ধা। অশ্বগন্ধাতে রয়েছে একাধিক খনিজ উপাদান
যা আপনার হাড়ের গঠনে সাহায্য করে ও একই সাথে হাড়ের ঘনত্ব বৃদ্ধি করে। যার ফলে
উচ্চতা বাড়াতে অশ্বগন্ধা মহা ওষুধের মত কাজ করতে পারে।
আপনি যদি প্রতিদিন রাতে এক গ্লাস গরম গরুর দুধের সাথে ২ চামচ অশ্বগন্ধা পাউডার
মিশিয়ে খেতে পারেন তবে দারুন একটি ফলাফল আপনি পেতে পারেন। তবে আপনাকে অবশ্যই এই
মিশ্রণ একটানা ৩০ থেকে ৪০ দিন খেতে হবে। এই মিশ্রনটি রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে
খেলে আরো বেশি উপকার পাওয়া যাবে।
এছাড়া আপনি দুই কাপ পানিতে এক চা চামচ অশ্বগন্ধা গুড়ো দিয়ে ফুটিয়ে মিশ্রণটি
অর্ধেক পরিমাণ হলে চুলা থেকে নামিয়ে নিন এরপর একটি ঠান্ডা হলে দুধ অথবা মধু
মিশিয়ে পান করতে পারেন। তবে দিনে একবারের বেশি পান করবেন না।
এছাড়াও আরেকটি নিয়মে আপনি অশ্বগন্ধা খেতে পারেন সেটি হচ্ছে প্রতিদিন ১/২ থেকে
১/৪ চা চামচ অশ্বগন্ধা গ্রুপে মধুর সাথে মিশে পান করতে পারেন অথবা এক গ্লাস গরম
দুধের সাথেও মিশে পান করতে পারেন। তবে অবশ্যই একজন স্বাস্থ্যে বিশেষজ্ঞের
পরামর্শ নিয়ে এটি পান করা ভালো।
অশ্বগন্ধা যে সকল রোগের মহাঔষধ
অশ্বগন্ধার যে সকল রোগের মহাঔষধ হিসাবে কাজ করে তার মধ্যে প্রধান রোগ
হচ্ছে অনিদ্রা যাকে ইংরেজিতে ইনসমনিয়া বলা হয়। এছাড়াও এটি মহাঔষধ হিসেবে কাজ
করে স্নায়ুবিক দুর্বলতা বা শরীর দুর্বলতার ক্ষেত্রে অশ্বগন্ধার পাতা কে দুধ বা
ঘিয়ের সাথে ফুটিয়ে খেলে শরীরে দুর্বলতা সেরে উঠতে পারে।এছাড়া আরও যে সকল
রোগের সাথে কাজ করেন তার মধ্যে রয়েছে পা ফুলে যাওয়া ফোঁড়ার ক্ষেত্রে
শ্বাসকষ্টে। এছাড়াও অশ্বগন্ধা হাঁপানি এলার্জিকে কিছুটা প্রশমিত করতে পারে।
নিচে এগুলোর বিস্তারিত উল্লেখ করা হলো।
- কোয়াশিয়রকর রোগ: এ রোগ টি সাধারণত শিশুকালে হয়ে থাকে, এর মূল কারণ হচ্ছে পুষ্টি হীনতা। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য ওষুধ এবং পুষ্টিকর খাবার খেয়ে স্বাস্থ্য ঠিকই ভালো হয় কিন্তু যখন সে বিবাহিত হয় তখন ওই দুর্বলতা তার জন্য বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তাই এই ক্ষেত্রে যদি অশ্বগন্ধা জ্বরের বা মূল চূর্ণ করে দেড় গ্রাম মাত্রা প্রতিদিন সকালে ও বিকেলে আধ কাপ দুধের সাথে মিশে খাওয়ানো হয় তবে ওই শুক্রের অপুষ্টি সমস্যা চলে যাবে।
- ঘুমের সমস্যা: আপনার যদি ঘুমের সমস্যা থেকে থাকে তবে অশ্বগন্ধা আপনাকে একটি প্রশান্তিময় ঘুম এনে দিতে পারে। অশ্বগন্ধা ঘুম জনিত সমস্যা দূর করার জন্য খুবই কার্যকরী। এর জন্য অশ্বগন্ধা গুড়া কে চিনির সাথে মিশিয়ে খেলে ঘুম জনিত সমস্যা দূর হবে।
- ফোঁড়া দুর করতে: ফোঁড়া হয়নি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া খুবই কঠিন। আমাদের মাঝে এমন অনেকেই আছেন যারা এই ফোঁড়াতে আক্রান্ত হয়ে থাকে। এ ফোঁড়াকে দূর করার জন্য অশ্বগন্ধার মূল চূর্ণ এক থেকে দেড় গ্রাম পরিমাণ নিয়ে অর্ধেক কাপ গরম দুধের সাথে সকালে ও বিকেলে খেলে আর ফোঁড়া হবে না এবং ফোঁড়া থেকে মুক্তি পাওয়াও যেতে পারে।
- শ্বেতী রোগে: শ্বেত রোগ কতটা গভীরে হয়েছে তা বুঝার উপায় হচ্ছে দাগগুলি দুধের মত সাদা হয়ে গেছে কিনা। এই শ্বেতী রোগকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য অশ্বগন্ধার মূলের গুড়া দেড় থেকে দুই গ্রাম নিয়ে সকালে ও বিকালে দুবেলা দুধের সাথে মিশিয়ে খেতে হবে। তবে উল্লেখ্য যে, দাগগুলো সাদা দুধের মত হয়ে গেলে অথবা তিন বছর সময়কাল পার হয়ে গেলে সেটা সেরে যাওয়া অর্থাৎ দাগ মিশে না যেতেও পারে।
- বুক ধড়ফড় জনিত সমস্যা: এ ধরনের সমস্যার দূর করার জন্য অশ্বগন্ধা ভালো উপকারে আসতে পারে। এ সকল ক্ষেত্রেও অন্ধগন্ধা চূর্ণ দুধের সাথে দুইবেলা খেতে পারলে ভালো ফলাফল হতে পারেন।
পতঞ্জলি অশ্বগন্ধা ক্যাপসুল এর কাজ কি
পতঞ্জলি অশ্বগন্ধা ক্যাপসুল এর কাজ কি বা এটি কিভাবে কাজ করে তা এখন আলোচনা
করবো। পতঞ্জলি অশ্বগন্ধা ক্যাপসুল এটি একটি শক্তিশালী ভেষজ টনিক যা আপনার
মানসিক চাপ কমাতে এবং ঘুমের উন্নতি করতে সাহায্য করে এছাড়াও শারীরিক ও মানসিক
শক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। এটি একটি বহুকাল ধরে ব্যবহৃত আয়ুর্বেদিক ভেষজ
উদ্ভিদ যা যা আপনার লাভ সৃষ্টিকে শান্ত করে এবং ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে।
- ঘুম ভালো হয়ঃ যখন আপনারা পতঞ্জলি অশ্বগন্ধা ক্যাপসুল খাওয়া শুরু করবেন তখন একটি বিষয় খেয়াল করে দেখবেন যে দুই তিন দিন পর থেকে আপনার ঘুমটা খুব ভালো হচ্ছে।
- টেস্টোস্টেরন হরমোন বৃদ্ধি পায়ঃ যখন আমরা এটি খাওয়া শুরু করি তখন আমাদের পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম হয় আর এর ফলে আমাদের টেস্টোস্টেরন হরমোনটা বৃদ্ধি পায়। আর এর ফলেই আপনার মাসল বা পেশী বৃদ্ধি পায় এবং একই সাথে ফ্যাট লস হতে থাকে।
- ছোট খাট রোগ থেকে মুক্তিঃ পতঞ্জলি অশ্বগন্ধা ক্যাপসুল খেলে আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেকটাই বৃদ্ধি পায়। আমাদের যেমন ছোটখাটো অসুখ, সর্দি, কাশি, ঠান্ডা বা জ্বর লেগেই থাকে তাই আপনি যদি পতঞ্জলি অশ্বগন্ধা ক্যাপসুল খান তাহলে এইসব ছোট খাটো অসুখ থেকে দূরে থাকবেন।
- টেনশন কমায়ঃ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে জিনিসটা হচ্ছে আমরা সকলে কমবেশি দুশ্চিন্তা বা টেনশন করে থাকি। এ টেনশন এর কারণে আমাদের যে হরমোন রয়েছে তা ব্যালেন্স হারিয়ে ফেলে অর্থাৎ ভারসাম্য রক্ষা করতে পারে না। সেই দুশ্চিন্তা বা টেনশন কে কমানোর জন্য এই অশ্বগন্ধা ক্যাপসুল অনেক উপকারী।
প্রতিদিন এক থেকে দুইবার একটি করে ক্যাপসুল হালকা গরম পানি অথবা হালকা গরম
দুধের সাথে খেতে হবে। এ ট্যাবলেট আপনারা দুধ অথবা পানির সাথে মিশিয়ে খাবেন
রাতে খাবেন তাহলে আপনার খুব দ্রুত ভালো ফলাফল পাবেন।
পুরুষ বন্ধ্যাত্ব ও যৌন সমস্যায় অশ্বগন্ধার ব্যবহার
অশ্বগন্ধা পুরুষ বন্ধ্যাত্ব ও যৌন সমস্যা কি দূর করতে পারে ?
অশ্বগন্ধা পুরুষ বন্ধ্যাত্ব ও যৌন সমস্যা দূর করার জন্য একটি খুবই
সহজলভ্য ওষুধ। কিন্তু সত্যি কি এটি শতভাগ কাজে দেয় চলুন একটু জানার চেষ্টা
করি। আমরা জানি পুরুষ বন্ধ্যাত্বের কারণগুলোর একটি হচ্ছে চাপ, উদ্বেগ এবং
শারীরিক মানসিক এবং আবেগজনিত চাপ।
গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, এই অশ্বগন্ধা আমাদের সব রকমের চাপ উদ্বেগ এবং
শারীরিক মানসিক ও আবেগজনিত চাপকে কমিয়ে দেয়। সারাদিনের কাজের চাপ ও
অনন্যা ঝামেলায় উদ্বেগ, স্ট্রেস ও শারীরিক মানসিক আবেগ জনিত চাপকে বাড়িয়ে
দেয় যার কারণে আমাদের শরীরের কর্টিসল হরমোন বেড়ে যায়। আর এই
কর্টিসল হরমোনের পুরুষ শুক্রাণুর ওপর একটি নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে।
পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে অশ্বগন্ধা ব্যবহার ফলে শরীরে কর্টিসল হরমোনের
মাত্রা কমে যায়। চাপ বা উদ্বেগ কমিয়ে আমাদেরকে ঘুমাতে সাহায্য করে। যার
ফলে বলা হয় যে, অশ্বগন্ধা পুরুষ বন্ধ্যাত্ব অনেকটাই কমিয়ে দেয়।
বৈজ্ঞানিক তথ্যে মতে যদি আমরা সঠিক পরিমাণ এবং সঠিক সময়ে অশ্বগন্ধা
ব্যবহার করতে পারি তাহলে শুক্রাণুর গুণমান ভালো হয় শুক্রানুর সংখ্যা কে
বাড়িয়ে দেয় ও শুক্রাণুতে চলার যে ক্ষমতা রয়েছে তাও বৃদ্ধি করে দিতে
পারে। এছাড়াও অশ্বগন্ধা ব্যবহার করলে টেস্টোস্টেরন হরমোন বেড়ে যায়
ফলে পুরুষদের যৌন সমস্যা দূর হয়।
ছেলেদের জন্য অশ্বগন্ধা খাওয়ার নিয়ম
অশ্বগন্ধা বাজারে কয়েক রকমভাবে পাওয়া যায় যেমন পাউডার আকারে, ট্যাবলেট বা
ক্যাপসুল আকারেও পাওয়া যায়। ক্যাপসুল গুলোতে প্রায় ২৫০ থেকে ১৫০০
মিলিগ্রাম পর্যন্ত অশ্বগন্ধা থাকে। তবে সবচেয়ে ভালো ফলাফল পাওয়ার জন্য
দুধ বা মধুর সাথে মিশিয়ে পান করুন। মাত্রা নির্ধারণ করতে একজন ডাক্তারের
সাথে পরামর্শ করা জরুরী। এখানে ছেলেদের অশ্বগন্ধা ব্যবহারের কিছু সাধারণ
উপায় বর্ণনা করা হলো।
- ট্যাবলেট বা ক্যাপসুলঃ একটি করে ট্যাবলেট বা ক্যাপসুল দিনে দুইবার গরম দুধ বা পানির সাথে খাবার পরে খাবেন অথবা ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে খাবেন।
- অশ্বগন্ধা মিল্কশেক বানিয়েঃ চার টেবিল চামচ অশ্বগন্ধা গোলকের এক কাপ খাটে ঘি নিয়ে একসাথে ভাজুন এর সাথে এক থেকে দুই চামচ চা চামচের মধু যোগ করুন। এরপর এই মিশ্রণের এক চা চামচ পরিমাণ মিশ্রণ নিয়ে এক গ্লাস ঠান্ডা দুধের সাথে মিশে পান করুন।
- অশ্বগন্ধা পাউডারের গুঁড়োঃ এটি দুধ বা মধুর সাথে ১/৪-১/২ চা চামচ মিশেয়ে পান করুন।
- অশ্বগন্ধা চাঃ দুই কাপ সমপরিমাণ পানির সাথে এক চা চামচ অশ্বগন্ধা গুড়া মিশে নীল এরপর এটিকে পানিতে ফুটাতে শুরু করুন এটি যখন অর্ধেক পরিমাণে হয়ে আসবে তখন এর সাথে দুধ বা মধু যোগ করে দিনে একবার পান করুন।
- অশ্বগন্ধা লাড্ডূ আকারেঃ অশ্বগন্ধা লাড্ডু তৈরি করার জন্য প্রথমে দুই টেবিল চামচ অশ্বগন্ধা পাউডারের সাথে এক টেবিল চামচ পরিমাণ গুড় মিশিয়ে নিন। এরপর মিশ্রণটিকে ছোট ছোট লাড্ডুর আকার দিন। স্বাদ বৃদ্ধির জন্য এর সাথে এক চিমটি লবণ ও মরিচ যোগ করতে পারেন।
আরো পড়ুনঃ প্রতি সপ্তাহে 4000 টাকা পর্যন্ত আয় করুন
অশ্বগন্ধা তেলের উপকারিতা ও তৈরির উপায়
অশ্বগন্ধা তেলের কি উপকারিতা রয়েছে এবং কিভাবে তৈরী করবেন তার
বিস্তারিত বর্ণনা দিচ্ছি। চুলের অনেক রকম সমস্যায় আশ্চর্য রকমের
সুবিধা মিলতে পারে এ অশ্বগন্ধার তেল হতে। অকালে চুল পেকে যাওয়া বা
চুল সাদা হয়ে যাওয়া, চুল পড়া, খুশকি এইসব নানাবিধ সমস্যায় চুলের
একেবারে দফারফা অবস্থা। কিন্তু আপনি এই সকল সমস্যার সমাধান পেতে
পারেন অশ্বগন্ধার তেলের সাহায্যে।
কিভাবে তা সঠিক প্রয়োগ করে সমস্যার সমাধান করবেন তার বিস্তারিত
উল্লেখ করছি। প্রথমে আপনাকে অশ্বগন্ধার তেল বানাতে হবে আর এই
অশ্বগন্ধা তেল তৈরির জন্য অশ্বগন্ধার শিকড়ের গুড়াকে যেকোনো নারকেল
তেলের সাথে মিশিয়ে নিতে হবে। এই জন্য আপনি ১ থেকে ২ টেবিল চামচ
অশ্বগন্ধার শিকড়ের গুড়া এবং এক কাপ পরিমাণ নারকেল তেল নিন। এখন
প্রথমে নারকেল তেলকে হালকা গরম করে নিন এবং এর সাথে অশ্বগন্ধার
গুড়াকে যোগ করুন।
এরপর মিশ্রণটি ঠান্ডা হয়ে গেলে পরিষ্কার কাপড় দিয়ে ছেঁকে একটি
পরিষ্কার কাচের বোতলে সংরক্ষণ করুন। এরপর এটি চুলের গোড়ায় আলতো করে
মেসেজ করুন এবং এক থেকে দুই ঘন্টা পর হালকা শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে
ফেলুন। চুল পড়া বন্ধ করতে এবং মজবুত করতে এটি একটি ম্যাজিক এর মত
কাজ করবে। এই অশ্বগন্ধা মিশ্রিত তেল নিয়মিত ব্যবহার ফলে আপনার চুল
পড়া কমাবে ,খুশকি কমাবে এবং অকালে চুল ঝরেপড়া রোধ করবে।
অশ্বগন্ধার গুড়ার উপকারিতা
অশ্বগন্ধা পাউডারের অনেক রকম উপকারিতা রয়েছে তবে অশ্বগন্ধা পাউডার ব্যবহার
আগে অবশ্যই আপনাকে নিশ্চিত হতে হবে যে এটি শতভাগ পরিশোধিত তো কিনা।
অশ্বগন্ধা পাউডার কে আপনি বিভিন্নভাবে সেবন করতে পারেন। যেমন এটিকে দুধের
সাথে মিশে খেতে পারেন অথবা মধুর সাথে মিশিয়ে খেতে পারেন এছাড়াও আপনি পানির
সাথেও মিশে খেতে পারেন।
সাধারণত প্রতিদিন ৩ থেকে ৫ গ্রাম অশ্বগন্ধা পাউডার সেবন করতে পারেন এটি
একটি সাধারণ মাত্রা বা ডোজ হিসাবে বিবেচনা করা হয় তবে যদি আপনার
দীর্ঘমেয়াদী কোন স্বাস্থ্য সমস্যা থেকে থাকে তবে অবশ্যই একজন ভাল
ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।অশ্বগন্ধা পাউডার যে সকল উপকারিতা পাওয়া
যায় সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে এটি আপনার উদ্বেগকে কমিয়ে দেয়।
আপনার যৌনস্বাস্থ্যকে উন্নত করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, শক্তি
এবং কর্ম ক্ষমতাকে বাড়িয়ে দেই। নিয়মিত অশ্বগন্ধা পাউডার ব্যবহার করার
কারণে আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় যার ফলে শরীরে বিভিন্ন রকম
সংক্রমণ থেকে আপনি নিজেকে রক্ষা করতে পারেন। এছাড়া অশ্বগন্ধা পাউডার
ব্যবহারকারী ব্যক্তিদের ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তের শর্করা মাত্রা
নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। অশ্বগন্ধা পাউডার ব্যবহার করার ফলে শুক্রাণুর
গুণমান উন্নত করে ফলে পুরুষদের প্রজনন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
অশ্বগন্ধার পুষ্টি উপাদান
প্রতি ১০০ গ্রাম শুকনো অশ্বগন্ধায় যে পরিমাণ পুষ্টি রয়েছে তা উল্লেখ করা
হলো।
- এটিতে ক্যালরি রয়েছে ২৫০ থেকে ২৮০ কিলো ক্যালরি যা আপনাকে শক্তি সরবরাহ করে।
- প্রতি ১০০ গ্রাম অশ্বগন্ধায় কার্বোহাইড্রেট রয়েছে ৪৫ থেকে ৫০ গ্রাম করে। যা আপনার দেহের মূল শক্তি হিসাবে কাজ করে।
- এটিতে প্রোটিন রয়েছে ৩ থেকে ৪ গ্রাম যা আপনার পেশি গঠনের সহায়তা করে।
- আঁশ রয়েছে ৩০ থেকে ৩৫ গ্রাম যা আপনার হজমে সাহায্য করে।
- ক্যালসিয়াম রয়েছে ২০-২৫ মিলিগ্রাম যা হাড় ও দাঁতের গঠনে সহায়তা করে।
- আয়রন রয়েছে ৩ থেকে ৪ মিলিগ্রাম এটি রক্তে হিমোগ্লোবিন তৈরিতে সাহায্য করে।
- পটাশিয়াম রয়েছে ৪০০ থেকে ৪৫০ মিলিগ্রাম যা স্নায়ু ও পেশীর কার্যক্রমকে সহায়তা করে।
- সোডিয়াম রয়েছে ২০ থেকে ২৫ মিলিগ্রাম যা ইলেকট্রোলাইট ব্যালেন্স কে রক্ষা করেন।
- ভিটামিন সি রয়েছে ৩ থেকে ৫ মিলিগ্রাম এটি এন্টি অক্সিডেন্ট হিসাবে কাজ করে থাকে।
- চর্বি রয়েছে ০.৩ থেকে ০.৫ গ্রাম যা কোষ গঠন ও হরমোন উৎপাদনে সহায়তা করে।
এছাড়াও এতে রয়েছে রাসায়নিক যৌগ হিসাবে উইথানোলাইডস যা ব্যাথা নাশক
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ইউনিয়ন সিস্টেমকে উন্নত করে। Saponins এটি আপনার
লিভারের কার্যক্রমকে উন্নত করে। এছাড়া এতে রয়েছে আলকালোইডস আপনার
স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত রাখে উদ্বেগ এবং মানসিক চাপকে কমায়।
আরো পড়ুনঃ ১৫ দিনে ৫ কেজি ওজন কমানোর উপায়
কেন খাবেন অশ্বগন্ধা
অশ্বগন্ধা ছেলে-মেয়ে সকলের ক্ষেত্রে সমান উপকারী একটি ভেষজ উপাদান।
অশ্বগন্ধা হচ্ছে প্রাচীন আয়ুর্বেদ শাস্ত্রের নয়নমনি যার সুবিধা ও উপকারিতার
কথা বলে শেষ করা যাবে না। এটি একটি ঐতিহ্যগত ঔষধ যা শতাব্দীর পর
শতাব্দী ধরে ব্যবহার হয়ে আসছে অশ্বগন্ধা শুকনো গাছের গুড়ো। আপনি কেন
অশ্বগন্ধা খাবেন তার বেশ কয়েকটি কারণ এখানে উল্লেখ করছি।
- অশ্বগন্ধা মহিলাদের জন্য হরমোনের ব্যালেন্সকে অর্থাৎ ভারসাম্যকে বজায় রাখতে সাহায্য করে।
- অশ্বগন্ধা মহিলাদের পিরিয়ড সংক্রান্ত সমস্যা দূর করতে এবং থাইরয়েড হরমোনকে নিয়ন্ত্রণ রাখতে বিশেষভাবে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
- অশ্বগন্ধা মেয়েদের পিরিয়ডের সময় যে ব্যথা বা অস্বাভাবিক রক্তস্রাব দেখা যায় তা দ্রুত কমাতে সাহায্য করে।
- নিয়মিত অশ্বগন্ধা ব্যবহার কারণে হৃদযন্ত্র ভালো থাকে এটি আপনার শরীরের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল এবং ট্রাই গ্লিসারাইডের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে যার ফলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ এবং হার্ট অ্যাটাক স্ট্রকের সম্ভাবনা কে কমিয়ে দেয়।
- অশ্বগন্ধা খাওয়ার ফলে আপনার মস্তিষ্কের কার্যকারিতা অনেকটাই বৃদ্ধি পায় কারণ অশ্বগন্ধা আপনার মস্তিষ্কের শক্তিশালী করে ফলে এটি স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে।
- সঠিক মাত্রার অশ্বগন্ধা ব্যবহার করে ক্যান্সার প্রতিরোধ করাও সম্ভব হতে পারে। কেননা অশ্বগন্ধায় থাকা উইথানোলাইডস দেহের কোষগুলোর ডিএনএ এর ক্ষতিকে প্রতিরোধ করে ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়।
- অশ্বগন্ধায় এমন কিছু যৌগ রয়েছে যা আপনার শরীরের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।
- অশ্বগন্ধা সে সকল লোকেরা নিয়মিত সেবন করে তারা প্রশান্তি এবং উচ্চতর মানসিক শান্তি অনুভব করে।
অশ্বগন্ধার পার্শপ্রতিক্রিয়া বা ক্ষতিকর দিক
অশ্বগন্ধা ব্যবহারের কিছু ক্ষতিকর দিক বা পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা যায়
তা আপনাদের সামনে বর্ণনা করছি।
- অশ্বগন্ধা যদি ভালোভাবে পরিশোধন করা না হয় তবে এক্ষেত্রে কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে যেমন: পেট খারাপ, মাথা ব্যথা, মাথা ঘোরা, চটকা ইত্যাদি।
- অশ্বগন্ধা কেউ যদি অতিরিক্ত খেয়ে ফেলে তবে তার ডায়রিয়া বা মলত্যাগের সমস্যা হতে পারে তবে পেটে সমস্যা থাকলে অশ্বগন্ধা খাওয়া কমানো উচিত।
- যারা থাইরয়েড সমস্যায় আক্রান্ত তাদের অশ্বগন্ধা সেবন না করাই ভালো।
- যাদের অ্যালার্জিজনিত সমস্যা রয়েছে তাদের কারো কারো ক্ষেত্রে অশ্বগন্ধা ব্যবহার করে কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে যেমন: চুলকানি, ত্বকের র্যাশ, শ্বাস প্রশ্বাস জনিত সমস্যা হতে পারে।
- যারা গর্ভবতী অথবা স্তন্যদান করছেন তাদের অশ্বগন্ধা ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা উচিত। কেননা এটি গর্ভবতীদের উপর খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে এবং স্তন্যদানকারী মায়েদের জন্য নিরাপদ নাও হতে পারে।
এখানে বিশেষ ভাবে উল্লেখ্য যে, মেয়েদের জন্য অশ্বগন্ধার উপকারিতা সম্পর্কিত আর্টিকেলটি শুধুমাত্র সাধারণ তথ্যর জন্য। এটি কোন ওষুধ বা চিকিৎসার অংশ নয়। স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্বে অবশ্যই একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। তথ্য ব্যবহারজনিত কোন ক্ষতির জন্য লেখক বা ওয়েবসাইট কোনভাবেই দায়ী নয়।
শেষকথাঃ মেয়েদের জন্য অশ্বগন্ধার উপকারিতা
অশ্বগন্ধা একটি প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী ওষুধ যা মহিলা পুরুষ উভয়দের ক্ষেত্রেই
উপকারী। তাই মেয়েদের জন্য অশ্বগন্ধার উপকারিতা যেমন রয়েছে তেমনি ছেলেদের
জন্যও রয়েছে এর অনেক উপকারিতা যা আমি আজকের আর্টিকেলে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে
আপনাদের কাছে বর্ণনা করেছি। আশা করছি এটি আপনাদের শারীরিক সুস্থতায় যথেষ্ট
অবদান রাখবে।
প্রিয় পাঠক, আমার লেখা আর্টিকেলটি যদি আপনাদের ভালো লেগে থাকে তবে আপনার
পরিচিত বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়-স্বজনদের শেয়ার করবেন এবং এই আর্টিকেলটির
মধ্যে কোন ভুলভ্রান্তি পরিলক্ষিত হলে অবশ্যই কমেন্টসে জানাবেন।


ব্লগ টু বাজারের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url