চুলের যত্নে ত্রিফলা ব্যবহারের সুবিধা
চুলের যত্নে ত্রিফলা ব্যবহারের সুবিধা সম্পর্কিত আজকের এই ব্লগে আপনাকে স্বাগত। আপনি জানেন কি নাপিতকে কি বলে ডাকা হয়? নরসুন্দর বলে ডাকা হয়। আপনি হয়তো ভাবছেন চুলের সাথে আবার নাপিত বা নরসুন্দরের কি সম্পর্ক ! তবে বলছি কি সম্পর্ক রয়েছে। যার চুল সুন্দর , সেই হচ্ছে প্রকৃত সুন্দর।যেহেতু নাপিত মানুষের চুলকে কেটে ছেঁটে সুন্দর করে দেয়, তাই নাপিতকে বলা হয় নরসুন্দর। তবে কেটে ছেঁটে সুন্দর করার আগে আপনার চুল হতে হবে সুন্দর।প্রতিদিনের ধূলো বালি ময়লা আর আয়রন যুক্ত পানি দিয়ে গোসল আপনার চুলের বারোটা বাজিয়ে দিচ্ছে। চুল হয়ে যাচ্ছে রুক্ষ -শুস্ক , চুলের আগা ফেটে অকালেই ঝরে পড়ছে আর আপনি হারাচ্ছেন সৌন্দর্য।
আসলে আপনারা প্রত্যেকেই চান আপনার চুল যেন ঘন কালো লম্বা হয় ,কিন্তু চাইলেই তো আর সবকিছু হবে না।এর জন্য প্রয়োজন কিছু বাড়তি যত্ন।তাই আজকের এই ব্লগে আপনাদের জন্য থাকছে এমন কিছু টিপস এন্ড ট্রিকস যা আপনার চুলকে করবে ঘন, কালো, লম্বা এবং ঝলমলে।
পোস্টের সূচিপত্রঃ চুলের যত্নে ত্রিফলা ব্যবহারের সুবিধা
- চুলের যত্নে ত্রিফলা ব্যবহারের সুবিধা
- চুলের যত্নে কেন ত্রিফলা ব্যবহার করবেন
- ত্রিফলা তৈরি নিয়ম বা অনুপাত
- চুলের যত্নে ত্রিফলার ব্যবহারের সঠিক নিয়ম
- চুল কেন পুষ্টি হারায় এবং ঝরে পড়ে
- ত্রিফলার তেল তৈরির পদ্ধতি
- পদ্ধতি নং -১ঃ ভিজিয়ে রাখা পদ্ধতি
- পদ্ধতি নং -২ঃ গরম তেল পদ্ধতি
- পদ্ধতি নং -৩ঃ তাজা ত্রিফলা সিদ্ধ পদ্ধতি
- যারা ত্রিফলার তেল ব্যবহার করবেন না
- লেখকের শেষ কথা
চুলের যত্নে ত্রিফলা ব্যবহারের সুবিধা
- রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে চুলের গোড়া মজবুত করেঃ ত্রিফলার সক্রিয় উপাদান মাথার ত্বকের রক্ত সঞ্চালনকে বাড়িয়ে দেয়।এতে হেয়ার ফলিকলে পর্যাপ্ত পুষ্টি পায়। যার ফলে চুল পড়া কমে এবং নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে।
- প্রাকৃতিক আদ্রতাকে ধরে রাখেঃ ত্রিফলা চুলের আদ্রতা কে ধরে রাখে ফলে চুল শুষ্ক বা ভঙ্গুর হয় না। ত্রিফলা চুলকে কোমল,মসৃণ ও উজ্জ্বল করে।
- মাথার ত্বক ও চুল পরিষ্কার রাখেঃ ত্রিফলার তিনটি ফল আমলকি হরিতকি ও বয়ড়া যা চুলের গোড়া ও স্ক্যাল্পের ময়লা,তেল,ফাঙ্গা এবং ব্যাকটেরিয়াকে দূর করে। যার ফলে মাথার ত্বক থাকে পরিষ্কার খুশকি কমে যায় এবং নতুন চুল গজানোর পরিবেশ তৈরি হয়।
- প্রাকৃতিক এন্টি অক্সিডেন্টঃ ত্রিফলাতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন সি থাকে। বিশেষ করে ত্রিফলের তিনটি ফলের মধ্যে আমলকিতে। এই উপাদানটি মাথার ত্বক থেকে ফ্রি রেডিক্যাল দূর করে এবং চুল অকালে পেকে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা পায়।
- রাসায়নিক বিহীন প্রাকৃতিক ওষুধঃ বাজারে অনেক হেয়ার অয়েলে কেমিক্যাল থাকে যা ব্যাবহারের ফলে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি সাধন করতে পারে। এক্ষেত্রে ত্রিফলা সম্পূর্ণ ভেষজ, তাই এটি দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারে কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ছাড়াই চুলের স্বাস্থ্য ঠিক রাখে।
- চুলের প্রাকৃতিক রং ও উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে ঃ ত্রিফলায় থাকা এন্টিঅক্সিডেন্ট চুলের কোষকে ক্ষতি হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে। তাই ত্রিফলা নিয়মিত ব্যবহারে চুলের প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা ফিরে আসে এবং চুলের কালার থাকে অটুট।
চুলের যত্নে কেন ত্রিফলা ব্যবহার করবেন
ত্রিফলা তৈরি নিয়ম বা অনুপাত
চুলের যত্নে ত্রিফলার ব্যবহারের সঠিক নিয়ম
- ত্রিফলার গুঁড়া ও মেহেদির গুঁড়া একসাথে মিশিয়ে প্রয়োজনমতো পানি দিয়ে পেস্ট তৈরি করে নিন। এরপর মিশ্রণটি চুলে ২০ মিনিট লাগিয়ে রেখে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
- আপনার ক্ষতিগ্রস্ত চুলের জন্য এবং চুলের পরিমাণ বাড়াতে ত্রিফলার গুড়া এবং নারকেল তেল একসঙ্গে মিশিয়ে চুলে লাগিয়ে ঘন্টাখানেক অপেক্ষা করুন। এরপর পরিষ্কার পানি দিয়ে তা ধুয়ে ফেলুন।
- তেল হালকা গরম করে মাথার ত্বকে লাগান।
- ৫ থেকে ১০ মিনিট হালকা হাতে মালিশ করুন।
- এক থেকে দুই ঘন্টা আবার সারারাত রেখে পরের দিন হারবাল শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
চুল কেন পুষ্টি হারায় এবং ঝরে পড়ে
- শরীরে পুষ্টির ঘাটতিঃ আপনার শরীরে যদি পুষ্টির ঘাটতি থাকে তবে আপনি এই সমস্যায় পড়তে পারেন। চুলের মূল শক্তি আসে প্রোটিন,আয়রন,জিংক,বায়োটিন ও ভিটামিন থেকে। আপনার প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় যদি এই পুষ্টি উপাদান গুলো কম থাকে তাহলে চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে যায় ফলাফল হিসাবে আপনার চুল হয়ে যায় রুক্ষ ভেঙে যায় এবং ঝরে পড়ে।
- ধূলো বালি কারণেঃ ধুলোবালির দূষণ মাথার ত্বকে জমে গিয়ে হেয়ার ফলিকল বন্ধ করে দেয়। তখন মাথার ত্বক ঠিকভাবে শ্বাস নিতে পারে না,যার কারনে চুল হয়ে যায় দুর্বল এবং ঝরে পড়তে শুরু করে।
- মানসিক চাপ ও ঘুমের অভাবঃ অতিরিক্ত চাপ বা টেনশন শরীরের হরমোনের ভারসাম্যকে নষ্ট করে দেয়। আবার ঘুম ঠিকঠাক না হলে চুল পুষ্টি শোষণ করতে পারে না এর প্রভাব পড়ে হেয়ার ফলিকলে এর ফলে চুলের বৃদ্ধি হয় ধীরগতি এবং চুল পরা বেড়ে যায়।
- রক্ত সঞ্চালনের সমস্যাঃ মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন যদি ঠিকঠাক মত না হয় তবে চুলের গোড়ায় পুষ্টি পৌঁছায় না। যার ফলে চুল ধীরে ধীরে পাতলা হয়ে যায় এবং ঝরে পড়ে।
- ত্বকের সংক্রমন বা খুশকিঃ খুশকি বা ত্বকের প্রদাহ চুলের গোড়াকে দুর্বল করে দেয়। এর কারণে গোড়া থেকে চুল ঝরে যাওয়া শুরু হয়।
ত্রিফলার তেল তৈরির পদ্ধতি
পদ্ধতি নং -১ ঃভিজিয়ে রাখা পদ্ধতি
- দুই টেবিল চামচ ত্রিফলা গুড়া।
- এক কাপ পরিমাণ নারিকেল তেল বা অলিভ অয়েল।
- একটি কাঁচের বোতল।
পদ্ধতি নং -২ঃ গরম তেল পদ্ধতি।
- দুই টেবিল চামচ ত্রিফলা গুড়া।
- এক কাপ পরিমাণ নারিকেল তেল
- একটি পাত্র বা কড়াই ।
পদ্ধতি নং -৩ঃ তাজা ত্রিফলা সিদ্ধ পদ্ধতি।
- দুই টেবিল চামচ পরিমাণ কাঁচা ত্রিফলা বাটা।
- এক কাপ পরিমাণ পানি।
- এক কাপ পরিমাণ নারকেল তেল বা তিলের তেল।
যারা ত্রিফলার তেল ব্যবহার করবেন না
- অ্যালার্জি প্রবণ ব্যক্তিঃ যদি আপনার অতিরিক্ত পরিমানে অ্যালার্জি থাকে তাহলে ত্রিফলার তেল ব্যবহার না করাই ভালো। এছাড়াও ত্রিফলা তেল ব্যবহার করে যদি হালকা চুলকানি,জ্বালা-পোড়া বা লালচে দাগ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহার বন্ধ করুন।
- রঙ করা বা কেমিক্যাল ট্রিটমেন্ট করা চুলঃ আপনার চুলে যদি হেয়ার ডাই বা কেরাটিন ট্রিটমেন্ট করা থাকে তবে ত্রিফলা মিশ্রিত তেল ব্যবহার না করাই ভালো। কারণ ট্রিটমেন্ট করা চুলে কিছু রাসায়নিক উপাদান থাকে যা ত্রিফলাতে উপস্থিত থাকা টেনিন এর সাথে বিক্রিয়া করে চুলের রং পরিবর্তন করতে পারে।



ব্লগ টু বাজারের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url