ডায়াবেটিসে চিড়া খাওয়া যাবে কি

চিড়া খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা কি কি রয়েছে তা আমাদের অনেকের কাছে অজানা। আমরা কম বেশি সকলেই চিড়া খেয়ে থাকি কিন্তু চিড়া খেলে কি হয় এবং চিড়া খাওয়ার উপকারিতা কি আবার এই চিড়া খাওয়ার ফলে কি কি ক্ষতি বা অপকারিতা রয়েছে তা আমরা না জেনেই খেয়ে থাকি।

আপনি যদি চিড়া খেতে বেশি ভালোবাসেন এবং একজন স্বাস্থ্য সচেতন মানুষ হয়ে থাকেন তবে অবশ্যয় এর উপকারিতা ও অপকারিতা জেনে নেওয়া উচিত। তাই চিড়া সম্পর্কিত সকল অজানা তথ্য নিয়ে সাজিয়েছি আজকের আর্টিকেলটি। আমি মনে করি প্রত্যেক স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের উপকারে আসবে এই পোস্টটি। 

পোস্ট সূচীপত্রঃ চিড়া খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা

চিড়া খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা

চিড়া খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জানানোর পূর্বেই একটি কথা বলে রাখি। তা হচ্ছে আপনার প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় চিড়া খেলে কিছু রোগবালাই থেকে আপনি মুক্তি পেতে পারেন। যাদের হজম শক্তি কিছুটা দুর্বল তাদের জন্য চিড়া হচ্ছে একটি আদর্শ খাবার। তবে এই চিড়া সবার জন্য সব ক্ষেত্রেই যে উপকারী তা কিন্তু নয় কারন চিড়াতে রয়েছে এমন কিছু উপাদান যা আপনার স্বাস্থ্যের জন্য খারাপ প্রভাব তৈরি করতে পারে।

চিড়া কে আপনি ভাতের বিকল্প হিসাবে চিন্তা করতে পারেন। আমরা যারা বাঙালি আছি আমরা প্রধান খাদ্য হিসেবে খাদ্য তালিকায় রাখি ভাত, রুটি, মুড়ি অথবা চিড়া। এখন আমরা আলোচনা করবো চিড়ার স্বাস্থ্য গুণ নিয়ে। আপনি প্রধান খাদ্য হিসেবে ভাত বা মুড়ি অথবা চিড়া যাই খান না কেন এই প্রত্যেকটির প্রধান উপাদান হচ্ছে ধান বা চাল। 

খুব দ্রুত পেট ভরাতে চাইলে চিড়া হচ্ছে আপনার জন্য উপযুক্ত খাবার এছাড়াও এটিতে রয়েছে আয়রন ভিটামিন বি, কার্বোহাইড্রেট ও প্রোটিন যা প্রত্যেকটি আপনার দেহে শক্তি যোগায়। চিড়া খুব সুস্বাদু এবং খুব সহজে হজম হয়। চিড়া হচ্ছে সহজলভ্য যা সহজেই তৈরি করা যায় এবং এটি দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষণ করে রাখা যায়। পর্যায়ে আমরা চিড়া খাওয়ার যে সকল উপকারিতা রয়েছে সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানবো।

চিড়ার অজানা ১০টি উপকারিতা 

  1. বিপাক ক্রিয়ায় অবদান রাখে: চিড়াতে রয়েছে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স। ভিটামিন বি যেমন থায়ামিন B১ ও নিয়াসিন B৩ যা মানুষের বিপাক ক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিপাকক্রিয়া ঠিকঠাকভাবে সম্পন্ন হলে শরীরের খাদ্যকে শক্তিতে রূপান্তর করা এবং দেহের বৃদ্ধি, কোষ গঠন এবং অন্যান্য কার্যাবলী সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়।
  2. শক্তি বর্ধক খাবার: চিড়া মূলত চাল থেকেই তৈরি তাই এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ কার্বোহাইড্রেট যা আপনার শরীরকে দ্রুত শক্তির যোগান দেয়। শক্তির প্রধান উৎস হচ্ছে কার্বোহাইড্রেট। কার্বোহাইড্রেট এর অভাব হলে ভিটামিন বা খনিজ পদার্থের অভাব দেখা দিতে পারে এছাড়াও কোষের স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখার জন্য কার্বোহাইড্রেট খুবই জরুরী।
  3. রক্তস্বল্পতা দূর করে: চিড়াতে রয়েছে আয়রন। মানুষের শরীরে আয়রনের প্রধান কাজ হচ্ছে রক্তকণিকা তৈরি করা এবং অক্সিজেন পরিবহন করা। যা আপনার রক্ত শূন্যতার বিরুদ্ধে কাজ করে এবং রক্তে হিমোগ্লোবিন বাড়াতে সাহায্য করে। তাই রক্তশূন্যতায় চিড়া বেশ উপকারী বলা যায়।
  4. কেলোরি কম কিন্তু বেশি পুষ্টি: চিড়াতে ক্যালরির পরিমাণ কম থাকে । তাই  চিড়া বেশি ক্যালোরি যোগ না করেই অনেক সময় ধরে পেটকে ভরে রাখে। যার কারণে আপনার ওজন বৃদ্ধি না করেই আপনার ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। অতিরিক্ত ক্যালরি হৃদরোগ ও ডায়াবেটিস এবং অন্যান্য বার্ধক্য জনিত রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
  5. হজম শক্তি বৃদ্ধি:চিড়া হালকা হওয়ার কারণে  সহজেই হজম হয় এটি পেটের জন্য আরাম দায়ক। এছাড়াও চিড়াকে যদি আপনি দয়ের সাথে খেতে পারেন তবে আপনার হজম শক্তি বৃদ্ধি করতে পারে এবং একই সাথে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থাকলেও তা দূর করে
  6. পেট ঠান্ডা রাখে: নিয়মিত চিড়া খেলে পেট ঠান্ডা থাকে। ফলে পেট ফাঁপা ,বদ হজম বাজে ঢেঁকুর উঠা ইত্যাদি হতে আপনি রেহাই পাবেন।
  7. কিডনি রোগীদের জন্য আদর্শ খাবার: চিড়াতে সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম থাকে। আর এ কারণেই কিডনি রোগীদের জন্য চিনে রাখার উপকারিতা রয়েছে অনেক।
  8. ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার: চিড়া হচ্ছে আজ যুক্ত খাবার । যা আপনার হজ বুকে সহজ করে এবং দীর্ঘক্ষণ সময় ধরে তৃপ্তি ধরে রাখে। অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার চাহিদা কমায়। এছাড়াও চিড়া প্রাকৃতিকভাবে গ্লুটেন মুক্ত হওয়ার কারণে যাদের অ্যালার্জিজনিত সমস্যা হয়েছে তাদের জন্য চিড়া খাওয়া নিরাপদ।
  9. ওজন নিয়ন্ত্রণ: চিড়া যেহেতু কম ফ্যাট ও অল্প ক্যালোরিযুক্ত খাবার তাই ওর জন্য নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে । হালকা খাবার হিসাবে চিড়া ওজন কমাতে যথেষ্ট সহায়ক তাই আপনি আপনার ডায়েট চার্টে চিড়া কে আদর্শ খাবার হিসেবে রাখতে পারেন। বিশেষ করে যদি দই দিয়ে চিড়া খাওয়া হয় তবে আরও বেশি কার্যকর হবে।
  10. ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য আদর্শ খাবার: চিড়া হচ্ছে গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের মাঝামাঝি কিন্তু আপনি যদি পরিমাণ বুঝে ও সঠিকভাবে খেতে পারেন তবে আপনার রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন। বিশেষ করে যদি আপনি দই বা শসা দিয়ে খেতে পারেন।
এক কথায় চিড়ার উপকারিতা ও যে সব রোগ থেকে আপনি মুক্তি পেতে পারেন তা হচ্ছে রক্তশূন্যতা, কোষ্ঠকাঠি, হৃদরোগ, জ্বর বা অসুস্থতার পরে দুর্বলতা সারাতে চিড়ার জুড়ি মেলা ভার।

বাচ্চাদের চিড়া খাওয়ানোর ৫টি উপকারিতা 

  1. শক্তির উৎসঃ চিড়াতে যেহেতু কার্বোহাইড্রেট রয়েছে তাই এটি শক্তির যোগান দেয়। চিড়া কার্বহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবার হওয়ায় বাচ্চাদের দ্রুত শক্তির যোগান দিতে সক্ষম।
  2. পায়খানার সমস্যা দূর করেঃ চিড়াতে রয়েছে প্রচুর পরিমানে আয়রন ও ফাইবার যার কারণে এটি আপনার বাচ্চার কোষ্ঠকাঠিন্য কে দূর করে এবং আয়রন সমৃদ্ধ খাবার হওয়ার কারণে রক্তশূন্যতাও দূর করতে সক্ষম। আপনার বাচ্চার যদি নিয়মিত পায়খানা সমস্যা থেকে থাকে তবে চিড়া খাওয়ান। 
  3. পাতলা ও হালকা খাবারঃ চিলা যেহেতু একটি পাতলা ও হালকা খাবার তাই চিড়া আপনার বাচ্চা সহজেই খেতে পারে এবং খুব তাড়াতাড়ি হজম করতে পারে। 
  4. হজমে সহায়কঃ চিড়া সহজেই হজম হয়। তাই চিড়া যেহেতু একটি সহজ হজমযোগ্য খাবার তাই এটি আপনার বাচ্চার পেটে গিয়ে কোন রকম সমস্যা তৈরি করেনা এবং আপনার বাচ্চার পেটের সমস্যাকে কমিয়ে দেয়। তাই অন্যান্য খাবারের পাশাপাশি আপনার বাচ্চার খাবারের তালিকায় চিড়া রাখতে পারেন।
  5. তৈরি করা সহজঃ আপনি যখন অন্যান্য কাজে ব্যস্ত থাকেন তখন আপনার সন্তানের জন্য অল্প সময়ের মধ্যে একটি পুষ্টিকর খাবার তৈরি করার জন্য চিড়ার জুড়ি মেলা ভার। কারণ চিড়া দিয়ে তৈরি যে কোন খাবার অল্প সময়ের মধ্যে খুব দ্রুত তৈরি করা যায়।

গর্ভাবস্থায় চিড়া খাওয়ার ৫টি উপকারিতা 

  1. ওজন নিয়ন্ত্রণঃ গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত ওজন বেড়ে যাওয়াটা মোটেই কাম্য নয়।  চিড়া হচ্ছে একটি ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার তাই গর্ভাবস্থায় চিড়া খেলে এটি আপনার পেটকে দীর্ঘক্ষণ ভরা রাখে ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার চাহিদা কমে যায় এবং আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
  2. বমি বমি ভাব দূর করেঃ গর্ভধারণের প্রথম দিকে অনেক মেয়েরাই বমি ভাব নিয়ে অস্বস্তিতে থাকেন। চিড়া যেহেতু সহজ হজম যোগ্য খাবার তাই এটি আপনার পেটে সহজে হজম হয় এবং বমি বমি ভাব কমাতে সাহায্য করে।
  3. রক্তস্বল্পতা পূরণ করেঃ গর্ভাবস্থায় মেয়েদের আয়রনের ঘাটতি দেখা দেয়। চিড়া যেহেতু আয়রন সমৃদ্ধ খাবার তাই এটি আপনার আয়রনের যোগান দেই এবং একই সাথে রক্তস্বল্পতাও দূর করতে সাহায্য করে। 
  4. কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করেঃ গর্ভাবস্থায় কম বেশি অনেকেই কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় ভুগে থাকেন। চিড়া সহজ হজমযোগ্য খাবার হওয়ার কারণে এটি কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করেন এবং আঁশ যুক্ত খাবার হওয়ার কারণে নিয়মিত মলত্যাগে সাহায্য করে।
  5. দ্রুত শক্তির উৎসঃ গর্ভাবস্থায় অনেক মেয়েরাই ক্লান্তি এবং দুর্বলতার সমস্যায় পড়েন। চিড়া হল কার্বোহাইড্রেটের একটি প্রধান উৎস যা আপনার শরীরে দ্রুত শক্তির যোগান দেয়।

ডায়াবেটিস রোগীদের চিড়া খাওয়ার উপকারিতা 

ডায়াবেটিস রোগীদেরকে ডাক্তারেরা ভাত বা রুটি মেপে মেপে খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কিন্তু তাদের শরীরে শক্তির যোগান দিতে কার্বোহাইড্রেট এর প্রয়োজন সে দিক থেকে চিড়া হচ্ছে একটি উত্তম খাবার। যা দিয়ে আপনি শক্তির যোগান দিতে পারবেন। আবার অনেক ডায়াবেটিস রোগীরা চিন্তায় পড়ে যায় যে, সে মুড়ি খাবে নাকি চিড়া খাবে।

এক্ষেত্রে আপনাদেরকে একটি তথ্য দিয়ে রাখি মুড়িতে গ্লাইসেমিক ইনডেক্স এর মাত্রা ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ হয়ে থাকে অপরদিকে চিড়াতে গ্লাইসেমিক ইনডেক্স এর মাত্রা ৩০ থেকে ৬০ শতাংশ মধ্যে হয়ে থাকে তাই চিড়া খেলে আপনার রক্তে শর্করা মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যাবে না। কিন্তু আপনি যদি মুড়ি খান তাহলে আপনার রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে সে দিক থেকে চিন্তা করলে চিড়াই আপনার জন্য উৎকৃষ্ট।

আপনাদের আরো একটি তথ্য দিয়ে রাখি চিড়া কিন্তু নিজে থেকে রক্তে শর্করার মাত্রা কমায় না কিন্তু এটি সহজপাচ্য হওয়ার কারণে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ায় না। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য চিড়া হতে পারে একটি আদর্শ খাবার। তাই আপনি যদি একজন ডায়াবেটিস এর রোগী হয়ে থাকেন তবে আপনার খাদ্য তালিকায় চিড়া রাখা অবশ্যই রাখা উচিত। 

সকালে খালি পেটে চিড়া খাওয়ার উপকারিতা 

প্রতিদিন সকালের নাশতায় আমরা কমবেশি ভাঁজা পোড়া খেয়ে থাকি। তবে যদি আপনি আপনার সকালের নাস্তায় ভাঁজা-পোড়ার জায়গায় চিড়া কে রাখতে পারেন তবে তা হবে আপনার স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী। সকালে নাস্তায় আপনি চিড়াকে পানিতে ভিজিয়ে খেতে পারেন অথবা এর সাথে দই যোগ করতে পারেন। আপনি যদি সকালে একটি স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের কথা চিন্তা করেন তবে চিড়ার সাথে দই মিশিয়ে খেতে পারেন। 

এছাড়াও চিড়ার সাথে কলা অথবা দুধ মিশিয়েও খেতে পারেন। এতে সারাদিনের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টির জোগান দিবে দুধ-চিড়া বা দই ও চিড়ার মিশ্রন। আবার এই চিড়ার সাথে যোগ করতে পারেন কলা। ছোট থেকে বয়স্ক যে কোন বয়সের মানুষ খেতে পারবেন এই খাবার। সকালে খালি পেটে চিড়া খাওয়া অনেকের কাছেই একটি স্বাস্থ্যকর অভ্যাস বলে পরিচিত তাই আপনিও এটি ভালো অভ্যাসে পরিণত করতে পারেন। 

লাল চিড়া কেন খাবেন এর উপকারিতা কি

চিড়া খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা নিয়ে কথা বলার এই পর্যায়ে লাল চিড়া নিয়ে কিছু কথা না বললেই নয়। বর্তমান সময়ে সাদা রংয়ের চিড়াতে বাজার সয়লাব। লাল রংয়ের চিড়া পাওয়া খুবই দুষ্কর। কিন্তু শুরুতে আপনাকে একটি তথ্য দিয়ে রাখি বাজারে পাওয়া সাদা চিড়ার তুলনায় লাল চিড়ার উপকারিতা অনেক বেশি। লাল চিড়া তৈরি করার জন্য আমন ধানের প্রয়োজন হয় যেহেতু বর্তমান সময়ে আমন ধান খুবই কম চাষ হয় তাই বাজারেও লাল চিড়া খুব কম পাওয়া যায়।

লাল চিড়াতে আঁশ এর পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম থাকে তাই এটির ডায়রিয়া, অন্ত্রের প্রদাহ, আনসার ইতি কোলাইটিস, ভাইভারটি কুলাইসিস রোগ প্রতিরোধে লাল চিড়া খাওয়ার উপকারিতা রয়েছে। লাল চিরাতে সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের পরিমাণ কম থাকে তাই কিডনি রোগীদের জন্য এই চিড়া খাওয়ার উপকারিতা রয়েছে অনেক। 

এছাড়াও পুষ্টি গুণের দিক থেকে সাদা চিড়ার চেয়ে লাল চিড়া রয়েছে বেশ এগিয়ে। কারণ সাদা চিড়ার তুলনায় লাল চিড়াতে রয়েছে বেশি পরিমাণে খনিজ ও ভিটামিন। এতে রয়েছে আইরন, ক্যালসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স ও জিংক এর মতো খনিজ উপাদান। তাই আপনারা চেষ্টা করবেন বাজার থেকে লাল রংয়ের চিড়া কিনে খাওয়ার।

চিড়া খাওয়ার  অপকারিতা বা কুফল  

চিড়া খাওয়ার চিড়া যেমন অনেক উপকারিতা রয়েছে তেমনি কিছু কিছু ক্ষেত্রে অপকারিতা ও রয়েছে। তবে তা অপকারিতার তুলনায় উপকারিতায় বেশি। তবু যেহেতু আজকে আমি চিড়া নিয়ে আপনাদেরকে খুঁটিনাটি তথ্য দিব বলে আর্টিকেল লেখা শুরু করেছি তাই চিড়ার যে সকল ক্ষতিকর দিক রয়েছে সেগুলো আপনাদের সামনে তুলে ধরছি। 

চিড়াতে রয়েছে বেশি শর্করা এবং চিড়া উচ্চ গ্লাইসেমিক সমৃদ্ধ খাবার হওয়ার কারণে এই খাবার বেশি গ্রহণে সিরাম ট্রাই গ্লিসারাইডের ঘনত্ব বৃদ্ধি পায় এবং একই সাথে ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা কি কমিয়ে দেয় যার ফলে কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজের ঝুঁকি বাড়তে পারে। কার্ডিও ভাস্কুলার ডিজিজ হচ্ছে হৃৎপিণ্ড এবং রক্তনালী সম্পর্কিত রোগ বা অবস্থা এ রোগের মাধ্যমেই মানুষ হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক এবং অন্যান্য হৃদরোগের দ্বারা আক্রান্ত হয়ে থাকে।

এছাড়াও বেশি পরিমাণে চিড়া খাওয়ার আরো কিছু অপকারিতা রয়েছে যেগুলো সম্পর্কে জেনে সতর্ক থাকা উচিত অর্থাৎ চিড়া অতিরিক্ত না খেয়ে পরিণত খাওয়াই ভালো হবে। 
  • রক্তে শর্করার পরিমাণ বৃদ্ধি করতে পারেঃ পূর্বেই বলেছি চিড়াতে রয়েছে প্রচুর পরিমানে কার্বোহাইড্রেট। যা আপনার রক্তে শর্করা মাত্র বৃদ্ধি করতে পারেন বিশেষ করে বেশি পরিমাণে খেলে একটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি সমস্যাও তৈরি করতে পারে, যদি নিয়ন্ত্রিত বা পরিণত পরিমাণে না খাওয়া হয়।
  • ভাজা চিড়া ক্ষতিকরঃ কেউ যদি চিড়া কে তেল বা ঘি দ্বারা ভেজে খায়। তখন ক্ষতির পরিমাণটা একটু বেশি হয় কারণ এতে তখন অতিরিক্ত তেল চর্বি ও ক্যালরি যুক্ত হয়ে যায়। যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এর দ্বারা আপনার এসিডিটি বা বুক জ্বালা পোড়াও করতে পারে।
  • পুষ্টিগুণ কমঃ শুধু চিড়া খেলে এতে ভিটামিন, ফ্যাট বা পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন পাওয়া যায় না। তাই কেউ যদি দুধ, ডিম বা দই মিশিয়ে না খায় তাহলে তার পুষ্টির ঘাটতি হতে পারে।
  • ওজন বৃদ্ধি হতে পারেঃ চিড়া মূলত চাল থেকে তৈরি হয় তাই ভাত খেলে যেমন অতিরিক্ত ওজন বাড়তে পারে। সেই একইভাবে অতিরিক্ত চিড়া খেলেও ওজন বাড়তে পারে বিশেষ করে যদি এটি চিনি বা মিষ্টি জাতীয় খাদ্যের সাথে মিষ্টি করে খাওয়া হয় তখন ওজন বাড়ার আশঙ্কাটা আরো বাড়তে পারে।
এছাড়াও যাদের হজমজনিত সমস্যা রয়েছে তাদের চিড়া না খাওয়াই ভালো। কারণ এটা হজম করা অনেক সময় তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে এর কারণে অম্বল এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা তৈরি হতে পারে তবে কেউ যদি পরিমাণ মতো অর্থাৎ অতিরিক্ত চিড়া না খায় তবে উপরে উল্লেখিত সমস্যা থেকে বাঁচতে পারে।

শেষকথাঃ চিড়া খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা  

চিড়া যেহেতু প্রক্রিয়াজাত করা খাবার নয় এটি আমাদের ঘরেই তৈরী করা একটি খাবার। তাই এতে কোনো কেমিক্যাল বা কৃত্রিম খারাপ কোনো কিছু মেশানো সম্ভব নয়। তাই বলতে পারেন এই ভেজালের ভিড়ে আদি ও আসল খাবার হচ্ছে চিড়া। তাই আপনি আপনার প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় চিড়াকে আদর্শ খাবার হিসাবে রাখতে পারেন ।

প্রিয় পাঠক, চিড়া খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা নিয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য আপনাদের কাছে তুলে ধরেছি। তবে আমার পরামর্শ আপনি যদি প্রতিদিন সকালে দই-চিড়া খাওয়ার অভ্যাস করতে পারেন তবে তা আপনার স্বাস্থ্যর জন্য অনেক উপকারী হবে একই সাথে একটি স্বাস্থ্যকর অভ্যাস হিসাবে গড়ে উঠবে।এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, এই আর্টিকেলটি শুধুমাত্র সাধারণ তথ্যর জন্য। এটি কোন ওষুধ বা চিকিৎসার অংশ নয়। স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্বে অবশ্যই একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। তথ্য ব্যবহারজনিত কোন ক্ষতির জন্য লেখক বা ওয়েবসাইট কোনভাবেই দায়ী নয়। 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ব্লগ টু বাজারের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

Md. Abu Saleh
Md. Abu Saleh
আমি একজন ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট আমি অনলাইন ইনকাম, ব্লগিং, SEO ও টেকনোলজি নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করি।