বিশ্ব শিশু দিবস কবে ও কেন পালিত হয়
বিশ্ব শিশু দিবস কবে ও কেন পালিত হয় তা আপনাদের অনেকের কাছেই অজানা। আজকের এই
পোস্টে আপনারা জানতে পারবেন শিশু দিবস প্রথম কবে কোথায় পালন করা হয়েছিল এবং এটা
কিভাবে শুরু হয়েছিল। এবারের বিশ্ব শিশু দিবসের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় বা থিম
কি করা হয়েছে ।
আমি আপনাদের কাছে আরো বিস্তারিত তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করবো যে কেন বিশ্ব শিশু
দিবস পালন করা প্রয়োজন এবং এর গুরুত্ব কি। তাই আপনি যদি একজন শিশু সচেতন
ব্যক্তি হয়ে থাকেন তবে অবশ্যই আজকের এই পোস্টটি আপনার জন্য। আপনি এই পোস্টটি
পড়লে শিশু দিবস সম্পর্কে আরো অনেক কিছু জানতে পারবেন তাই ধৈর্য সহকারে পড়া
চালিয়ে যেতে থাকুন।
পোস্ট সূচিপত্রঃ বিশ্ব শিশু দিবস কবে ও কেন পালিত হয়
- বিশ্ব শিশু দিবস কবে ও কেন পালিত হয়
- বিশ্ব শিশু দিবসের উৎপত্তি ও ইতিহাস
- বিশ্ব শিশু দিবস বৈশ্বিক ভাবে প্রথম উদযাপন
- বিশ্ব শিশু দিবস -২০২৫ এর মূল প্রতিপাদ্য বিষয়
- বিশ্ব শিশু দিবস কেন পালন করা হয়
- জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ কি এবং কেন
- বাংলাদেশে শিশুদের জন্য কি কি অধিকার রয়েছে
- শিশু দিবস পালনের মূল উদ্দেশ্য
- শেষকথাঃ বিশ্ব শিশু দিবস কবে ও কেন পালিত হয়
বিশ্ব শিশু দিবস কবে ও কেন পালিত হয়
বিশ্ব শিশু দিবস কবে ও কেন পালিত হয় এ সম্পর্কে জানতে হলে বিশ্ব শিশু দিবস ও
বিভিন্ন দেশ ভিত্তিক শিশু দিবসের মধ্যে পার্থক্যগুলো আগে জানতে হবে। উইকিপিডিয়ার
তথ্য মতে ১৯২৫ সালে সুইজারল্যান্ডের প্রধান শহর জেনেভাতে শিশু কল্যাণ সম্মেলন
অনুষ্ঠিত হয়। সেই সম্মেলনে প্রথম আন্তর্জাতিক শিশু দিবস ঘোষণা করা হয়।
এরপর ১৯৫০ সাল থেকে বেশিরভাগ কমিউনিস্ট প্রধান দেশগুলোতে বিশ্ব শিশু দিবস পালিত
হয় পহেলা জুন। এখানে আপনাদের একটি তথ্য দিয়ে রাখি বর্তমানে পৃথিবীতে পাঁচটি
কমিউনিস্ট প্রধান দেশ রয়েছে যেমন চীন, কিউবা, লাউস, উত্তর কোরিয়া এবং
ভিয়েতনাম। এবং পোস্ট কমিউনিস্ট দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে রাশিয়া ইউক্রেন
কাজাখস্তান বেলারুশ তুর্কি মিনিস্তান এস্তোনিয়া লাটভিয়া লিথুনিয়া ইত্যাদি দেশ।
অর্থাৎ সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পরে যে দেশগুলো গঠিত হয়েছে সেই দেশ গুলো
হচ্ছে পোস্ট কমিউনিস্ট প্রধান দেশ। যাই হোক এই দেশগুলোতে বিশ্ব শিশু দিবস পালন
করা হয় ১ জুন।
আজকে শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। অর্থাৎ আজকে যদি আমার প্রজন্ম বেঁচে থাকে তাহলে
তারা আমার পরিচয় বহন করতে পারবে তা না হলে আমার পরিচয় ও এ পৃথিবী থেকে
হারিয়ে যাবে। ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহর লাল নেহেরু বলেছিলেন, শিশুদের
কিভাবে মানুষ করছি তার উপরেই নির্ভর করছে দেশের ভবিষ্যৎ। তারই প্রয়োজনীয়তা
থেকে শিশুদের একটি উন্নত ভবিষ্যৎ এবং তাদের প্রতি যত্নশীল হওয়ার প্রয়োজনীয়তা
দেখাতেই এই শিশু দিবস পালন করা হয়।
আরো পড়ুনঃ
এমন ৭টি আচরণ যা শিশুর সাথে করা উচিত নয়
বিশ্ব শিশু দিবসের উৎপত্তি ও ইতিহাস
উইকিপিডিয়ার তথ্য মতে, বিশ্ব শিশু দিবসের ভাবনা আসে প্রথম একজন ধর্মযাজকের
মাথায়। যার নাম ছিলো ডা. চার্লস লিওনার্ড তিনি প্রথম ১৮৫৭ সালের জুন মাসের
তৃতীয় রবিবার কে শিশু দিবস হিসেবে পালন করা শুরু করেন।এই ধর্মযাজক মূলত
শিশুদের জন্য জুন মাসের দ্বিতীয় রবিবারকে তাদের উৎসর্গকৃত একটি বিশেষ সেবার
দিন হিসাবে পালন করছিলেন। লিওনার্ড প্রথমের দিনটি নামকরণ করেছিলেন রোজ ডে
এরপরে নাম পরিবর্তন করে ফ্লাওয়ার সানডে করা হয় এবং এরপরে শিশু দিবস হিসেবে
নামকরণ করা হয়।
আবার তুরস্ক প্রজাতন্ত্র তাদের দেশে ১৯২০ সালের ২৩শে এপ্রিলকে শিশু দিবস
উল্লেখ করে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় ছুটির দিন ঘোষণা করেন। তুরস্কে ১৯২০ সাল
থেকে জাতীয়ভাবে ২৩ এপ্রিলকে শিশু দিবস হিসেবে পালন করে আসছিলেন। এই পর্যায়ে
তৎকালীন তুরস্কের সরকার এবং সংবাদপত্র গুলো এ দিনটিকে শিশুদের জন্য একটি দিবস
হিসেবে ঘোষণা করার প্রয়োজন মনে করেন। তখন তুরস্ক প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা
ও রাষ্ট্রপতি মোস্তফা কামাল আতাতুর্ক ১৯২৯ সালে দিনটিকে জাতীয়করণ করে
আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন।
বিশ্ব শিশু দিবস বৈশ্বিক ভাবে প্রথম উদযাপন
আন্তর্জাতিকভাবে শিশু দিবস পালন করার লক্ষ্যে ১৯২৫ সালে সুইজারল্যান্ডের একটি
প্রধান শহর জেনেভাতে শিশু কল্যাণ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় এবং এই সালেই
আন্তর্জাতিক শিশু দিবস ঘোষণা করা হয়। আমি পূর্বে বলেছিলাম বিশ্ব শিশু দিবস
কবে ও কেন পালিত হয় এ সম্পর্কে জানার আগে বিভিন্ন দেশ ভিত্তিক শিশু দিবসের
সম্পর্কে জানতে হবে।
তারই অংশ হিসেবে এখন আপনাদের সামনে বর্ণনা করছি যে, ১৯৪৯ সালের ৪ই নভেম্বর
মস্কোতে উইমেন্স ইন্টারন্যাশনাল ডেমোক্রেটিভ ফেডারেশন দ্বারা শিশুদের
সুরক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক দিবস হিসাবে পহেলা জুনকে বেছে নেওয়া হয়। এরপর
১৯৫৪ সালের ১৪ ডিসেম্বর উরুগুয়ে ও ভারত যৌথভাবে একটি প্রস্তাব জাতিসংঘের
সাধারণ পরিষদের উপস্থাপন করেন।
যেটা সর্বসম্মতিক্রমে উক্ত সাধারন পরিষদে পাস করা হয় এবং জাতিসংঘের
অন্তর্ভুক্ত সকল দেশকে শিশু দিবস পালনে উৎসাহিত করা হয়। এরপর ১৯৫৯ সালের ২০
শে নভেম্বর জাতিসংঘ শিশু অধিকার ঘোষণাপত্র গ্রহণ করে এবং তা সাধারণ পরিষদ
কর্তৃক শিশু অধিকার ঘোষণার স্মরণে ২০ নভেম্বরকে বিশ্ব শিশু দিবস হিসেবে পালন
করা শুরু হয় এবং তা আজ অবধি ২০ নভেম্বরকেই বিশ্ব শিশু দিবস হিসেবে পালন করা
হচ্ছে।
বিশ্ব শিশু দিবস -২০২৫ এর মূল প্রতিপাদ্য বিষয়
বিশ্ব শিশু দিবস ২০২৫ এর মূল প্রতিপাদ্য বিষয় বা থিম ঘোষণা করে
থাকেন(United Nations Children's Fund) ইউনিসেফ ও ইউনাইটেড নেশন। শিশুদের
অধিকার অংশগ্রহণ এবং তাদের আওয়াজকে যথার্থ গুরুত্ব দেওয়ার জন্য এবারের
মূল থিম বা প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে my Day, My Rights যার বাংলা অর্থ হচ্ছে
আমার দিন, আমার অধিকার।
এই থিম বা মূল প্রতিপাদ্য বিষয়টি যে চিন্তাধারা থেকে উঠে এসেছে, তা
হচ্ছে
- শিশুদের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও তাদের অধিকার এবং তাদের জীবনের অভিজ্ঞতাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে চিন্তা ভাবনা করতে হবে এবং তাদের কথাকে শুনতে হবে।
- যেকোনো সচেতনতামূলক কার্যক্রমে যেন তারা অংশ হতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে অর্থাৎ শিশুদেরকে অংশগ্রহণ করাতে হবে।
- শিশুদের অধিকার কে তাদের প্রতিদিনের জীবনে বাস্তবায়ন করতে হবে। তাদের অধিকারকে শুধুমাত্র আইনের ধরা বাধা নিয়ম করেই রাখলেই হবে না।
এবারের বিশ্ব শিশু দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ ও কিছু পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে
যেমন চেলা উপজেলা পর্যায়ে শিশুদের অধিকার বিষয়ক আলোচনা সভা ও কর্মসং
আয়োজন করা হয়েছে যেখানে এবার প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শিশুদের কথা শোনার
বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আরো পড়ুনঃ
১৫ দিনে ৫ কেজি ওজন কমানোর উপায়
বিশ্ব শিশু দিবস কেন পালন করা হয়
বিশ্ব শিশু দিবস পালন করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয় মূলত দ্বিতীয়
বিশ্বযুদ্ধের পর থেকেই। বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে লক্ষ লক্ষ শিশু অনাথ-এতিম
গৃহহীন এবং নির্যাতিত হয়ে পড়ে। এই ভয়াবহতা দেখে বিশ্ব নেতাদের টনক নড়ে
তারা বুঝতে সক্ষম হন যে শিশুদের সুরক্ষা করা এবং তাদের মান উন্নয়ন নিশ্চিত
করাই হচ্ছে মানবতার অন্যতম মৌলিক কাজ।
আবার কোন এক সময় বিশ্বের অনেক সমাজেই শিশুদেরকে আলাদা করে কোন গুরুত্ব দেয়া
হতো না অর্থাৎ তাদেরকে শিশু বলে গণ্য করা হতো না ব্যাপারটা এরকম যে তাদেরকেও
একজন প্রাপ্তবয়স্কের মতো কাজ করতে বাধ্য করা হতো। কলকারখানা, খামার এমনকি
বিভিন্ন খনিতেও কাজ করতে বাধ্য করা হতো। তখন শিক্ষার সুযোগও ছিল কম আর এই
সময়গুলোতে শিশুদের প্রতি নির্যাতন অবহেলা বেড়েই চলছিল।
শিশুদের প্রতি অন্যায়ের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিকভাবে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্যই এই
শিশুদের অধিকার কে কেন্দ্র করে একটি দিন নির্ধারণের প্রয়োজন দেখা দেয়। যা
বিশ্ব শিশু দিবস হিসাবে পালিত হবে। তাই ১৯৫৪ সালে জাতিসংঘ ঘোষণা করে যে যেন
প্রতিটি দেশ তাদের শিশুদের অধিকার রক্ষায় কাজ করায়।
এছাড়াও বিশ্বব্যাপী শিশু দিবস পালনের আরেকটি প্রেক্ষাপট রয়েছে, তা হচ্ছে
ভারতের প্রতিষ্ঠাতা পন্ডিত জওহর লাল নেহেরুর নাম আপনারা অনেকেই শুনেছেন। তিনি
মনে করতেন যে, শিশুদের শিক্ষা স্বাস্থ্য এবং সৃষ্টিশীল বিকাশে বিনিয়োগ করা
মানে ভবিষ্যতের উন্নত সমাজ গঠন করা এবং তিনি শিশুদেরকে অত্যন্ত ভালবাসতেন তাই
শিশুরা তাকে ভালবেসে নাম দিয়েছিলেন চাচা নেহেরু নামে। চিন্তা-ভাবনা
প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ১৪ই নভেম্বর ভারত শিশু দিবস পালন করে আসছে।
জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ কি এবং কেন
জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদ হচ্ছে, একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি যা ১৯৮৯ সালের ২০
নভেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের গৃহীত হয়। বাংলাদেশ ১৯৯০ সালে এই সনদে
স্বাক্ষর করে এবং তখন থেকে শিশুদের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশের কাজ
চলমান রয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে এই সনদের নির্দেশনা অনুসারে শিশু আইন ২০১৩,
জাতীয় শিশু নীতি ২০১১ এবং শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশন গঠন করেছে।
৫৪ টি পরিচ্ছেদে সাজানো এ সনদটিতে স্বাক্ষর করা প্রত্যেকটি দেশ ধর্ম, বর্ণ ও
সামর্থ্য নির্বিশেষে সব শিশুর অধিকার রক্ষার যে দর্শন সেটা বাস্তবায়নে
আন্তর্জাতিক আইনের দ্বারা বাধ্য করা হয়েছে। এই সনদে শিশুদের সংজ্ঞায় বলা
হয়েছে ১৮ বছরের কম বয়সী যে কোন মানুষ, যদি না অপ্রাপ্তবয়স্কদের বয়স ওই
দেশের জাতীয় আইনে অন্য কোন কিছু বলা থাকে।
এছাড়াও এই সনদের মূল দিকগুলো হচ্ছে শিশুদের জন্য বাধ্যতামূলক প্রাথমিক
শিক্ষার বাবস্থা করা, শিশুশ্রম নিষিদ্ধ করা, শিশুদের অধিকারের একটি তালিকা
প্রণয়ন করা এবং শিশুদের সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এই শিশু অধিকার সনদের চারটি মূল
স্তম্ভ রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে শিশুদের অংশগ্রহণের অধিকার, বেঁচে থাকা ও
বিকাশের অধিকার, শিশুদের সর্বোত্তম স্বার্থকে বজায় রাখা এবং শিশুদের
জন্য অবৈষম্য নীতি গ্রহণ করা।
বাংলাদেশে শিশুদের জন্য কি কি অধিকার রয়েছে
বাংলাদেশে শিশুদের জন্য যে সকল অধিকার রয়েছে তা মূলত জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ
এবং বাংলাদেশে নিজস্ব সংবিধান, শিশু আইন ২০১৩ ও জাতীয় শিশু ২০১১ এর এর আলোকে
তৈরি করা হয়েছে। যা নিচে তুলে ধরলাম
- শিশুদের বেঁচে থাকার অধিকারঃ প্রত্যেকটি শিশুর জন্য পর্যাপ্ত খাবার ও পুষ্টির অধিকার রয়েছে। নিরাপদ আশ্রয় অধিকার ও স্বাস্থ্যসেবা এবং চিকিৎসা সুবিধার অধিকার একই সাথে মাতৃ ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা অধিকার। বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫ এর ক এবং ১৮(১) অনুচ্ছেদে এই সকল অধিকার কে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
- উন্নত বিকাশের অধিকারঃ প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক আইন ১৯৯০ ও জাতীয় শিশু নীতি ২০১১ তে এই অধিকার কে নিশ্চিত করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রতিটি শিশুর শারীরিক, মানসিক, সামাজিক এবং বুদ্ধিবৃত্তিক ভাবে বিকশিত হওয়ার অধিকার রাখে।
- অংশগ্রহণের অধিকারঃ যাতে শিশু মিলিত বলা হয়েছে শিশুরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার অংশীদার হবে অর্থাৎ শিশুদের মতামত প্রকাশ করা এবং তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কাজে তাদের অংশ নেবার একটা অধিকার আছে।
- সুরক্ষার অধিকারঃ শিশু 2013 ও শিশু নীতি ২০১১ এই অধিকার রক্ষায় আইনগত কাঠামো তৈরি করা হয়েছে এই অধিকারের অন্তর্ভুক্ত হিসাবে শিশুদেরকে মানব পাচার ও যৌন শোষণ থেকে সুরক্ষা রাখতে হবে। ও বাল্যবিবাহ থেকে সুরক্ষা করতে হবে এবং পরিবার ও সমাজে নিরাপদ পরিবেশে সুরক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে।
তবে বর্তমানে উক্ত অধিকার বাস্তবায়নে কিছু সমস্যা রয়ে গেছে যেমন বাংলাদেশের
প্রেক্ষাপটে শিশু শ্রম ও বাল্যবিবাহ , প্রাথমিক শিক্ষা থেকে ঝরে পড়া শিশু
নির্যাতন ও পাচার এবং বিভিন্ন ডিজিটাল প্লাটফর্মে শিশুদের নিরাপত্তাহীনতা এ
বিষয়গুলো মূলত চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শিশু দিবস পালনের মূল উদ্দেশ্য
বাংলাদেশ স্বাধীনতার পরবর্তী সময় থেকেই শিশু অধিকার রক্ষায় কাজ করে আসছে।
বাংলাদেশ বিশ্ব শিশু দিবস জাতিসংঘের ঘোষিত দিবসের সাথে মিল রেখে ২০ নভেম্বর
বিশ্ব শিশু দিবস হিসাবে পালন করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় জাতীয় পর্যায়ে
প্রতিবছর শিশু দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি চিত্রাংকন, রচনা, সংগীত,
নাটক সহ নানা প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকে।
শিশু দিবস পালনের মূল উদ্দেশ্য বলতে গেলে শিশু নির্যাতন, শিশুশ্রম,
বাল্যবিবাহের মতো সমস্যার বিরুদ্ধে সকলকে সচেতন করা এবং প্রত্যেকের মাঝে এগুলোর
খারাপ দিকগুলো তুলে ধরা। সমাজের মধ্যে শিশুদের প্রতি আমাদের দায়িত্ববোধ ও
সহমর্মিতা তৈরি করা। তাদের শিক্ষা স্বাস্থ্য পুষ্টি এবং বিনোদনের ব্যবস্থা করা
এবং একই সাথে সুযোগ সৃষ্টি করা। শিশুদের অধিকার এবং তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত
করা।
শেষকথাঃ বিশ্ব শিশু দিবস কবে ও কেন পালিত হয়
বিশ্ব শিশু দিবস পালন করা হয় প্রত্যেক বছরের নভেম্বর মাসের ২০ তারিখে। এটি
পালনের উদ্দেশ্যই হচ্ছে বিশ্বব্যাপি শিশুদের অধিকার রক্ষা করা, তাদের শিক্ষা,
স্বাস্থ্য-পুষ্টি ও বিনোদনের ব্যবস্থা করা এবং তাদের প্রতি আমাদের যে
দায়িত্ববোধ রয়েছে সে দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করা এবং বিশ্বব্যাপী শিশু
নির্যাতন এবং বাল্যবিবাহের মতো সমস্যাগুলোর বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরি
করা।
প্রিয় পাঠক আমি বিশ্ব শিশু দিবস কবে ও কেন পালিত হয় তার বিস্তারিত সঠিক তথ্য
আপনাদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আমার এই আর্টিকেলটি যদি আপনাদের কাছে
ভালো লেগে থাকে তবে আপনার পরিচিত বন্ধুবান্ধব দের সাথে অবশ্যই শেয়ার করবেন
এবং ভুল ভ্রান্তি থাকলে অবশ্যই কমেন্টেসে জানাবেন। এই আর্টিকেলটি
শুধুমাত্র সাধারণ তথ্যের জন্য তৈরি করা হয়েছে তবে তথ্য ব্যবহার জনিত কোন
ক্ষতির জন্য লেখক বা ওয়েবসাইট কোনভাবেই দায়ী নয়।



ব্লগ টু বাজারের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url