১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ কততম বিজয় দিবস এই বিষয়ে লিখা পোস্টে আপনাদেরকে স্বাগতম। আপনারা
অনেকেই জানতে চেয়ে থাকেন ২০২৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস কততম দিবস পালন করা
হবে। তাই সেই প্রসঙ্গকে সামনে রেখে আপনাদেরকে আজকে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় উৎসব
পালনের আদ্যপান্ত জানানোর চেষ্টা করব। আপনি আমার আজকে এই আর্টিকেল থেকে জানতে
পারবেন ২০২৫ সালে কততম বিজয় দিবস উৎসব পালন করতে চলেছেন বাংলাদেশ সরকার।
এছাড়াও জানতে পারবেন কত সালে স্বাধীনতার রজত জয়ন্তী বা সিলভার জুবলি এবং কত
সালে সুবর্ণ জয়ন্তী পালন করা হয়েছিল। আরো জানতে পারবেন স্বাধীনতার ডায়মন্ড
জুবলী বা হীরক জয়ন্তী, প্লাটিনাম জুবলি ও শতবর্ষ উদযাপন কত সালে করা হবে। এছাড়া
আমি চেষ্টা করব ২৬ শে মার্চ কি দিবস এবং ১৬ই ডিসেম্বর কি দিবস অর্থাৎ স্বাধীনতা
দিবস কি এবং বিজয় দিবস কি যা আপনারা অনেকেই গুলিয়ে ফেলেন তাই আর কথা না
বাড়িয়ে চলুন আসল বিষয়ে যাওয়া যাক।
১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ কততম বিজয় দিবস উদযাপন করা হবে তা ব্যাখ্যা করার আগে আপনাদের
স্বাধীনতা দিবস প্রথম কখন কিভাবে পালন করা হয়েছিল তা একটু বর্ণনা করি। ১৯৭২
সালের ২২ জানুয়ারি প্রকাশিত একটি প্রজ্ঞাপনের দ্বারা এই দিনটিকে বাংলাদেশ জাতীয়
দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং গণ্য করা হয়। বাংলাদেশের প্রথম বিজয় দিবস উদযাপন
করা হয়েছিল ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২ সালে। আর প্রথম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করা হয়েছিল
২৬শে মার্চ ১৯৭১ সালে।
১৯৭১ সালের ১৬ ই ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর প্রায় এখানে ৯১ হজার ৬৩৪ জন সদস্য
আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে আত্মসমর্পণ করে। এর ফলে একটি স্বাধীন ও
সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের জন্ম হয়। তাই প্রতিবছর ডিসেম্বরের ১৬ তারিখ
যথাযথ ভাব গম্ভীর্য এবং বিপুল উৎসব উদ্দীপনার সাথে এই দিনটিকে বিজয় দিবস হিসেবে
উল্লেখ করা হয়। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ পুরো জাতির জন্য একটি ঐতিহাসিক
গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এবং এটি একটি জাতির আত্মত্যাগকে সবার সামনে গভীরভাবে ফুটিয়ে
তুলে।
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরের ঘটনা কি ছিলো
১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশের গৌরবের দিন কারণ ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বরে নয় মাসের
দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যৌথ বাহিনীর কাছে
আত্মসমর্পণ করেছিল। সেদিন ঢাকার ঐতিহাসিক ময়দান বর্তমান সোহরাওয়ার্দী
উদ্যানে পাকিস্তানের পক্ষে আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেন জেনারেল আমির
আব্দুল্লাহ খান নিয়াজী। তিনি আত্মসমর্পণ করেন যৌথ বাহিনীর প্রধান জেনারেল
জগজিৎ সিং অরোরার কাছে।
এই আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের মুক্তি বাহিনীর উপ
সর্বাধিনায়ক ও ডেপুটি চিফ অব স্টাফ গ্রুপ ক্যাপ্টেন আব্দুল করিম খন্দকার।
তবে এই আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত রাখা হয়নি মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক
জেনারেল আতাউল গনি ওসমানী কে। আত্মসমর্পণের সময় ছিল ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর
বিকাল ৪টা ৩১ মিনিট। এই আত্মসমর্পণের ঐতিহাসিক সাক্ষী হিসাবে উপস্থিত ছিলেন
গ্রুপ ক্যাপ্টেন একে খন্দকার এছাড়াও ভারতের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয়
চতুর্থ কোরের কমান্ডার লেফটেনেন্স জেনারেল সগত সিং, পূর্বাঞ্চলে বিমান
বাহিনীর কমান্ডার এর মার্শাল হরিচাঁদ দেওয়ান, ভারতীয় পূর্বাঞ্চলে কমান্ডের
সেনাপ্রধান জে এফ আর জ্যাকোব সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
এই আত্মসমর্পণ পত্রটি আত্মসমর্পণের দলিল হিসাবে নামকরণ করা হয় যার ইংরেজি
নাম ছিল ইন্সট্রুমেন্ট অফ সারেন্ডার (Instrument Of Surrender) . এই
আত্মসমর্পণের মাধ্যমে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সাথে বাংলাদেশী মানুষের
স্বাধীনতা সংগ্রামের যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে এবং পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশ নামক
একটি নতুন স্বাধীন রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়।
আত্মসমর্পণ দলিল কি ও তাতে কি লিখা ছিলো
বাংলাদেশের বিজয় দিবসের ইতিহাস হিসাবে আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানের স্বাক্ষরিত
দলিলে যা লেখা ছিল তা আপনাদের সামনে হুবহু তুলে ধরা হলো। উইকিপিডিয়ার
তথ্য মতে, বর্তমানে এটি দিল্লি জাতীয় জাদুঘরে প্রদর্শনের জন্য রাখা আছে।
আত্মসমর্পণ দলিলে লেখা বর্তমানে বাংলাদেশ পাকিস্তান এবং ভারত সরকারের
পাবলিক সম্পত্তি এই দলিলে লেখা ইংরেজিতে ছিল যা নিচে বাংলায় অনুবাদ করা
হয়েছে। বর্তমানে এটি দিল্লি জাতীয় জাদুঘরে প্রদর্শনের জন্য রাখা
আছে।
পূর্ব রণাঙ্গনে ভারতীয় ও বাংলাদেশ বাহিনীর জেনারেল অফিসার কমান্ডিং
ইন চিফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার কাছে
পাকিস্তানপূর্বাঞ্চলীয় সামরিক কমান্ড বাংলাদেশে অবস্থানরত
পাকিস্তানের সকল সশস্ত্র বাহিনী নিয়ে আত্মসমর্পণে সম্মত হলো।
পাকিস্তানের সেনা নৌ ও বিমান বাহিনীর সহ সব আধা সামরিক ও বেসামরিক
সশস্ত্র বাহিনীর ক্ষেত্রে এ আত্মসমর্পণ প্রযোজ্য হবে। উক্ত বাহিনী
গুলো যে যেখানে আছে সে সেখান থেকে লেফটেন্যান্ট জেনারেল জব জিৎ সিং
অরোরার কর্তৃত্বাধীন নিয়মিত সবচেয়ে নিকটস্থ সেনাদের কাছে
আত্মসমর্পণ ও অস্ত্রসমর্পণ করবে।
এই দলিল স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গে পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় সামরিক
কমান্ড লেফটেনেন্ট জেনারেল অরোরার নির্দেশের অধীনে হবে। নির্দেশ না
মানলে তা আত্মসমর্পণের শর্তের লঙ্ঘন বলে গণ্য হবে এবং তার দরুন
যুদ্ধের স্বীকৃত আইন ও নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আত্মসমর্পণের শর্তাবলির অর্থ বা ব্যাখ্যা নিয়ে কোন সংশয় বা সন্দেহ
দেখা দিলে লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার সিদ্ধান্তই
চূড়ান্ত হবে।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজৎ সিং অরোরা আত্মসমর্পণকারী সেনাদের জেনেভা
কনভেনশনের বিধি অনুযায়ী প্রাপ্য মর্যাদা ও সম্মান দেওয়ার প্রত্যয়
ঘোষণা করছেন এবং আত্মসমর্পণকারী পাকিস্তানি সামরিক ও আধা সামরিক
ব্যক্তিদের নিরাপত্তা ও সুবিধার অঙ্গীকার করছেন। লেফটেন্যান্ট
জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার অধীন বাহিনীর গুলোর মাধ্যমে বিদেশি নাগরিক
সংখ্যালঘু জাতিসত্তা ও জন্মসূত্র পশ্চিম পাকিস্তানি ব্যক্তিদের
সুরক্ষাও দেওয়া হইবে।
বিজয় দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য
জাতীয় বিজয় দিবস বাংলাদেশ একটি দিনকে নির্দিষ্ট করে পালন করে থাকে আর সেই দিনটি
হচ্ছে ডিসেম্বর মাসের ১৬ তারিখ। সামনে আসছে ডিসেম্বর মাস আমাদের কাছে খুবই
তাৎপর্যপূর্ণ কারণ এই মাসের ১৬ তারিখে আমাদের গোলামী জীবন অবসানের মাধ্যমে আমরা
আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করি। আমরা এই দিনে আমাদের
পরাধীনতার শিকল থেকে মুক্তি লাভ করতে সক্ষম হয়। ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর এই দিনে
আত্মসমর্পণ করেছিল পাকিস্তানের হানাদার বাহিনী।
এই বিজয় যে শুধু পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে ছিল বিষয়টিকে এত সহজভাবে নিলে
বিজয়ের যে তাৎপর্য আছে তা অনুধাবন করা মোটেও সহজ হবে না। এর তাৎপর্য বুঝার
জন্য আমাদেরকে আরো অনেক আগে ফিরে যেতে হবে। মূলত আমাদের এই মুক্তির সংগ্রাম শুরু
হয়েছিল ১৯৪৮ সালের রাষ্ট্রভাষার প্রশ্নে। ভাষা ও সংস্কৃতির অধিকার আদায়ের
আন্দোলনের ফলে আমাদের মাঝে জাতীয়তাবাদের সৃষ্টি হয়। এই জাতীয়তাবোধ
বাংলার অসাম্প্রদায়িক সংস্কৃতির দিকে এগিয়ে নিয়ে যায় বাঙালি জাতিকে।
বিজয় দিবসে তাৎপর্য কি বুঝতে হলে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশের খুঁজতে হবে জানতে হবে
সব শ্রেণি ও পেশার মানুষ কিভাবে হাতে থাকা লাঙ্গল, মাছ ধরার জাল, নৌকার বৈঠা,
ফেলে দিয়ে এক একজন দুর্দমনীয় বীরে রূপান্তরিত হল। ৭ই মার্চ ১৯৭১ সালে এক
ঐতিহাসিক ভাষণের পর পাকিস্তানিরা আরো সোচ্চার হতে থাকে। ফল স্বরূপ ২৫ শে মার্চ
রাতে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এরপর ২৬শে
মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর থেকে বাঙলী মুক্তিবাহিনী ধীরে ধীরে সুগঠিত হতে থাকে
তখন পাক বাহিনীর অত্যাচারের সীমা আরো বেড়ে যায়। প্রতিটি গ্রামগঞ্জে ঘুমন্ত
মানুষের বাড়িঘর কে জ্বালিয়ে দেয়। বেছে বেছে যুবকদের ধরে এনে হত্যা করে এবং
নির্যাতন চালায়। পাকিস্তানি সেনা রাজাকারদের এমন দমন-পীড়ন নির্যাতন সহ্য করতে না
পেরে বাংলা সাধারন মানুষ এক সময় সম্মিলিত চেষ্টায় জনযুদ্ধে নেমে পড়ে।
তখন বাংলার ছাত্র শিক্ষক কৃষক কামার কুমার বুদ্ধিজীবী শিক্ষিত-অশিক্ষিত
নারী-পুরুষ শিশু কিশোর সবাই অংশগ্রহণ করে এবং দেশকে শত্রু মুক্ত করার আকাঙ্ক্ষায়
তীব্র যুদ্ধ-সংগ্রাম চালিয়ে যেতে থাকে। দীর্ঘ ৯ মাসের যুদ্ধের পর বাঙালির অর্থাৎ
বাংলার মানুষের মুক্তির আকাঙ্খা পূর্ণ হয় 16 ডিসেম্বরে । তাই এই ১৬ ডিসেম্বর
আমাদের বিজয় দিবস।
নতুন প্রজন্মের কাছে বিজয় দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য
আমাদের নতুন প্রজন্মের কাছে ১৬ ডিসেম্বরের তাৎপর্যতা কেমন হতে পারে তা নিয়ে
কিছু কথা বলি।বর্তমান প্রজন্মকে বলা হয় জেনারেশন জি (Gen -Z) যার অন্য নাম
জুমার বা অভয় প্রজন্ম। ওয়াশিংটন পোস্ট এর ভাষ্যমতে, এই জেনারেশনে জন্ম
গ্রহণকারী মানুষ সাধারণত ১৯৯৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে পৃথিবীতে আগমন ঘটেছে
অর্থাৎ এ সময়ের মধ্যে জন্মগ্রহণকারী মানুষদের কি সাধারণত জেনারেশন জি বলা হয়ে
থাকে। তবে বর্তমান প্রজন্মের ভিতরে ডিসেম্বরের তাৎপর্য কেমন হওয়া উচিত তা একটু
তুলে ধরার চেষ্টা করলাম।
ইতিহাস জানার অনুপ্রেরণাঃ বর্তমান প্রজন্মের ভিতর অবশ্যয় বীর
মুক্তিযোদ্ধাদের গল্প জানার ও সংগ্রামের ইতিহাস শেখা এবং নিজেদের কে
দেশপ্রেমে পুনর্জাগরিত করার চেষ্টা করতে হবে ।
বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশের অবস্থানঃ আমাদের নতুন প্রজন্ম দেখবে কিভাবে বা
কেমন করে বিজয় চেতনা বাংলাদেশকে গর্বিত ও একটি আত্মনির্ভর জাতি হিসেবে
গড়ে তুলেছে। আমাদের জাতির মধ্যে রয়েছে সংগ্রাম ইতিহাস ও সম্ভাবনার এক
ভবিষ্যৎ।
ব্যক্তিগত অনুপ্রেরণাঃ আমাদের এই বিজয় আমাদের তরুণ প্রজন্মকে মনে করিয়ে
দিবে যদি আমরা ঐক্যবদ্ধ হই তাহলে অসম্ভবকে আমরা সম্ভব করতে পারি। কারণ ১৯৭১
সালের ১৬ই ডিসেম্বর যে বিজয় অর্জন করা হয়েছে তা আসলে খুব সহজ ছিল না। তা
মূলত সব শ্রেণীর পেশার মানুষ ভেদাভেদ ভুলে একই ছাতার নিচে আসার ফলে দীর্ঘ
সংগ্রাম যুদ্ধ করে আমরা আমাদের বিজয়কে ছিনিয়ে আনতে পেরেছি।
জাতীয় গর্ব ও পরিচয়: ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস আমাদের নতুন প্রজন্মের কাছে
হবে একটি ঐক্যের দিন। যখন তরুণ প্রজন্ম এটি বুঝবে যে এই মাটির স্বাধীনতা
এসেছে লাখো প্রাণের বিনিময়ে তখন সেটি তাদের জন্য বাংলাদেশের যে পরিচয়
গর্ব তাকে আরো দৃঢ় করবে।
প্রযুক্তি ও আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গিতে উদযাপনঃ ওদের ভবিষ্যতে বাংলাদেশের
প্রজন্ম ১৬ ডিসেম্বর উদযাপন করবে ডিজিটাল প্রদর্শনী বা অনলাইন ট্রিবিউটের
মাধ্যমে অথবা ভার্চুয়াল রিয়েলিটি মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ইত্যাদির মাধ্যমে।
আমরা আশা করতেই পারি যে আমাদের নতুন প্রজন্ম আমাদের বিচর ইতিহাস কে
প্রযুক্তির দ্বারা আরো জীবন্ত করে তুলবে।
তবে আমাদের নতুন প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস ও তাৎপর্য
অনুধাবন করাতে পারলেই আমাদের স্বাধীনতা আত্মত্যাগ ও জাতীয় গৌরব চিরকাল অটুট
থাকবে।
বিজয় দিবস 2025 উদযাপনের আয়োজন করা হবে ৫৪ তম বিজয় দিবস হিসেবে। প্রথম বিজয়
দিবস উদযাপন করা হয়েছিল ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর। ১৯৭১ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত
সময়ের ব্যবধান ৫৪ বছর তাই বাংলাদেশ বিজয় ৫৪ বছরে পদার্পণ করবে। গত বছর অর্থাৎ
২০২৪ সালে ৫৩ তম বিজয় দিবস হিসেবে উদযাপন করা হয়। তাই আমরা বলতে পারি যে ১৬
ডিসেম্বর ২০২৫ সালে ৫৪ বারের মতো বাংলাদেশ বিজয় দিবস উদযাপন করবে। আশা করি আপনারা জানতে পেরেছেন যে, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ কততম বিজয় দিবস হিসাবে পালন করা হবে।
আপনাদের জ্ঞাতার্থে জানিয়ে রাখি যে, বিজয় দিবসের ২৫ বছর পূর্তি বা রজত
জয়ন্তীর অনুষ্ঠান করা হয়েছিল ১৯৯৬ সালে। এই ২৫ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানকে রজত
জয়ন্তী বা সিলভার জুবলি বলা হয়। আর বিজয় দিবসের সুবর্ণ জয়ন্তী অনুষ্ঠিত
হয়েছিল ২০২১ সালে অর্থাৎ ২০২১ সালে বাংলাদেশ বিজয়ের ৫০ বর্ষে পদার্পণ করে এবং
বাংলাদেশ বিজয় দিবসের সুবর্ণজয়ন্তী পালন করেন। এই ৫০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানকে
সুবর্ণ জয়ন্তী বা গোল্ডেন জুবিলী নামে পরিচিত।
বিজয় দিবস কত সালে কোন জয়ন্তী পালন করা হবে
১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ কততম বিজয় দিবস তা তো জানা হলো এখন এই পর্যায়ে আমরা এক পলকে
জেনে নেই ভবিষ্যতে বাংলাদেশে স্বাধীনতার বিজয় দিবস কোন বছরে কোন জয়ন্তী
পালন করা হবে এবং কত সালে স্বাধীনতার ১০০ বছর পূর্ণ হবে। একই সাথে জেনে নেই
কত বছর পূর্ণ হলে তাকে কি জয়ন্তী বলা হয়।
২৫ বছর পূর্তিকে বলা হয়: রজত জয়ন্তী বা সিলভার জুবলি।
৫০ বছর পূর্তিকে বলা হয়: সুবর্ণ জয়ন্তী বা স্বর্ণ জয়ন্তী যা ইংরেজিতে
গোল্ডেন জুবিলী নামে পরিচিত।
৬০ বছর পূর্তিকে বলা হয়: হীরক জয়ন্তী বা ডায়মন্ড জুবলি।
৭৫ বছর পূর্তিকে বলা হয়: প্লাটিনাম জুবলি নাম রজত জয়ন্তী নামে
পরিচিত।
১০০ বছর পর থেকে বলা হয়: শতবর্ষ বা সেঞ্চুরি জুবলি।
১৫০ বছর পর থেকে বলা: হয় সার্ধশত (Sesquicentennial)
২০০ বছর পূর্তিকে বলা হয়: দ্বিশত বর্ষ (Bicentenary)
বাংলাদেশে বিজয় দিবসের হীরক জয়ন্তী পালন করা হবে ৬০ তম বার্ষিকীতে। সেই
হিসেবে ২০৩১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার হীরক জয়ন্তী পালন করা
হবে।
বাংলাদেশ বিজয় দিবসের প্লাটিনাম জুবলি উদযাপিত হবে ২০৪৬ সালে।
বাংলাদেশের বিজয় দিবসের শতবর্ষ 100 বছর পূর্তি পালন করা হবে বা উদযাপন
করা হবে ২০৭১ সালে।
বাংলাদেশ এর বিজয় দিবসের সার্ধশত বর্ষ উদযাপন করা হবে ১৫০ বছর পূর্তিতে
সে হিসেবে তখন সাল হবে ২১২১ সালে।
মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয় ও স্বাধীনতার ঘোষণার মাঝেই মূলত লুকিয়ে আছে
বিজয় দিবস ও স্বাধীনতা দিবসের পার্থক্য। আপনার এমন অনেকে আছেন যারা বিজয়
দিবস কি এবং স্বাধীনতা দিবস কি বা বিজয় দিবস কোন দিন এবং স্বাধীনতা দিবস
কোন দিন এই বিষয়গুলো গুলিয়ে ফেলেন যা একজন বাংলাদেশী হিসাবে খুবই লজ্জার।
তাই আমি এ পর্যায়ে আপনাদেরকে বিজয় দিবস এবং স্বাধীনতা দিবস কি এবং তা কবে
পালন করা হয় টা পরিষ্কার করে দিচ্ছি।
স্বাধীনতা দিবসঃ ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানের হানাদার বাহিনীর
আক্রমণের পর ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়।
সেই ঘোষণা অনুযায়ী প্রত্যেক বছরের ২৬ শে মার্চকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা
দিবস হিসেবে গণ্য করা হয়। ২৬ শে মার্চ কে স্বাধীনতা দিবস বলা হয়
কারন সেদিন প্রথম ঘোষণা করা হয়েছিল যে, আজকে থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন। ১৯৭২
সালের ২২শে জানুয়ারি প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই দিনটিকে
বাংলাদেশের জাতীয় দিবস হিসেবে উদযাপন করা হয় এবং স্বাধীনতা দিবস ঘোষণা
করা হয় এবং এই দিনটিতে ছুটিও ঘোষণা করা হয়। তাই ১৯৭২ সাল হতে প্রতিবছর ২৬
শে মার্চ স্বাধীনতা দিবস হিসাবে উদযাপন করা হয়।
বিজয় দিবসঃ ২৬ শে মার্চ প্রথম প্রহরে স্বাধীনতা ঘোষনার পর পাকিস্তানের
হানাদার বাহিনীর সাথে দীর্ঘ নয় মাসব্যাপী এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে
আমাদের স্বাধীনতা পূর্ণতা পায় অর্থাৎ আমরা স্বাধীন হিসেবে বিজয় লাভ করি।
নয় মাসের দীর্ঘ সংগ্রাম যুদ্ধের পরে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানী
হানাদার বাহিনী আমাদের কাছে আত্মসমর্পণ করে। এই আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানটি ছিল
আমাদের কাছে স্বাধীনতার বিজয় উৎসব। এই বিজয়ের মাধ্যমেই পৃথিবীর মানচিত্রে
অঙ্কিত হয় বাংলাদেশ নামক লাল সবুজের পতাকা। তাই ১৯৭২ সাল থেকে প্রতি ১৬
ডিসেম্বরকে বাংলাদেশের বিজয় দিবস হিসেবে উদযাপন করা হয়। এটিকে ১৯৭২ সালের
প্রকাশিত একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জাতীয় দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং
এদিন ছুটি ও ঘোষণা করা হয়।
শেষকথাঃ ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ কততম বিজয় দিবস
আমরা উপরোক্ত আর্টিকেলটির থেকে জানতে পারলাম যে, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ সালকে
৫৪তম বিজয় দিবস হিসেবে উদযাপন করা হবে। আমরা আরো জানতে পারলাম যে, বিজয়
দিবস কি এবং স্বাধীনতা দিবস কি? একই সাথে জানলাম ২৬ মার্চ কে স্বাধীনতা
দিবস এবং ১৬ ডিসেম্বরকে বিজয় দিবস হিসাবে উদযাপন করা হয়। এছাড়াও জানলাম
যে, ২০৩১ সালে স্বাধীনতার হীরক জয়ন্তী বা সিলভার জুবিলী উদযাপন করা হবে।
প্রিয় পাঠক আমি চেষ্টা করেছি আপনাদেরকে সর্বোচ্চ নির্ভুল তথ্য উপস্থাপন
করার। এরপরেও যদি কোন ভুল ভ্রান্তি আপনার লক্ষ্য করে থাকেন তবে তা আমাকে
জানাবেন আমি পরবর্তীতে ঠিক করে দেবো। এছাড়াও আমার আজকের আর্টিকেলটি
আপনাদের কাছে ভালো লেগে থাকে বা আপনাদের কোন উপকারে আসে তবে আপনারা
আপনাদের আত্মীয়-স্বজন পরিচিত বন্ধুবান্ধবদের সাথে অবশ্যই শেয়ার করবেন।
ব্লগ টু বাজারের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url