কিভাবে ফেসবুকে কন্টেন্ট মনিটাইজেশন পাবেন তার পূর্ণাঙ্গ গাইড

কিভাবে ফেসবুকে কন্টেন্ট মনিটাইজেশন পাবেন তার একটি কমপ্লিট সলিউশন অর্থাৎ পূর্ণাঙ্গ একটি গাইডলাইন আপনাদেরকে দেখিয়ে দেবো। আজকের এই পোস্টে আপনি ফেসবুকে মনিটাইজেশন থেকে শুরু করে ডলার উইথড্রো করা পর্যন্ত সকল দরকারী তথ্য পেয়ে যাবেন। যার দ্বারা আপনি  খুব সহজেই  ফেসবুক থেকে ডলার ইনকাম করতে পারবেন।

তবে শুরুতেই আপনাদেরকে একটি সুখবর দিয়ে শুরু করি। ফেসবুক তার আগের নিয়মে শুধুমাত্র তাদেরকেই মনিটাইজেশন দিতো যাদের পেজে অনেকগুলো ভিউ আছে ও নির্দিষ্ট সংখ্যক ফলোয়ার্স আছে। কিন্তু এখন তাদের নতুন নিয়ম অনুসারে ব্যক্তিগত আইডি থেকেও মনিটাইজেশন পাওয়া যাচ্ছে তাই এখন থেকে আপনি আপনার ব্যক্তিগত আইডি দিয়েও ফেসবুক থেকে ইনকাম করতে পারবেন। তাই চলুন কথা না বাড়িয়ে ফেসবুক থেকে আয় করার খুঁটিনাটি সকল কিছু জেনে নেওয়া যাক। 

পোস্ট সূচিপত্রঃ কিভাবে ফেসবুকে কন্টেন্ট মনিটাইজেশন পাবেন

কিভাবে ফেসবুকে কন্টেন্ট মনিটাইজেশন পাবেন

কিভাবে ফেসবুকে কন্টেন্ট মনিটাইজেশন পাবেন তার উপায় হিসাবে যে বিষয়গুলো উল্লেখ করতেই হবে তা হচ্ছে , ফেসবুকে একটি নতুন ফিচার কনটেন্ট মনিটাইজেশন যার মাধ্যমে আপনি আনলিমিটেড ইনকাম করতে পারবেন। ফেসবুক থেকে আনলিমিটেড ইনকাম করার জন্য আপনাকে ছবি ,স্টোরি টেক্সট, বিভিন্ন রকমের রিলস তৈরি করতে হবে এবং তা ফেসবুকে আপলোড করতে হবে।

ফেসবুকে কনটেন্ট মনিটাইজেশন পাওয়ার জন্য আপনাকে প্রথমেই একটি সঠিক অ্যাপ ব্যবহার করতে হবে সঠিক অ্যাপ ব্যবহার না করলে আপনি কন্টেন্ট মনিটাইজেশনের ফিচারে আবেদন করতে পারবেন না। যেমন আপনি যদি ফেসবুক লাইট অ্যাপ থেকে কনটেন্ট মনিটাইজেশন এর জন্য আবেদন করেন তাহলে আপনি আবেদনের অপশনই খুঁজে পাবেন না।

তারমানে আপনাকে এখন গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপ স্টোর থেকে মেটা প্ল্যাটফর্ম এর অফিসিয়াল ফেসবুক অ্যাপটি ইন্সটল করতে হবে। এরপর প্রফেশনাল মোড চালু করে থ্রি ডট মেনুতে ক্লিক করতে হবে এবং টার্ন অন প্রফেশনাল মুড চালু করতে হবে। অথবা ফেসবুক মনিটাইজেশন অপশন চালু করার জন্য ক্রিয়েটর ষ্টুডিও ওয়েবসাইটে ঢুকতে হবে। 

সেখানে লক্ষ্য করলে দেখবেন বাম পাশে মনিটাইজেশন নামে একটি অপশন আছে। এই মনিটাইজেশন অপশন থেকে আপনি জানতে পারবেন আপনি ফেসবুকে মনিটাইজেশন পাবেন কিনা। সেখানে কিছু ক্রাইটেরিয়া বা শর্ত দেওয়া থাকবে উক্ত শর্তগুলো আপনি ভালোভাবে পড়ে নিবেন তারপর যদি আপনি শর্তগুলো পূরণ করতে পারেন তবেই এপ্লাই বাটনে ক্লিক করে আপনি আবেদনের কাজ শুরু করবেন।

ওখানে যে শর্তগুলো থাকবে সে শর্তগুলো আপনাকে আমি এখানেই একের পর এক বলে দিচ্ছি, এক নম্বর শর্ত থাকবে আপনি যে ভিডিওগুলো আপনার ফেসবুক একাউন্টে আপলোড করেছেন  সেগুলোতে গত দুই মাস অর্থাৎ ৬০ দিনে ৬ লক্ষ মিনিট ওয়াচ টাইম থাকতে হবে। ভিডিওগুলোর দৈর্ঘ্য সর্বনিম্ন তিন মিনিট হতে হবে এবং অবশ্যয় পাঁচটি অ্যাকটিভ সক্রিয় ভিডিও থাকতে হবে। 

দুই নাম্বার শর্ত যেটি থাকে সেটি হচ্ছে আপনার পেজ বা ফেসবুক একাউন্টে সর্বনিম্ন ১০ হাজার ফলোয়ার থাকতেই হবে। এছাড়াও আপনার কনটেন্টগুলো ফেসবুকের যে মনিটাইজেশন নীতিমালা রয়েছে সে নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। এছাড়াও আপনাকে ফেসবুকের অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশন করে রাখতে হবে। ফেসবুকের অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশন করার জন্য আপনার অ্যাকাউন্ট বা ফেসবুক পেজের about সেকশন পুরোপুরি ফিলাপ করে প্রোফাইল ও কভার ফটো যুক্ত করতে হবে। 

এরপর আপনি লক্ষ্য রাখবেন যে আপনার একাউন্টের টু ফ্যাক্টর অথেননিটিকেশন চালু আছে কিনা। চালু না থাকলে চালু করে নিতে হবে। উপরের সকল কাজগুলো সফলভাবে শেষ করলে এবং ফেসবুক কর্তৃপক্ষের কাছে আপনার আবেদন অনুমোদিত হলে আপনার ভিডিওতে অ্যাড বা বিজ্ঞাপন যুক্ত হবে এবং আপনি আয় করা শুরু করতে পারবেন। প্রিয় পাঠক আপনি কিভাবে উক্ত কাজগুলো ধাপে ধাপে সম্পন্ন করবেন তা আমি এখন আপনাদের সামনে উল্লেখ করছি। আপনার কাছে শুধু অনুরোধ আপনি ধৈর্য ধরে পড়তে থাকুন আপনি সফল হবেনই হবেন।

ফেসবুক মনিটাইজেশন চালু করার পদ্ধতি

ফেসবুক মনিটাইজেশন আবেদন করার জন্য আপনাকে প্রথমে google এর সার্চ বারে গিয়ে সার্চ করতে হবে ক্রিয়েটর ষ্টুডিও (Creator Studio) এরপর প্রথম যে লিংকটি আছে মেটা ফর বিজিনেস ব্রাকেটে লেখা থাকবে ফরমালি ফেসবুক ফর বিজনেস লিংকে ক্লিক করতে হবে। এরপর আপনার ফেসবুক পেজ বা একাউন্টের মনিটাইজেশন স্ট্যাটাস সম্পর্কে জানার জন্য এবং আবেদন করার জন্য বাম পাশে মনিটাইজেশন অপশন দেখতে পাবেন যা ছবির মাধ্যমে আপনাকে দেখিয়ে দেওয়া হয়েছে। 

এরপর বাম পাশের মনিটাইজেশন অপশনে গেলে আপনার পেজ মনিটাইজেশনের জন্য যোগ্য কিনা তা দেখাবে। যদি যোগ্য হয় তাহলে এপ্লাই বাটনে ক্লিক করে আবেদনের কাজ শুরু করুন। এরপর আপনার আবেদনের যে প্রসেস আছে উক্ত প্রসেস গুলো সম্পন্ন করে আবেদনের কাজ শেষ করুন। ফেসবুক কর্তৃপক্ষ আপনার আবেদন রিভিউ করে তাদের সিদ্ধান্ত জানাবে।

ফেসবুক মনিটাইজেশান পলিসি বা নীতিমালা  

ফেসবুকে মনিটাইজেশন পাওয়ার জন্য যে সকল শর্তগুলো আপনাকে পূরণ করতে হবে তা নিচে ধাপে ধাপে উল্লেখ করছি আপনি মন দিয়ে পড়বেন আপনি যদি এই শর্তগুলো পূরণ করতে পারেন তাহলে আপনি মনিটাইজেশনের জন্য আবেদন করতে পারবেন। শর্ত নাম্বার এক, গত দুই মাস অর্থাৎ ৬০ দিনে আপনার আপলোডকৃত ভিডিওতে ৬ লাখ মিনিট ওয়াচ টাইম থাকতে হবে। 

শর্ত নাম্বার ২, সর্বনিম্ন পাঁচটি ভিডিও থাকতে হবে। শর্ত নম্বর তিন, প্রতিটি ভিডিও নিম্নতম তিন মিনিটের হতে হবে। শর্ত নাম্বার চার, আপনার ফেসবুক পেজ বা অ্যাকাউন্টে কমপক্ষে 10000 ফলোয়ার থাকতে হবে। এছাড়াও আপনাকে ফেসবুকের পেজ ও কনটেন্ট ফেসবুক মনিটাইজেশন পলিসি অনুসরণ করতে হবে।

এক্ষেত্রে আপনার জন্য পরামর্শ হচ্ছে যে, আপনি প্রথমে ফেসবুকের মনিটাইজেশন পলিসি গুলো ভালোভাবে পড়ে নিবেন এবং তা আপনি পূরণ করতে যথাযথভাবে সক্ষম কিনা, তা আগে ভেবে চিন্তে নিবেন। তারপরে আপনি ফেসবুকে মনিটাইজেশনের জন্য আবেদন করবেন। আপনি ভালোভাবে সবকিছু ফিলাপ করে তাদের শর্তগুলো পূরণ করে যদি একবার মনিটাইজেশন পেয়ে যান তাহলে আপনাকে আর কখনো পিছন ফিরে তাকাতে হবে না। কারণ তখন আপনার ডে বাই ডে মানে দিনের পর দিন ইনকাম হতেই থাকবে এবং তা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেতে থাকবে।

নতুন ফেসবুক কনটেন্ট মনিটাইজেশন পলিসি

আপনাদের সুবিধার জন্য ফেসবুক মনিটাইজেশন টুলস সম্পর্কে একটি আপডেট তথ্য দিয়ে রাখি। তা হচ্ছে ৩১ আগস্ট,২০২৫ থেকে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ তাদের ফেসবুকের মনিটাইজেশন টুলসে একটি নতুন আপডেট নিয়ে এসেছে। এই পরিবর্তনের প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এটি একটি একক ড্যাশবোর্ড এর মাধ্যমে আপনার সমস্ত মনিটাইজেশন টুলস এবং অর্থ বা ডলার ইনকামের হিসাব দেখা যাবে। 

এর অর্থ হচ্ছে পুরনো ইন স্ট্রিম এডস, রিলস অ্যাড এবং এবং বোনাস প্রোগ্রাম গুলোকে একটি একক কন্টেন্ট মনিটাইজেশন প্রোগ্রামের দ্বারা একসাথে করা হয়েছে। বিষয়টি মনে হয় কঠিন হয়ে গেল বুঝাতে পারলাম না, তবে সহজ ভাবে বলছি। আগের নিয়মে আপনার মনিটাইজেশন টুলসের জন্য একটি আলাদা ড্যাশবোর্ড থাকতো এবং আপনার টাকা উপার্জন বা ডলার ইনকামের হিসাব আরেকটি ড্যাসবোর্ডে দেখা যেত। কিন্তু এখন এ দুটি ড্যাশবোর্ডকে একসাথে করার ফলে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য সুবিধা জনক হয়েছে আপনি একসাথে সকল কিছু দেখতে পাচ্ছেন।

এই নতুন প্রোগ্রামের মূল বৈশিষ্ট্য গুলো হচ্ছে 
    একটি একক ড্যাশবোর্ডঃ সমস্ত মনিটাইজেশন টুলস এবং আপনার ফেসবুক থেকে দৈনন্দিন আয় আপনি একটি ড্যাসবোর্ডের মাধ্যমেই দেখতে পারবেন।
  • মাল্টি কন্টেন্ট টাইপঃ আপনি শুধু আগে রিলস এবং লং ভিডিওর জন্যই টাকা আয় করতে পারতেন কিন্তু এখন শুধু রিয়েলস এবং লং ভিডিওর জন্য নয়। এখন থেকে আপনি আপনার ফেসবুক পেজ বা অ্যাকাউন্টে আপলোডকৃত ফটো এবং টেক্সট পোস্ট থেকেও আয় করতে পারবেন। ধরেন কি যে আপনি একটি বড় টেক্সট বা হিস্টরি বা গল্প লিখছেন কেউ আপনার ওখানে সেটি পড়ছে সেটি আপনার ওয়াচ টাইম হিসেবে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ গণ্য করবেন।
  • টাকা বা ডলার ইনকামের পরিমাণঃ বর্তমানের এই আপডেট নিয়ম অনুযায়ী আপনার টাকা বা ডলার ইনকামের পেমেন্ট নির্ভর করবে আপনার ফেসবুক একাউন্ট বা পেজের ভিউ এনগেজমেন্ট এবং ওয়াচ টাইম এর উপর।

ফেসবুক কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য করণীয়

যোগ্যতা যাচাই করুনঃ প্রফেশনাল ড্যাশবোর্ড থেকে আপনি আপনার যোগ্যতা যাচাই করুন। সেখানে আপনার যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য বিভিন্ন রকমের ধাপ থাকে সে ধাপগুলো উত্তীর্ণ হওয়ার চেষ্টা করুন। কনটেন্ট মনিটাইজেশন যোগ্যতা অর্জনের করতে বিভিন্ন পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য আপনাকে আবেদন করতে হবে। এই আবেদনের অপশনটি প্রফেশনাল ড্যাশবোর্ডের মধ্যেই পাবেন অথবা মেটা বিজনেস স্যুট এ লগইন করুন।

আকর্ষণীয় এবং অরজিনাল মৌলিক কনটেন্ট তৈরি করার চেষ্টা করুন এবং কপি পেস্ট বা স্প্যাম করা হতে বিরত থাকুন প্রতিনিয়ত ফেসবুক আপডেট হচ্ছে তাই ফেসবুক কর্তৃপক্ষের আপডেট তথ্য পেতে  নজর রাখুন। এছাড়াও কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড যেন ভঙ্গ না হয় সে ব্যাপারে সজাগ থাকুন। সর্বদাই কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড বজায় রাখার চেষ্টা করুন। 

মনিটাইজেশন চলে গেলে ফিরে পাবেন যেভাবে

ফেসবুক কন্টেন্ট মনিটাইজেশন কি কারনে চলে যায় বা বন্ধ হয়ে যায় ? সে ব্যাপারে আগেই আপনাদের একটা ক্লিয়ার কনসেপ্ট দেয়। মেটা কর্তৃপক্ষ স্প্যাম কমেন্টস ও স্প্যাম লিংক এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করার কারণ হিসেবেই মনিটাইজেশন বন্ধ হয়। এছাড়াও আরো যে সকল গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে তার মধ্যে কপি পোস্ট করা বা অন্য কারো কনটেন্টকে কপি করে পোস্ট করা।

ভবিষ্যতে যারা কপি করা কনটেন্ট পোস্ট করবেন তাদের পেজ বা ফেসবুক অ্যাকাউন্ট আর কখনোই মনিটাইজেশনের আওতায় নিয়ে আসবে না ফেসবুক বা মেটা কর্তৃপক্ষ। আবার একই কনটেন্ট বারবার পোস্ট করার কারণেও আপনার মনিটাইজেশন বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাহলে বুঝতে পারছেন আপনার মনিটাইজেশন কি কারনে বন্ধ হতে পারে।

তবে যে কারণেই বন্ধ হোক না কেন কিছু কিছু ক্ষেত্রে আপনি মনিটাইজেশন ফেরত পেতে পারেন। কিভাবে ফেরত পাবেন সে সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস আপনাদের সাথে শেয়ার করছি। ক্রিয়েটর ষ্টুডিও তে গিয়ে মনিটাইজেশন অপশন ক্লিক করুন এবং ভালো করে খেয়াল করুন আপনার কোন কন্টেন্ট কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড ভঙ্গ করেছে কিনা। যদি কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড এর নিয়ম ভঙ্গ করে থাকেন তবে সেই পোস্টটি এডিট করুন বা ডিলিট করে দিন। এছাড়াও আপনার জন্য যদি আপিল করার সুযোগ থাকে তবে আপনি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই আপিলের আবেদন করুন। আবেদন করার পর পর্যালোচনার মাধ্যমে আপনার মনিটাইজেশন ফেরত পেতেও পারেন।

কনটেন্ট মনিটাইজেশনে যে কন্টেন্টে বেশি আয় হয় 

সব কন্টেন্টেই কি একই সমান ইনকাম হয় ? না সব কন্টেন্টেই সমান ইনকাম হয় না। কিছু কিছু কনটেন্ট আছে যেগুলোতে একেবারেই কম ইনকাম হয়। যেমন শুধুমাত্র ছবি পোস্ট করা বা শুধুমাত্র স্ট্যাটাস দেওয়া কনটেন্ট থেকে খুবই কম ইনকাম হয়। আবার যদি কোন কপিরাইট যুক্ত ভিডিও আপনি আপলোড করেন সেগুলো থেকেও কম ইনকাম আসবে। এমনকি আপনার মনিটাইজেশন বন্ধ হয়ে যেতে পারে আবার অনেক সময় অনেক বিতর্কিত কন্টেন্ট যেমন রাজনৈতিক অর্থাৎ এমন কনটেন্ট যা জাতীয় পর্যায়ে বিতর্ক তৈরি করতে পারে এরকম কনটেন্ট আপলোড করলে আপনার বিজ্ঞাপন বন্ধ করে দিতে পারে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। 

তাই সবরকম কনটেন্ট নিয়ে কাজ করা যাবে না যে কন্টেন্টগুলো আপনার ইনকামের জন্য হুমকিস্বরূপ সেগুলো বাদ দিয়েই আপনাকে কনটেন্ট আপলোড করতে হবে। তাই অবশ্যয় আপনার জানা প্রয়োজনগুলো আপনার জন্য কোন কন্টেন্টগুলো বেশি ইনকামের হবে এবং আপনার ভিউ বাড়বে। নিচে এমন কিছু কনটেন্টের ক্যাটাগরি  উল্লেখ করছি যেগুলো নিয়ে কাজ করলে আপনার রেনডমলি ইনকাম বাড়বে এবং আপনি সফলও হতে পাবেন।
  1. তথ্যবহুল এবং শিক্ষামূলক কনটেন্টঃ অনলাইন থেকে ইনকামের পদ্ধতি যেমন ডিজিটাল মার্কেটিং শেখা, ডাটা এন্ট্রি, ওয়েব ডিজাইন অর্থাৎ বিভিন্ন রকম স্কিল ডেভেলপমেন্টের ভিডিও থেকে বেশি পরিমাণে আপনি ডলার ইনকাম করতে পারবেন। আবার বিভিন্ন রকম ভাষা শিক্ষা, টেকনোলজিক্যাল বা প্রযুক্তিগত টিপস এইসব ক্যাটাগরির ভিডিও থেকে বেশি ইনকাম করা সম্ভব। কারণ এখানে দর্শকের ভিউ বেশি পাওয়া যায় এবং যারা অ্যাডস বা বিজ্ঞাপন দেয় তারা বেশি অর্থ ব্যয় করে থাকে। তাই এইসব ক্যাটাগরি থেকে টাকা বেশি ইনকাম করা যায়। 
  2. রান্না বা রেসিপি নিয়ে তৈরি করা ভিডিওঃ সারা বছর টপ পজিশনে থাকে এসব ক্যাটাগরির ভিডিও কারণ এগুলো কোন সিজনাল ভিডিও নয় এগুলো সারা বছরেই মানুষের প্রয়োজন হয় এবং মানুষ এগুলো থেকে টিপস বা কৌশল গ্রহণ করে। এমনকি এই সকল ভিডিও সার্বজনীনভাবে জনপ্রিয় অর্থাৎ ছোট থেকে বড় যে কোন বয়সের মানুষ এই ভিডিও দেখতে ভালোবাসে বিশেষ করে যারা রান্না শেখার জন্য ভিডিও সার্চ দেয় তাদেরকে টার্গেট করতে পারে এই সকল ভিডিও। এই ক্যাটাগরি ভিডিও শুধুমাত্র দেশে নয় দেশ থেকে বিদেশে পর্যন্ত ভালো চলে। যেমন ধরুন বাংলাদেশে অনেক প্রবাসী ভাই ও বোনেরা যুক্তরাষ্ট্র, ইংল্যান্ড, কানাডা, ইতালি বা ইউরোপের বিভিন্ন দেশে থাকে। এসব দেশ থাকা মানুষ যদি তাদের দেশ থেকে আপনার ভিডিও দেখে তাহলে আপনার ইনকাম আরো বেশি হবে। কারণ ওইসব দেশের সিপিএম আরও অনেক বেশি। আর সিপিএম যত বেশি হবে আপনার ইনকামও তত বাড়বে। এছাড়াও আপনি এ সকল ভিডিওতে মাঝেমধ্যে প্রোডাক্ট ব্র্যান্ডিং করেও ইনকাম করতে পারবেন। যেমন বিভিন্ন রকম রান্নার উপকরণ, টুলস বা কিচেন টুলস। এছাড়াও এতে ইন স্ট্রিম অ্যাডস আবার একই সাথে ব্র্যান্ডেড কন্টেন্ট স্কলারশিপ অর্থাৎ উভয়টির দ্বারাই ইনকাম করতে পারবেন। 
  3. এন্টারটেইনমেন্ট বা বিনোদনমূলক ভিডিওঃ এখন সব বয়সের সকল মানুষই বিনোদন প্রিয় অর্থাৎ সকলেই বিনোদন চাই। বয়স ভেদাভেদ ভুলে সবাই বিনোদনে মজতে চায়। তাই আপনার ফেসবুক থেকে টাকা ইনকামের জন্য একটি সবচাইতে ভালো ক্যাটোগরির মধ্যে হচ্ছে বিনোদনমূলক ভিডিও। আপনার ফেসবুক কন্টেন্ট মনিটাইজেশন থেকে টাকা ইনকাম কে নেক্সট লেভেলে নিয়ে যেতে চাইলে আপনাকে অবশ্য়য় বিনোদনমূল ভিডিওর দিকে ফোকাস করতে হবে। বিনোদনমূলক ভিডিওর মধ্যে মজার বা ফানি ভিডিও, চ্যালেঞ্জ ভিডিও, প্যারোডি এবং কমেডি ইত্যাদি ভিডিওতে মানুষ বেশি বেশি শেয়ার করে এবং বেশি সময় ধরে দেখতে পছন্দ করে। তাই এসব ভিডিও থেকে আপনার ইনকাম হার অনেক বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়াও এসব ভিডিও মানুষ শেয়ার করে যার ফলে ভিউ এবং ইন-স্ট্রিম অ্যাড বেড়ে যায় ফলে আপনারা ইনকামও বাড়তে থাকে।
  4. অনুপ্রেরণা মূলক বা মোটিভেশনাল কন্টেন্টঃ এমন কিছু ভিডিও রয়েছে যা মানুষকে বিভিন্ন কাজে উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা যোগায় মানুষ এই সকল ভিডিও দেখতে বেশি পছন্দ করে। ভিডিওগুলো যদিও ছোট হয় কিন্তু মানুষ ছোট ভিডিও হওয়ার কারণে সময় নিয়ে দেখতে ভালোবাসে। এছাড়াও মোটিভেশনাল ভিডিও গুলো সরাসরি লাইভে এসে করা যায়। আর লাইভে থাকা অবস্থায় ইনকাম রেট অনেক বেশি হয়। এছাড়াও লাইভে থাকা অবস্থায় ভিডিওতে অনেক বেশি বেশি কমেন্ট ও শেয়ার হওয়ার কারণে ভিডিওগুলোর এনগেজমেন্ট অনেক বেশি হয় তাই আপনার ইনকামও অনেক বেড়ে যায়। 
  5. গেমিং স্ট্রিমিং বা কন্টেন্টঃ অনলাইন জগতের একটি বড় জায়গা দখল করে আছে ফেসবুক গেমিং ফলে এটিকে একটি বড় ইন্ডাস্ট্রিও বলা চলে। এখানে কিছু গেম রয়েছে যেগুলো খুবই জনপ্রিয় এবং মানুষ পর্যাপ্ত সময় দিয়ে খেলতে থাকে যেমন পাবজি, ফ্রি ফায়ার, জিটিএভি, মিনিক্রাফট ইত্যাদির থেকে অনেক বেশি বেশি ইনকাম করা সম্ভব। এছাড়াও গেমিং স্ট্রিমিং এ স্টারস , স্পন্সারশিপ, ইন স্ট্রিম অ্যাড সবগুলো একই সাথে পাওয়া যায়। 
  6. লাইফ স্টাইল এবং ভ্রমণ বিষয়ক কন্টেন্টঃ মানুষ এখন জীবন যাপন সম্পর্কে অনেক বেশি সচেতন তাই মানুষ লাইফস্টাইল সম্পর্কিত কনটেন্ট বা ভিডিও দেখতে বেশি ভালোবাসে। এছাড়াও বর্তমান সময়ে প্রত্যেকটি মানুষই বেশি বেশি ভ্রমন করতে পছন্দ করে অর্থাৎ আগের চাইতে মানুষ এখন বেশি ভ্রমণ প্রিয় হচ্ছে তাই ভ্রমন সংক্রান্ত ভিডিও মানুষ বেশি দেখতে চাই। তাই এই সকল ভিডিও আপলোড করলে আপনার ইনকামও বেশি হবে। এছাড়াও বিভিন্ন নামিদামি ব্র্যান্ড কোম্পানিগুলো এইসব ভিডিওতে স্পন্সর করতে বেশি আগ্রহী থাকে। ফলে আপনি বেশি বেশি অ্যাডস দেখাতে পারবেন এবং আপনার ইনকামও বেশি বেশি বাড়তে থাকবে। 
  7. আনবক্সিং ভিডিও বা প্রোডাক্ট রিভিউঃ এ ধরনের ভিডিওর প্রতি মানুষের আগ্রহটা সবসময় একটু বেশিই থাকে। কারণ কোন প্রোডাক্টের রিভিউ কেমন তা দেখে মানুষ পণ্য কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করে। মানুষের  প্রোডাক্ট রিভিউ ভিডিও দেখার প্রতি আগ্রহ অনেক থাকে। তাই আপনি যদি এ সম্পর্কিত ভিডিও আপলোড করেন তাহলে আপনি ইনকাম বেশি বেশি করতে পারবেন। আবার আনবক্সিং ভিডিওর প্রতিও মানুষের প্রবল আগ্রহ থাকে তাই আপনি এই সকল ভিডিও বেশি বেশি আপলোড করবেন আপনার ইনকামও যত বেশি বেশি হবে। এছাড়াও আপনি এই সকল ভিডিওতে বিভিন্ন কোম্পানির প্রোডাক্ট সেল করেও কমিশন পেয়ে ইনকাম বাড়াতে পারবেন।

ফেসবুক মনিটাইজেশানে কি কি উপায়ে আয় করা যায় 

আপনারা জেনে আনন্দিত হবেন যে ফেসবুক মনিটাইজেশনে আয়ের অনেকগুলোই মাধ্যম বা উপায় রয়েছে। আপনার আয়ের পরিমাণ নির্ভর করবে আপনি কি ধরনের কনটেন্ট তৈরি করছেন এবং আপনার পেজ বা প্রোফাইলের এঙ্গেজমেন্টের ধরনের উপর। নিচে কিছু আয়ের মাধ্যম গুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরছি।
  • ইন স্ট্রিম অ্যাডসঃ অ্যাডস এর মাধ্যমে আপনি আপনার ভিডিও কনটেন্টে বিজ্ঞাপন যুক্ত করে আয় করতে পারবেন। বিজ্ঞাপন বা অ্যাডসগুলো সাধারণত আপনার ভিডিও শুরুতে এবং শেষে বা মাঝেও আসতে পারে। এই ভিডিওর মাধ্যমে অ্যাডস দেখিয়ে বা বিজ্ঞাপন দেখিয়ে ইনকাম করার জন্য কি কি যোগ্যতা থাকা লাগবে তা পূর্বে আলোচনা করা হয়েছে তাই আর আলোচনা দীর্ঘায়িত না করে পরের স্টেপে বা পরের ধাপে চলে যাচ্ছি। 
  • ফেসবুক রিলস মনিটাইজেশনঃ ফেসবুকে ছোট ছোট ভিডিও তৈরি করে আয়ের সুযোগ রয়েছে এই ছোট ছোট ভিডিওগুলোকে ফেসবুকের ভাষায় রিলস বলা হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে রিলস থেকে বিজ্ঞাপন দেখিয়ে ইনকাম করার জন্য আপনাকে ওভারলে অ্যাডস বা রিলস অ্যাডস একটিভ করতে হবে। 
  • ফেসবুক গেমিং ক্রিয়েটর প্রোগ্রামঃ এখানে ইনকামের পদ্ধতিটা এরকম যে দর্শকরা ফেসবুক থেকে স্টার্স (✶) কিনবে এবং আপনাকে পাঠাবে যার মাধ্যমে আপনি ফেসবুক থেকে ডলার ইনকাম করতে পারবেন। এক্ষেত্রে আবার আপনাকে গেমিং স্টিমার স্টার্স বা অ্যাডস এবং স্পন্সরশিপ পেতে হবে।
  • অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে ইনকামঃ আপনার ফেসবুক পেজ বা অ্যাকাউন্টের যে বিভিন্ন গ্রুপ গুলো রয়েছে সে গ্রুপগুলোতে এফিলিয়েট লিংক শেয়ার করে আপনি কমিশনের ইনকাম করতে পারবেন। যেমন আপনি অনলাইনে বিভিন্ন মার্কেটপ্লেস পন্যের লিংক শেয়ার করে তাদের বিক্রি বাড়াতে পারেন যার ফলে কোম্পানি আপনাকে প্রতিটি বিক্রিতে কমিশন দিবে।
  • ব্রান্ডেন্ড কনটেন্টের মাধ্যমে ইনকামঃ যখন কোন ব্র্যান্ড কোম্পানি আপনার পেইজে তাদের প্রোডাক্ট বা পণ্যকে প্রমোট করার জন্য মানে প্রচার করার জন্য দিবে তখন আপনি সেখান থেকে পেমেন্ট পাবেন। আর এর জন্য আপনাকে দুইটি জিনিস করতে হবে তা হচ্ছে ব্র্যান্ডেড কনটেন্ট টুলস ব্যবহার করতে হবে এবং ফেসবুকের পার্টনার মনিটাইজেশন পলিসি মেনে চলতে হবে।

ধাপে ধাপে ফেসবুক মনিটাইজেশন টুলস চালু করার পদ্ধতি

কিভাবে ফেসবুকে কন্টেন্ট মনিটাইজেশন পাবেন এবং কনটেন্ট মনিটাইজেশন পাওয়ার পরে কিভাবে মনিটাইজেশন টুলস চালু করবেন তা আপনাদের সামনে ধাপে ধাপে উল্লেখ করেছি। আপনারা যদি এই ধাপগুলোকে পর্যায়ক্রমে অনুসরণ করতে থাকেন তাহলে আপনার টুলস চালু করার যে প্রক্রিয়া আছে সেটা যথাযথভাবে আপনি শেষ করতে পারবেন। তাই আর কথা না বাড়িয়ে চলুন শুরু করা যাক কিভাবে আপনি ধাপে ধাপে ফেসবুক মনিটাইজেশন চালু করবেন। 
  • প্রথম ধাপঃ প্রথমে আপনার পেজ কে প্রফেশনাল মুড বা বিজনেস পেজে রূপান্তর করে নিন। আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি যদি ব্যক্তিগত প্রোফাইল হয় তাহলে প্রফেশনাল মুড চালু করতে হবে। আর যদি পেজ হয় তবে অবশ্যই এটি বিজনেস পেজ করতে হবে।
  • দ্বিতীয় ধাপঃ এরপর দ্বিতীয় পর্যায়ে এসে ফেসবুকের যে মেটা প্রফেশনাল ড্যাশবোর্ড আছে সেই ড্যাশবোর্ডে প্রবেশ করুন। 
  • তৃতীয় ধাপঃ এই ধাপে এসে আপনাকে মনিটাইজেশন ট্যাব খুজে বের করতে হবে। প্রফেশনাল ড্যাশবোর্ড খুলে লক্ষ্য করবেন ড্যাশবোর্ডের বাম পাশে মনিটাইজেশন নামে একটি ট্যাব দেখতে পাবেন। এরপরে মনিটাইজেশন অপশনে ক্লিক করলে আপনি যে অপশন গুলো পাবেন তা হচ্ছে in stream ads, reel ads, Stars, fan subscription, branded content ইত্যাদি। 
  • চতুর্থ ধাপঃ ইলিজিবিলিটি বা যোগ্যতা চেক করা। মনিটাইজেশন ইলিজিবিলিটি চেকারে ক্লিক করুন। এখন ফেসবুক কর্তৃপক্ষ আপনার পেজ বা ফেসবুক প্রোফাইলের যোগ্যতা যাচাই করে দেখবে আপনি মনিটাইজেশনের যোগ্য কিনা। অর্থাৎ উপরে যে টুলসগুলোর কথা বললাম সে টুলসগুলোর মধ্যে কোনটার জন্য আপনি যোগ্য আর কোনটার জন্য আপনি অযোগ্য তা যাচাই করে দেখবে। এখানে যদি আপনাকে নট ইলিজিবল দেখায় তার মানে আপনি কনটেন্ট মনিটাইজেশন পাবেন না এবং আপনি কেন মনিটাইজেশন পাবেন না সে কারণগুলো তারা জানিয়ে দিবে। আপনি পরবর্তীতে সেই কারণগুলো দেখে দেখে নিজেকে আবার তৈরি করে ফেসবুক মনিটাইজেশনের জন্য নিজের প্রোফাইল সাবমিট করবেন। 
  • পঞ্চম ধাপঃ এ পর্যায়ে আপনাকে পলিসি এবং পেমেন্ট সেটিং সম্পন্ন করতে হবে। আপনি যদি যোগ্যতা প্রমাণ করে মনিটাইজেশন টুলস চালু করতে পারেন তাহলে পে-আউট সেটিং এ যেতে হবে। এখানে আপনাকে আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য এবং ট্যাক্স ইনফর্মেশন ফর্ম জমা দিতে হবে। এই কাজটি খুব সেনসিটিভ ইস্যু কারণ এখানে আপনার ইনকাম করা ডলার জমা হবে। তাই এই ধাপটি সর্বোচ্চ সতর্কতার সাথে সম্পন্ন করতে হবে। 
  • ষষ্ঠ ধাপঃ এই ধাপে আপনাকে মনিটাইজেশন চালু করে কনটেন্ট তৈরি করার কাজ শুরু করতে হবে। তাই এই পর্যায়ে আপনি ভিডিও রিলস বা লাইভ তৈরি করে মনিটাইজেশন অন করতে পারেন।
  • সপ্তম ধাপঃ এখন আপনার ইনকাম পর্যবেক্ষণ করার ধাপ। আপনি এখন ড্যাশবোর্ডের ইনসাইট বা আর্নিং সেকশনে গিয়ে আপনার ইনকামের তথ্য দেখতে পাবেন। আপনি এই এই ড্যাশবোর্ডে আপনার টার্গেটকৃত ইনকাম, কতগুলো ভিউ হয়েছে এবং সিপিএম ইত্যাদি জিনিসগুলো বিস্তারিত ভাবে দেখতে পাবেন।

ফেসবুক থেকে টাকা উঠাতে কেমন ব্যাংক একাউন্ট লাগবে 

কিভাবে ফেসবুকে কন্টেন্ট মনিটাইজেশন পাবেন তার পূর্ণাঙ্গ গাইড লাইন দেওয়ার পর এখন টাকা উত্তোলন করার টিপস দিবো। আপনার ফেসবুক একাউন্ট থেকে ইনকাম করা টাকা উত্তোলনের জন্য বাংলাদেশের যেকোনো ব্যাংকের একাউন্ট অ্যাড করতে পারবেন। এক কথায় বলতে গেলে আপনি সরকারি বেসরকারি যেকোনো ব্যাংকের অ্যাকাউন্টটি এখানে যুক্ত করতে পারবেন আপনার টাকা তুলতে কোন সমস্যা হবে না।

এখানে আরেকটি বিষয় বলে রাখি, ব্যাংক একাউন্ট যুক্ত করার সময় আপনার ব্যাংক একাউন্টের সুইফট কোড প্রয়োজন হবে। আপনি যদি আপনার ব্যাংক একাউন্টের সুইফট না জানেন তবে আপনি যে শাখায় আপনার একাউন্ট ওপেন করেছেন সেখানে গিয়ে জিজ্ঞেস করলেই আপনাকে সেই ব্যাংকের সুইফট কোড বলে দিবে। 

এখন আপনার টাকা ইনকাম করা তো শুরু হয়ে গেছে কিন্তু ফেসবুক বা মেটা কর্তৃপক্ষ কবে অর্থাৎ মাসের কোন তারিখে আপনাকে পেমেন্ট করবে সেটাও আপনার জেনে রাখা উচিত। ফেসবুক কর্তৃপক্ষ প্রত্যেক মাসের ২২ তারিখ থেকে ৩০ তারিখের মধ্যে আপনাকে পেমেন্ট করবে। আপনার যদি মনিটাইজেশন অন হয় এবং ইনকাম শুরু হয় তবে আপনি পে আউট মেথডে যে ব্যাংক একাউন্ট দিয়ে রেখেছেন সে ব্যাংক একাউন্টে আপনার টাকা যোগ হবে বা যুক্ত হবে। 

শেষকথাঃ কিভাবে ফেসবুকে কন্টেন্ট মনিটাইজেশন পাবেন

ফেসবুকের কনটেন্ট মনিটাইজেশন পাওয়ার জন্য আপনাকে অবশ্যই কিছু নির্দিষ্ট রুলস ফলো করতে হবে এবং আমার দেখানো গাইড লাইন ধাপে ধাপে মেনে আবেদন করার প্রসেস চালিয়ে যেতে হবে। আপনি যদি নিয়মিত মানসম্মত কনটেন্ট প্রকাশ করেন এবং কারো কনটেন্ট যদি কপি করে পোস্ট না করেন তবে আপনার মনিটাইজেশন পাওয়া হওয়া সহজ হবে। 

এছাড়া আর একটি বিষয় উল্লেখ না করলেই নয়, তা হচ্ছে আপনাকে কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে আপনার একাউন্টের সুরক্ষা বজায় রাখতে হবে তাহলে আপনি খুব সহজে ফেসবুকে কনটেন্ট  মনিটাইজেশন পাবেন। আমার এই আর্টিকেলটি কেমন হয়েছে তা অবশ্যয় কমেন্টসে জানাবেন। আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ার জন্য ধন্যবাদ। 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ব্লগ টু বাজারের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

Md. Abu Saleh
Md. Abu Saleh
আমি একজন ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট আমি অনলাইন ইনকাম, ব্লগিং, SEO ও টেকনোলজি নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করি।