আমার বিয়ে কবে হবে ? মনের কৌতুহল বসত আপনি গুগলে লিখে সার্চ দিলেন।কি ভাবছেন
একদম ঠিকঠাক সঠিক উত্তর পাবেন ? আপনি সঠিক উত্তর পাবেন কি পাবেন না তা জানার আগে
আপনাকে আগে জানতে হবে গুগলকে আপনি যে সকল প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন বা যে সকল প্রশ্ন
জিজ্ঞাসা করেন সে অর্থাৎ গুগল আপনার প্রশ্নের উত্তর গুলো কোথায় থেকে দেয়।
তবে এসব প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পূর্বে আপনাকে আরেকটি বিষয় মনে করিয়ে দিতে চাই
আপনি গুগুলে লিখে সার্চ করলেন গুগোল বলতো বিয়ে কবে হবে আমার তার মানে আপনি আপনার
সৃষ্টিকর্তা বা ধর্মের উপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছেন। তবে যেহেতু আপনি গুগলে সার্চ
করেই ফেলেছেন উক্ত কথা লিখে তাই এই কথার পরিপ্রেক্ষিতে আপনার মনের কিছু অজানা
প্রশ্নের উত্তর দিয়ে আজকের আমার এই পোস্টটি সাজিয়েছি । আশা করছি আপনি যদি শুরু
থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে এই পোস্টটি পড়তে থাকেন তবে আপনি আপনার মনের অনেক
অজানা উত্তর পেয়ে যাবেন।
আমার বিয়ে কবে হবে এই কথা লিখে হরহামেশাই আপনারা সার্চ করে থাকেন কারণ আপনার
অবচেতন মন অনেক সময় অনেক কিছুই জানতে চাই। সেই জানার চাহিদা থেকেই আপনি আমার
আর্টিকেলটি পড়তে শুরু করেছেন। আচ্ছা পৃথিবীতে যদি এমন কোন যন্ত্র থাকতো যে আপনার
মনের সকল প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দিত তাহলে কেমন হতো বলেন তো ? আসলেই এমন কোন
যন্ত্র কি আছে পৃথিবীতে ? যা আমার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে বলে দিবে।
তবে বিস্তারিত কিছু বলার আগে একটি কঠিন সত্য বিষয় বলি। আমরা একটি প্রবাদ বাক্য
সকলেই জানি আর তা হচ্ছে জন্ম, মৃত্যু এবং বিয়ে এই তিন বিধাতা নিয়ে। এ এই প্রবাদ
বাক্যটির অর্থ এরকমই দাঁড়ায় মানুষের জন্ম মৃত্যু এবং বিয়ে এই তিনটি বিষয়ে
শুধুমাত্র সৃষ্টিকর্তায় ঠিক করে রাখেন কবে কোথায় কখন কিভাবে এ বিষয়গুলো আপনার
সাথে ঘটবে। আপনি যদি ধর্মে বিশ্বাসী হয়ে থাকেন তবে এ সকল বিষয় নিয়ে শুধুমাত্র
সৃষ্টিকর্তার উপরে বিশ্বাস রাখা উচিত নতুবা বড় ধরনের পাপ না শাস্তির মুখোমুখি
হতে পারেন।
আবার আপনারা অনেকেই এরকম ভাবতে থাকেন যে আমি বউয়ের আদর কখন পাবো। আমি কখন
সন্তানের বাবা হবো বা মা হতে পারবো। কখন সংসার করবো কখন বাচ্চাদের আদর করবো এসব
চিন্তা-ভাবনা থেকেও আপনার মনের ভিতরে এরকম প্রশ্নের উদ্ভব হতে পারে যে আপনার
বিয়ে কবে হবে। এর কারণ কি? আমরা সকলেই যখন ছোট থাকি তখন আমরা বড় হতে থাকে এবং
নিজেকে বড় কল্পনা করি বড়দের মতো ভাবতে থাকে এই রকম ভাবনা থেকেও আপনার মনের
ভেতরে এরকম প্রশ্ন আসতে পারে।
তবে বিয়ের ভাবনা আপনার মাথায় যেভাবেই আসুক না কেন ? এর সঠিক উত্তরটি আপনি নিজের
মাঝেই খুঁজে পাবেন। এসব প্রশ্নের উত্তর আপনি কিভাবে নিজের মাঝে খুঁজে পাবেন হয়তো
আপনি এখন তা ভাবতে শুরু করেছেন চলুন তবে আপনার ভাবনার দুয়ার আমি খুলে দিচ্ছি।
আপনি শুধু মনোযোগ দিয়ে এবং ধৈর্য ধরে আমার লেখাগুলো পড়তে থাকুন পড়তে পড়তে
আপনি আপনার মনের মাঝে জমা প্রশ্নের উত্তরটি পেয়ে যাবেন।
আমাদের মাঝে এমন অনেকে আছে যারা বিয়ে না হলে মানসিকভাবে খুবই ভেঙে পড়ে। এই
মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার বিষয়টি ছেলেমেয়ে উভয়ের ক্ষেত্রে দেখা যায়। আপনার মনে
রাখতে হবে বিয়েটা হচ্ছে সম্পূর্ণই তকদিরের বিষয় অর্থাৎ ভাগ্যের বিষয়। আপনার
ভাগ্যে যেভাবে যেদিন যার সাথে বিয়ে লিখা আছে সেদিন সেই ভাবেই তার সাথে আপনার
সে সময়েই বিয়ে হবে।
তাই আপনি যতই বিয়ে নিয়ে টেনশন করতে থাকেন না কেন কোন লাভ হবে না।
অযথায় আপনার টেনশন করা হবে এবং আপনি শুধু মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে যাবেন। তবে
আপনি অযথা টেনশন না করে বা মানসিকভাবে দুর্বল না হয়ে একটি ভালো কাজ করতে পারেন
সেটি হচ্ছে দোয়া করা। কারণ দোয়াই হচ্ছে একমাত্র এমন একটি আমল যা আপনার তুলতে
পরিবর্তন করতে পারেন অর্থাৎ আপনার ভাগ্যে যা লেখা আছে সেটা চেঞ্জ করতে পারে
একমাত্র দোয়া।
ধরেন কি যে এমন যদি হয় আপনার বিয়ে অনেক দেরিতে আছে তাহলে আপনি অযথা পেরেশান
পেরেশান বা দুশ্চিন্তা করে কত টুকুই বা আগাতে পারবেন। আপনি দোয়া করতে থাকুন
আপনার বিয়ে যদি দেরি করে হয় তাহলে দোয়ার দ্বারা আপনি আপনার বিয়ে তাড়াতাড়ি
হওয়ার জন্য আপনার প্রভুর কাছে দোয়া করুন। আল্লাহ আপনার দোয়া কবুল করে আপনার
বিয়ের তাড়াতাড়ি হওয়ার পথ সুগম করে দিয়েছেন।
আমরা এমন অনেকেই আছি যারা শুধু টাকা পয়সা কেই আমাদের রিজিক মনে করি কিন্তু
টাকা পয়সা ছাড়াও অনেক কিছু আছে যেগুলোকে রিজিক বলা হয়ে থাকে যেমন বিয়ে বা
সঠিক সময়ে বিয়ে হওয়া, সুস্থতা থাকা, বালা মসিবত থেকে দূরে থাকা ইত্যাদি
বিষয়গুলো হচ্ছে রিজিকের অন্তর্ভুক্ত। তাই আপনি বেশি বেশি দোয়া করেন আপনার
রিজিক চেয়ে নিতে পারেন। আপনার যদি বিয়ে না হয় তাহলে আপনি আরো কিছু কাজ করতে
পারেন যেমন অভিজ্ঞতা অর্জন করা, কোন কাজ শিখা , টাকা ইনকামের বা অর্থ উপার্জনের
পথ বের করা, নিজের যে কোন বিষয়ে প্রতি দক্ষতা বাড়ানো এ সকল কাজগুলো আপনি করতে
পারেন।
বিয়ে করার সঠিক সময় কখন
বিয়ে করার সঠিক সময় কখন এমন প্রশ্ন অনেকের মনে আসতেই পারে। সত্যিই তো
বিয়ে করার আসলেই কি ধরা বাধা কোনো সময় আছে নাকি মন চাইলে যে কোন সময় যখন
তখন বিয়ে করা যায়। পৃথিবীতে প্রত্যেকটা বিষয়েরই নির্দিষ্ট কিছু সময়
থাকে যেমন সূর্য কখন উদয় হবে ,সূর্য কখন ডুবে যাবে , চাঁদ কখন উঠবে, নদীতে
পানি কখন বেশি থাকে, সুমদ্রে কখন জোয়ার আসবে ,কখন ভাটা পড়বে , কোন সময়
আপনি অফিস যাবেন, অফিস থেকে আসবেন কখন,খাবার খাবেন কখন বা গোসল কখন
করবেন। আপনি ভালো করে খেয়াল করলে দেখবেন আসলে প্রত্যেকটা ব্যাপারে
নির্দিষ্ট কিছু সময় থাকেই।
তাহলে আপনাকে বিষয়টি ভাবতে হবে বিয়ে করারও অবশ্যই সঠিক সময় রয়েছে।
কিন্তু আসলে বিয়ে করার সঠিক সময় কখন? এ নিয়ে ২০১৫ সালে গবেষণা
চালিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন গবেষক যার নাম নিকোলাস উলফ ফিঙ্গার। উলফ
ফিঙ্গার দাবি করেন যে তিনি বিয়ের আদর্শ সময়ে খুঁজে পেয়েছেন। তিনি তার এই
গবেষণার মাধ্যমে ২৮ থেকে ৩২ বছরের মধ্যে বিয়ে করা পরামর্শ দিয়েছেন। উলফ
ফিঙ্গার তার লেখনীতে লিখেছেন বয়স বিশ এর শেষ ভাগে পৌঁছালে বিয়েতে
বিচ্ছেদের সম্ভাবনা কমতে থাকে। আবার বয়স যতই মধ্য ত্রিশ পার হয়ে যায় ততই
সে ঝুঁকি আবার ফিরে আসে।
তিনি এ বিষয়টির আরো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন তার গবেষণালব্ধ ফলাফল এই
কথা বলে যে ২৮ থেকে ৩২ যেকোনো ব্যক্তির জন্য তার জীবনসঙ্গী খুঁজে পাওয়াটা
খুব সহজ হয় এবং সঠিক সঙ্গী খুঁজে পাওয়া যায়। তার গবেষণাগাতে এ বয়সেই
একটি পরিণত বোধ আসে তাহলে অস্থিরতা হাঁটতে শুরু করে এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার
সম্ভাবনা বেড়ে যায় জীবনের এ পর্যায়ে এসে সে বুঝতে পারে যে সে যাকে
জীবনসঙ্গী হিসেবে বাছাই করেছে সে তার জন্য আসলে পারফেক্ট কিনা তাই ২৮ থেকে
৩২ বছর বয়সের মধ্যে বিয়েটা সম্পূর্ণ করা উচিত।সর্বদা চেষ্টা করবেন এমন
মেয়েকে বিয়ে করার যে মেয়ের সাথে আপনার বয়সের পার্থক্যটা খুব বেশি হবে
না। তাহলে দুজনের মধ্যে একটা ম্যাচুরিটি থাকবে। তাহলে আপনারা দুজন একে
অপরকে ভালোভাবে বুঝতে পারবেন। হলে আপনাদের দাম্পত্য জীবন সুখী হবে।
ইসলামী শরীয়তে বিবাহের অর্থ
ইসলামে বিবাহ শব্দটির আরবি শব্দ হচ্ছে নিকাহ। ইসলামী শরীয়াহ মতে বিবাহ হচ্ছে
বিবাহযোগ্য দুজন নারী পুরুষের মধ্যে দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপনের বৈধ আইনি
চুক্তি ও তার সরল স্বীকারোক্তি। ইসলামী শরিয়া মতে মেয়ে বা কনে তার নিজের
ইচ্ছা অনুযায়ী বিয়েতে মত বা অমত পোষণ করতে পারে। ইসলামে বিয়ে হচ্ছে একটি
সুন্নাহ বা হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আদর্শ এবং
ইসলামে বিয়ে করার জন্য অত্যন্ত জোরালোভাবে তাগাদা দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি ইসলামে সুন্নাহ জীবন অর্থাৎ ঘর সংসার ছাড়া জীবন যাপন করার ব্যাপারে
বিরোধিতা করা হয়েছে। ইসলামে বিয়ের পর বর ও কনের পারস্পারিক অধিকার এবং
কর্তব্যের সীমারেখাকে নির্ধারণ করে থাকে। ইসলামী বিয়েকে একটি আনুষ্ঠানিক এবং
পারস্পরিক বৈবাহিক চুক্তিকে বিবাহ হিসেবে গণ্য করা হয় বা স্বীকৃতি দেওয়া
হয়।জার্মান আরব বাদি লেখক ওয়েহর কোয়ান তার সংকলিত আধুনিক আরবি ডিকশনারি তে
নিকাহকে বিবাহ বা বিবাহ চুক্তি হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছেন।
গুগোল বলতো আমার বিয়ে কবে হবে
আপনার হাতে একটি রয়েছে কোন কাজ নেই হঠাৎ আপনার মনের মধ্যে একটি প্রশ্নের
উদয় হলো। আপনি স্মার্ট ফোনে লিখলেন যে , আচ্ছা গুগল বলতো আপনার
বিয়ে কবে হবে লিখে সার্চ দিলেন। গুগুল ও ঝটপট বলে দিল আপনার বিয়ে কবে হবে
সেটা আপনার বাপ মা জানে আমি হলাম গুগোল আমি আপনার বাপ-মা নয়। কি হাসছেন?
একদমই হাসবেন না। এখানে হাসির কিছু নেই গুগল আপনাকে এরকম উত্তর দিতেই
পারে।
গুগল হয়তো আপনার বিয়ে কবে হবে এ বিষয়ে উত্তর দিতে না পারলেও আপনার
বিয়েটা কিভাবে সুন্দরভাবে আয়োজন করা যায় সে সম্পর্কে আমাকে চমৎকার
আইডিয়া দিতে পারে। তাই আপনি আপনার বিয়ে কবে হবে গুগলের থেকে এই ধারণা না
নিয়ে আপনার বিয়েটা কিভাবে সাজানো যায় সে আইডিয়া আপনি নিতে পারেন। আপনি
গুগলের কাছ থেকে কখনো ঠিকঠাক আপনার বিয়ের সময় তারিখ জানতে পারবেন না। তাই
অযথাই আপনার বিয়ে কবে হবে এ বিষয়ের উপর নির্ভর না করে নিজের জীবন এবং
পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নিন।
কিন্তু এরকম উত্তর ছাড়াও ভিন্ন রকমের কিছু উত্তরও দিতে পারে যেমন গুগোল
আপনাকে বলবে এটি মূলত আপনার ভাগ্য এবং আপনার ব্যক্তিগত পছন্দের উপর নির্ভর
করে যে আপনার কবে বিয়ে হবে। তবে এর মধ্যে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যেটি
হচ্ছে আপনি যখন একটি ভালো বা মোটামুটি ইনকাম করতে সক্ষম হবেন এবং সঠিকভাবে
মনের মানুষটি খুঁজে পাবেন এরপর দুজনের মধ্যে মানসিকভাবে বোঝাপড়া তৈরি হবে
তখনই আপনার বিয়ের কথা ভাবা উচিত এবং তখনই আপনার বিয়ে হবে। যাইহোক তবে আসল
কথা একটি যে, যেদিন আল্লাহ চাইবেন সে তিনি আপনার বিয়ে হবে।
আমার বিয়ে কবে হবে গুগোল কি বলতে পারে
মনের মধ্যে এই রকম প্ৰশ্ন আসলো আর আপনার হাতে থাকা স্মার্টফোন দিয়ে আপনি
গুগলে সার্চ করে বসলেন। কিন্তু গুগোল আপনাকে কখনো বলতে পারবে না আপনার বিয়ে
কখন হবে বা কবে হবে। কারণ গুগোল শুধুমাত্র তথ্য এবং প্রযুক্তি নির্ভর
বিষয়গুলো বলতে পারে আমি সহ কারো ব্যক্তিগত বা জীবনের ঘটনা পুরোপুরি বলতে
পারেনা।
তবে আপনার বিয়ে কবে হবে এই বিষয়টি আপনার জীবনধারা, বয়স ,লক্ষ্য এবং
সম্পর্কের অভিজ্ঞতার উপরে নির্ভর করে। যদি বাস্তব জীবনের ভিত্তিতে অনুমান করা
হয় তবে এক্ষেত্রে কিছু প্রশ্নের জবাব আগে দিতে হতে হবে যেমন আপনার বয়স কত?
আপনি বর্তমানে কোন সম্পর্কে আছেন কিনা আপনি বর্তমানে কি করছেন অর্থাৎ
পড়াশোনার নাকি ব্যবসা নাকি চাকরি।
আপনি আপনার বিয়ে কখন করতে চান এরকম একটি টার্গেট যেমন আগামী এক বছর বা দুই
বছরের মধ্যে। এক্ষেত্রে উপরের তথ্যগুলো যদি আপনি গুগলকে দিতে পারেন তবে গুগল
আপনার বিয়ের সময়ের প্রেডিকশন তৈরি করে দিতে পারে তবে তা কখনোই ঠিকঠাক মিলবে
না।গুগোল আপনাকে এভাবে প্রেডিকশন দিতে পারে যে ধরেন আপনি আপনার বন্ধুকে
বলতেছেন যে, বর্তমানে আমার বয়স এত আমি বর্তমানে এই করছি তারপরে আমার কোন
সম্পর্ক একজনের সাথে আছে বা নাই। তারপর আপনি আপনার বিয়ের লক্ষ্য নিয়ে বললেন
এক্ষেত্রে আপনার বন্ধু আপনাকে যেভাবে একটা প্রেডিকশন বা সম্ভাব্য সময় বলবে
আপনার বন্ধু হিসাবে কিছু সময় আপনাকে বলতে পারে কিছু সময় টার্গেট আপনাকে
দিতে পারে।
বিয়ে কি আল্লাহর পক্ষ হতে আগেই থেকেই নির্ধারিত
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এই মানুষ সৃষ্টির অনেক আগে প্রায় পঞ্চাশ হাজার বছর
আগেই আপনার আমার সাথে কবে কখন কোথায় কি ঘটবে তা সব কিছু ঠিক করে
রেখেছেন। শুধু মানুষ নয় পুরো মাখলুকাত সৃষ্টির ৫০ হাজার পূর্বেই সবকিছু
আল্লাহ তা'আলা লিখে রেখেছেন। তাই এখানে শুধু বিয়ের বিষয়টি নয় বিয়ে বাদেও
পুরো সৃষ্টির সাথে কখন কি ঘটবে কখন কি হবে তা আল্লাহ তার সমস্ত মাখলুকাত
সৃষ্টি করার ৫০ হাজার বছর পূর্বেই লিখে রেখেছেন।
তাই আপনার বিয়ে কবে হবে এ বিষয়টি আল্লাহ পূর্ব থেকে নির্ধারণ করে রেখেছেন
কিন্তু আপনি আল্লাহর সৃষ্টি হিসেবে অর্থাৎ আল্লাহর মাখলুক হিসাবে আপনার
বিয়ের নির্দিষ্ট সময় জানার ক্ষমতা নেই।আপনারা লক্ষ্য করবেন যে অনেকের
বিয়ের বয়স হয়ে গেছে। সে বিয়ে করার জন্য পাত্রী বা কনে দেখা শুরু করেছেন
কিন্তু দেখতে দেখতে এমন হয়েছে যে, তার পাত্রী দেখার সংখ্যা ১০০ পার হয়ে
গেছে অর্থাৎ সে বিয়ে করার জন্য পাত্রী দেখতে দেখতে পাত্রী দেখার সেঞ্চুরি
করে ফেলেছেন তবু তার বিয়ে হচ্ছে না। কারণ আল্লাহ যখন যেদিন তার ভাগ্যে বিয়ে
রেখেছেন শুধুমাত্র সেদিনই হবে এর আগে সে যতই পাত্রী দেখুক না কেন তার বিয়ে
হবে না তাইতো অনেকেই বলে আল্লাহ যেদিন চাইবেন সেদিনই বিয়ে হবে।
কোরআন ও হাদিসের আলোকে বিয়ে কেন করতে বলা হয়েছে।
বিয়ে শুধুমাত্র একটি সামাজিক রীতি নীতি নয়, বরং এটি হচ্ছে স্বাভাবিক
জীবনের একটি অনিবার্য চাহিদা। প্রত্যেক মানুষের জীবনে বিয়ে হচ্ছে একটি
গুরুত্বপূর্ণ এবং অপরিহার্য অনুষঙ্গ। আল্লাহ সুবহানাতায়ালা পবিত্র কুরআনুল
কারীমের বিভিন্ন জায়গাতে বিয়ে সম্পর্কে সরাসরি উল্লেখ করেছেন। কুরআন
মাজিদে বিয়েকে মানব কুলের জন্য এক অনন্য নিয়ামত হিসেবে উল্লেখ করা
হয়েছে।
যেহেতু জগৎসমূহের সৃষ্টিকর্তা একমাত্র আল্লাহ তিনি নির্ধারণ করেছেন তার
সৃষ্টি সমূহের জীবন ব্যবস্থা। তাই জীবনের প্রত্যেকটি চাহিদার সঠিক ও বৈধ
উপায়ে পূর্ণ করার ব্যবস্থাও তিনি করে দিয়েছেন। মানুষের বিয়েটাও হচ্ছে
সেই ব্যবস্থার একটি অংশ। যা মানুষকে চারিত্রিকভাবে পবিত্র করে এবং আত্মিক
প্রশান্তি দান করে এবং এর মাঝে রেখেছেন পারিবারিক স্থিতি।
আল্লাহ তা'আলা পবিত্র কুরআনের সূরা নূরের ৩২ নম্বর আয়াতের বলেন
তোমাদের মধ্যে যারা নিঃস্ব অবিবাহিত তোমরা তাদের বিয়ে দাও এবং তোমাদের
অধীনস্থ দাস-দাসীদের মধ্যে যারা সৎ তাদেরও। (সূরা নূর, আয়াত নম্বর: ৩২)
আল্লাহ তাআলা আরো ইরশাদ করেছেন সূরা রূম এর ২১ নাম্বার আয়াতে।
আর তাহার নিদর্শনাবলীর মাঝে একটি হচ্ছে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্যে
হতেই সৃষ্টি করেছেন তোমাদের সঙ্গিনী কে যেন তোমরা তাদের নিকট শান্তি লাভ
করতে পারো এবং তোমাদের পরস্পরের মধ্যে ভালোবাসা এবং দয়া সৃষ্টি করেছেন
নিশ্চয় এতে বহু নিদর্শন রয়েছে ওইসব লোকের জন্য যারা চিন্তা ভাবনা করে।
(সূরা রূম, আয়াত নম্বর ২১)
এই আয়াতে আল্লাহ দিয়ে কে তার নিদর্শন হিসাবে উল্লেখ করেছেন। স্বামী
স্ত্রীর মাঝে যে ভালোবাসা সহানুভূতি প্রশান্তির বন্ধন সৃষ্টি হয় তা
আল্লাহর একটি অনুগ্রহের প্রতিফলন।
আল্লার রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
বিয়ে হচ্ছে আমার সুন্নত। যে ব্যক্তি আমার সুন্নতকে অপছন্দ করে, সে আমার
দলভুক্ত নয়। (সহীহ ইবনে মাজাহ, হাদিস নম্বর: ১৮৪৬)
উক্ত হাদিসে বিয়েকে ইসলামী জীবনের একটি অপরিহার্য অংশ বলা হয়েছে। এটিকে
যে পরিত্যাগ করবে যে নবী করীম সাল্লাল্লাহু সাল্লাম এর আদর্শ বা পথ থেকে
দূরে সরে যাবে অর্থাৎ নবী করিম (স : ) এর দোলে সে থাকবে না।
সহিহ বুখারী ও মুসলিম শরীফে আল্লাহ রাসুল বলেন হে যুবসমাজ তোমাদের মধ্যে
যাদের সামর্থ্য আছে তারা যেন বিয়ে করে। কারণ তা দৃষ্টিশক্তিকে নিচু করে
এবং লজ্জাস্থানকে সংরক্ষণ করে।
উক্ত হাদিস দ্বারা যুব সমাজকে বিয়ের প্রতি বিশেষ ভাবে তাগাদা দেওয়া
হয়েছে কারণ মানুষ অধিকাংশ পাপ করে যুবক বয়সে যুবক বয়সে মানুষের
প্রবৃত্তি থাকে অধিক আর বিয়ে হচ্ছে তার বৈধ সবচেয়ে ভালো নিয়ন্ত্রণ।
আল্লাহর দেওয়া আদেশেই নারী-পুরুষ একে অপরের জন্য হালাল হয়ে থাকে এবং
আল্লাহর দেওয়া আদেশের উপরেই নারী-পুরুষ একে অপরের জন্য হারাম হয়ে যায়।
যেমন পবিত্র কুরআনে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা ইরশাদ করেন মুমিন সতী সাধ্বী
নারী ও আহলে কিতাবের সতী সাধ্বী নারী তোমাদের জন্য হালাল করা হলো
অর্থাৎ বৈধ করা হলো। (সূরা মায়েদা ,আয়াত নম্বর: ০৫)
আবার অন্য এক আয়াতে আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন, তোমরা কাফির নারীদের সাথে
দাম্পত্য সম্পর্ক বজায় রেখো না (সূরা মুমতাহিনা, আয়াত নম্বর: ১০)
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন, ঈমান নানা পর্যন্ত তোমরা মুশফিক
নারীকে বিয়ে করো না যদিও মুসলিম নারী তোমাদেরকে মুগ্ধ করে। ঈমান
নানা পর্যন্ত তোমরা মুশরিক পুরুষের সঙ্গে তোমাদের নারীদের বিয়ে দিও না
যদিও মুশরিক পুরুষ তোমাদের মুগ্ধ করে (সূরা বাকারা,আয়াত নম্বর: ২২১)
আল্লাহ তা'আলা এখানে যে বিষয়টি স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন তা হচ্ছে মুসলিম
নারীদের জন্য অন্য ধর্মের পুরুষকে স্বামী হিসেবে গ্রহণ করার সুযোগ
নেই। আবার মুসলিম পুরুষদের জন্য অন্য ধর্মের কোন মহিলাকে স্ত্রী হিসেবে
গ্রহণ করারও সুযোগ নেই।
হিন্দুদের ধর্মগ্রন্থ বেদের সাথে সম্পর্কিত একটি ঐতিহ্যবাহী জ্যোতিষ
শাস্ত্রীয় পদ্ধতি হচ্ছে বৈদিক জ্যোতিষ শাস্ত্র। এই বৈদিক জ্যোতিষ শাস্ত্র
অনুযায়ী একাধিক গ্রহ বা বিবাহের বিলম্বের জন্য দায়ী বলে ধারণা দিয়ে থাকে।
জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী কিছু কিছু গ্রহ আছে যারা শুভ পরিস্থিতিতে থাকলে
সময়ের মধ্যেই তাড়াতাড়ি বিয়ে হয়ে যায় এবং দাম্পত্য জীবনটা সুখে কাটতে
থাকে কিন্তু সেই গ্রহগুলো যদি দুর্বলতা এবং অশুভ পরিস্থিতি দেখা দেয় তবে
বিবাহ বিলম্বিত হয় অর্থাৎ দেরি হয় এবং কষ্টময় দাম্পত্য জীবনের সূচনা
ঘটে।
জ্যোতিষ শাস্ত্র অনুযায়ী সপ্তম স্থানে শনি, রাহু ,মঙ্গল ও সূর্যের মতো গ্রহ
উপস্থিত থাকলে অথবা সপ্তমীর অধিপতির সঙ্গে যুক্ত হলে বিবাহ বিলম্বের কারণ
হয়। আবার ছেলে বা পুরুষের কোষ্ঠীতে স্ত্রীর কারক গ্রহ শুক্র এবং মেয়ে বা
মেয়েদের কোষ্ঠীতে পুরুষের কারক গ্রহ বৃহস্পতি যদি কষ্টে থাকে তবে
বিয়েতে বিলম্ব হতে পারে। এছাড়াও লগ্ন চতুর্থ শব্দ অষ্টম ও দ্বাদশ ঘরে
অবস্থান করলে মঙ্গলজাতকে মাঙ্গলিক দোষে প্রীত করে যা ২৮ বছরের মধ্যে বিবাহ
সুখ প্রদান করে। তবে এগুলো সম্পূর্ণ ভুল এবং ভ্রান্ত ধারণা কারণ বিয়েটা
হচ্ছে ভবিষ্যতের ব্যাপার যে ব্যাপারে কেউ কোনো অনুমান করতে পারে না। এবং
পৃথিবীতে মানুষ কখনো ভবিষ্যৎ বলতে পারে না। ভবিষ্যৎ বলার ক্ষমতা
একমাত্র সৃষ্টিকর্তারই রয়েছে রয়েছে।
সমুদ্রশাস্ত্র মতে বিয়ের সময় নির্ধারণ
বিয়ে সম্পর্কে সমুদ্রশাস্ত্র মতে কি বলে তা জেনে নেই। প্রাচীন ভারতীয় জ্যোতিষ
শাস্ত্রের একটি বিশেষ শাখা যা সমুদ্রশাস্ত্র নামে পরিচিত। এই
সমুদ্রশাস্ত্রে মানুষের শারীরিক গঠন যেমন চোখ ,মুখ ,হাত, কপাল এবং দেহের
অন্যান্য অঙ্গ প্রত্যঙ্গের বৈশিষ্ট্য বিচার বিশ্লেষণ করে তার চরিত্র ব্যক্তিত্ব
এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আংশিক ধারণা দেয় যা কখনো সত্য হতে পারে না।
তবে যারা এই সমুদ্রশাস্ত্র বিশ্বাস করেন তাদের উদ্দেশ্যে বলছি
সমুদ্রশাস্ত্র অনুসারে আপনার হাতের বুড়া আঙ্গুল দেখিয়ে আপনার সম্পর্কে
অনেক কিছু জানা যায়। এই বুড়ো আঙ্গুল দেখে বুঝে নেওয়া যাবে আপনার বিয়ে কবে হতে
চলেছে এমনকি আপনার জীবনসঙ্গী কেমন হবে তাও এই বুড়া আঙ্গুল দেখে বুঝা যেতে
পারে।
এই বুড়ো আঙ্গুল কে বিশ্লেষণ করবেন যেভাবে।
বৃদ্ধাঙ্গুলের বাইরের অংশে সর্বাধিক নয়টি হেলানো লেখা থাকে।
এই সমুদ্র শাস্ত্র মতে এই হেলানো রেখার মধ্যে আপনার জীবনসঙ্গীর নাম এবং
বিয়ের সময় উল্লেখ করা থাকে।
পুরুষদের ক্ষেত্রে ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুল এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে বাম হাতে
তাদের জীবনসঙ্গীর নাম উল্লেখ পাওয়া যায়।
এই শাস্ত্রমতে কোন বয়সে আপনার বিয়ে হতে পারে তাও কিন্তু এই বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখে
জানা যেতে পারে। আবার হস্তরেখা শাস্ত্রমতে ব্যক্তি নিজের কাজ সম্পর্কে কতটা সজাগ
তাও কিন্তু বৃদ্ধাঙ্গুলীর উপরের অংশ দেখে বুঝা যায় আবার বৃদ্ধাঙ্গুলির নিচের অংশ
ব্যক্তির বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেয়।
সমুদ্রশাস্ত্র মতে বৃদ্ধাঙ্গুলের
নয়টি হেলানো রেখা নবগ্রহকে ইঙ্গিত করে। বৃদ্ধাঙ্গুলের প্রথম রেখা আপনার জীবনের
বিভিন্ন রকমের রহস্যকে উন্মোচন করে থাকে। এই প্রথম রেখা দ্বারা প্রথম দশ বছর,
দ্বিতীয় রেখা দ্বারা ২০ বছর ,তৃতীয় রেখা দ্বারা ৩০ বছর ,চতুর্থ রেখা দ্বারা ৪০
বছর ,পঞ্চম রেখা দ্বারা ৫০ বছর,ষষ্ঠ রেখা দ্বারা ৬০ বছর, সপ্তম রেখা দ্বারা ৭০
বছর, অষ্টম রেখা দ্বারা ৮০ বছর এবং নবম রেখা দ্বারা ৯০ বছর ব্যক্তির বয়সকে
বিভক্ত করা থাকে।
জীবনসঙ্গীর নাম দ্বিতীয় তৃতীয় রেখার মাঝ বরাবর থাকলে ব্যক্তির বিয়ে ২০ থেকে ৩০
বছরের মধ্যে হতে পারে এবং তৃতীয় চতুর্থ রেখার মধ্যে জীবনসঙ্গিনী নামের চিহ্ন
থাকলে ব্যক্তির বিয়ে ৩০ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে এগুলো
শুধুই কাল্পনিক এগুলো বাস্তবে সত্য হওয়ার কোনই সম্ভাবনা নাই। আর আপনি যদি এগুলো
বিশ্বাস করে থাকেন তবে আপনি ঈমান হারা হয়ে যাবেন এবং বড় পাপের সাথে লিপ্ত হয়ে
যাবেন। তাই এগুলোতে কখনো বিশ্বাস আনা উচিত হবে না।
বিয়ে নিয়ে আজকের লেখা আমার পোস্টে আপনাদের এটাই বোঝানোর
চেষ্টা করেছি যে বিয়ের বিষয়টি সম্পূর্ণ আপনার তকদীরের বিষয় অর্থাৎ আপনার
ভাগ্যে যেদিন বিয়ে লেখা আছে সেদিনই আপনার বিয়ে হবে। আমি আমার লেখনীর দ্বারা
এটাই বুঝাতে চেয়েছি যে আপনি যদি মনের কৌতুহলবশত কোন জ্যোতিষী বা কেউ ভবিষ্যৎ
বলতে পারে এরকম ধারণা নিয়ে কাউকে জিজ্ঞাসা করেন বা তাদের কাছে যান তাহলে আপনি
কবিরা গুনাহ করে ফেলবেন। তাই আপনি এই সকল ভ্রান্ত ধারণা থেকে দূরে সরে আসুন।
আপনি কখনোই গুগলের কাছে এই সকল অবান্তর প্রশ্ন করবেন না। আপনি গুগলে আপনার
বিয়ে নিয়ে কিছু ধারণা নিতে পারেন যেমন আপনার বিয়েটা কিভাবে সাজালে সুন্দর
এবং মনমুগ্ধকর হবে গুগল আপনাকে বন্ধুর মত সে পরামর্শ দিবেন।
প্রিয় পাঠক আপনাদেরকে অসংখ্য ধন্যবাদ আমার এ আর্টিকেলটি ধৈর্য সহকারে পড়ার
জন্য। আমারে আর্টিকেলটি যদি আপনাদের কাছে ভালো লেগে থাকে তবে আপনার পরিচিত
আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। এ আর্টিকেল
সম্পর্কে যদি আপনাদের কোন মতামত থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্টসে জানিয়ে দিবেন।
ব্লগ টু বাজারের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url