শিলাজিৎ বাংলাদেশে কোথায় পাওয়া যায় ও চেনার উপায়
শিলাজিৎ বাংলাদেশে কোথায় পাওয়া যায় ও চেনার উপায় কি লিখে আপনারা গুগলে সার্চ করে থাকেন। তাই আজকের এই আর্টিকেলটি সাজানো হয়েছে শিলাজিৎ সম্পর্কে আপনার মনের মধ্যে তৈরি হওয়া অজানা প্রশ্নের উত্তর নিয়ে।
আজকের এই পোস্টটিতে জানতে পারবেন শিলাজিৎ কি? শিলাজিৎ খাওয়ার নিয়ম কি এবং এর উপকারিতা ও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া এছাড়াও জানতে শিলাজিৎ এর দাম। তাই আসল শিলাজিৎ বাংলাদেশে কোথায় পাওয়া যাবে এবং আসল শিলাজিৎ চেনার উপায় সম্পর্কে জানতে আমাদের আর্টিকেলটি পড়তে থাকুন।
পোস্ট সূচিপত্রঃ শিলাজিৎ বাংলাদেশে কোথায় পাওয়া যায় ও চেনার উপায়
- শিলাজিৎ বাংলাদেশে কোথায় পাওয়া যায় ও চেনার উপায়
- শিলাজিৎ বাংলাদেশে কোথায় পাওয়া যায়
- শিলাজিৎ খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতা
- শিলাজিতের উপকারিতা
- শিলাজিৎ এর কাজ কি
- আসল শিলাজিৎ চেনার উপায়
- শিলাজিৎ এর দাম
- শিলাজিৎ এর পার্শপ্রতিক্রিয়া
- শেষকথাঃ শিলাজিৎ বাংলাদেশে কোথায় পাওয়া যায় ও চেনার উপায়
শিলাজিৎ বাংলাদেশে কোথায় পাওয়া যায় ও চেনার উপায়
শিলাজিৎ মূলত একটি জৈব-খনিজ পদার্থ যা দেখতে কালচে বাদামী রঙের হয়ে থাকে। এটিকে
মূলত হিমালয় পর্বত থেকে সংগ্রহ করা হয় এবং এটি একটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক রেজিন
যা শত শত বছর আগে থেকেই আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় ব্যবহার হয়ে আসছে। এটি তৈরি হয়
হাজার হাজার বছর ধরে পচন ধরা গাছ ও উদ্ভিদের উপকরণ থেকে যা পাথরের ফাঁক দিয়ে
বাদামি থেকে কালো রঙের চটচটে আঠার মত একটি পদার্থ হিসেবে বেরিয়ে আসে।
শিলাজিৎ এর মূল উৎস হিসাবে হিমালয়, হিন্দুকুশ পর্বতমালা, তিব্বত এবং অন্যান্য
পাহাড়ি অঞ্চলে পাওয়া যায়। এই ভেষজ ও খনিজ পদার্থ শিলাজিৎ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে
প্রায় ২৫০০ থেকে ৬০০০ মিটার উপরে হিমালয় বা হিন্দুকুশ পর্বতমালার উপর হতে
সংগ্রহ করা হয়। এই পর্বত অঞ্চলটি গ্রীষ্মকালে খুবই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যার কারণে
পর্বতের স্তরগুলো গলতে শুরু করে তখন একটি রজনের মত আধা তরল পদার্থ তৈরি হয় যা
শিলাজিৎ নামে পরিচিত। এই পুরো প্রক্রিয়াটি নতুন নয় এটি শত শত বছর ধরে চলে আসছে।
আরো পড়ুনঃ Atoz premium খেলে কি মোটা হয়
শিলাজিৎ বাংলাদেশে কোথায় পাওয়া যায়
পূর্বেই আপনাদেরকে শিলাজিৎ এর মূল উৎস কোথায় এবং তা কিভাবে পাওয়া যায় তা
উল্লেখ করেছি। তাই শিলাজিৎ বাংলাদেশে কোথায় পাওয়া যায় এর উত্তর বলতে
হয় শিলাজিৎ বাংলাদেশের কোথাও সরাসরি পাওয়া যায় না। কারণ এটির প্রধান উৎসই
হচ্ছে হিমালয় ও হিন্দুকুশ পর্বতমালা আর শিলাজিত হচ্ছে এই পর্বতমালার খনিজ তাই
এটি সরাসরি বাংলাদেশে পাওয়া অসম্ভব।
তবে বাংলাদেশে বিভিন্ন অনলাইন মার্কেটপ্লেস রয়েছে যেমন রকমারি ডট কম, দারাজ
এবং অন্যান্য অনলাইন শপগুলোতে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের শিলাজিৎ পাওয়া যেতে পারে।
বাংলাদেশে যারা এটি সরবরাহ করে থাকে এটি মূলত তারা সলিড বা লিকুইড দুই রকম
ভাবেই শিলাজিৎ নিয়ে আসে। এরপর এটিকে তারা ফিল্টার বা বিভিন্নভাবে রিফাইন ও
প্রসেস করে এবং প্যাকেটজাত করে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নাম দিয়ে বিক্রি করে
থাকেন।
তাই আপনি বাংলাদেশকে সরাসরি শিলাজিৎ এর উৎস হিসাবে খুঁজলে তা আপনি কখনই পাবেন
না। কারণ এটি বাংলাদেশ উৎপাদন বা তৈরি হয় না। এটি পাকিস্তানের গিলগিট,
বালতিস্থান অঞ্চল থেকে সংগৃহীত হয় এবং আরো একটি বিশাল উৎস হিসাবে হিমালয়,
হিন্দুকুশ, তিব্বত এবং অন্যান্য পর্বতমালাকে বিবেচনা করা হয়। আমাদের দেশের কিছু
ইম্পোর্টার উক্ত স্থানের মূল সাপ্লাইয়ের সাথে কথা বলে সরাসরি দেশে ইমপোর্ট করে
সংগ্রহ করে থাকে এবং তা বিভিন্ন প্রসেস বা রিফাইন করে কারণ প্রাথমিক ভাবে শিলাজিৎ
এ কিছু ময়লা থাকে এরপর তা প্যাকেটজাত এবং ব্র্যান্ডিং করে বিক্রি করে থাকে।
শিলাজিৎ খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতা
প্রিয় পাঠক , শিলাজিৎ বাংলাদেশে কোথায় পাওয়া যায় ও চেনার উপায় সম্পর্কিত
পোস্টে এটি খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতা নিয়ে আলোকপাত করবো। পুরুষ মহিলা উভয়ের
ক্ষেত্রেই সাধারণ সু-স্বাস্থ্যের জন্য শিলাজিৎ ভালো একটি ভেষজ ওষুধ। এটি পুরুষ
মহিলা উভয়েরই উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য একটি কার্যকারী টনিক হিসাবে কাজ করে। যারা
কঠোর পরিশ্রম করে থাকেন তাদের পেশী শক্তি পুনরুদ্ধারে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
ওষুধ হিসাবে কাজ করে থাকে অর্থাৎ পেশী শক্তি বৃদ্ধি করে থাকে।
শিলাজিৎ যেভাবেই সেবন করা হোক না কেন এতে রয়েছে অনেক রকম উপকার তবে সর্বোচ্চ
ভালো ফলাফল পেতে শিলাজিৎ খাওয়ার কিছু নিয়ম কানুন রয়েছে এই নিয়ম কানুন গুলো
মেনে সেবন করলে আপনি সর্বোচ্চ ভালো ভালো ফল পাবেন।
কোনরকম পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ছাড়াই প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৫০০ মিলিগ্রাম শিলাজিৎ
খাওয়া যায় তবে আয়ুর্বেদিক ও ভেষজ ডাক্তারগণ পরামর্শ দিয়ে থাকেন যে দুধের
সাথে একটি মিশিয়ে খেলে ভালো স্বাস্থ্য উপকার পাওয়া যায়। তাই এক থেকে তিন
ফোটা তরল দুধের সাথে মিশিয়ে খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।
আরেকটি পরামর্শ হচ্ছে শিলাজিৎ ক্যাপসুল সকালে অথবা রাতে হালকা কুসুম গরম দুধ
অথবা পানির সাথে খেলে সর্বোচ্চ ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে। অধিকাংশ আয়ুর্বেদিগণ
শোষণ বৃদ্ধির জন্য এটি খালি পেটে সেবনের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। শিলাজিৎ এর সঠিক
ডোজ আলাদা আলাদা স্বাস্থ্যের অবস্থার উপর নির্ভর করে অর্থাৎ এটির ডোজ ব্যক্তির
স্বাস্থ্য বা শারীরিক অবস্থা ব্যক্তির বয়স অনুযায়ী পরিবর্তন হতে পারে। তাই
আপনার সঠিক ডোজ বা মাত্রা নির্ধারণের জন্য অবশ্যই একজন আয়ুর্বেদিক বা ভেষজ
ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরী।
শিলাজিতের উপকারিতা
শিলাজিৎ এর উপকারিতা বা শিলাজিত খেলে কি কি বেনিফিট পাওয়া যাবে তা সবিস্তারে
আপনাদের সামনে বর্ণনা করছি। শিলাজিতের উপকারিতা অনেক রয়েছে তার মধ্যে প্রধান
উপকারিতা হচ্ছে এটি যৌন স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ভালো কাজ করে। পুরুষদের টেস্টের
মাত্রা কে বৃদ্ধি করে অর্থাৎ পুরুষদের উর্বরতা ও প্রজনন স্বাস্থ্য কে বহুগুণে
বাড়িয়ে তুলে। এছাড়াও শিলাজিতের স্বাস্থ্য উপকারিতা অনেক রকমের রয়েছে তাই চলুন
সে সকল উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
- নিয়মিত শিলাজিৎ সেবনে শারীরিক মানসিক শক্তি বৃদ্ধি হয়।
- শিলাজিৎ মানসিক চাপ এবং ক্লান্তিকে দূর করতে সাহায্য করেন
- শিলাজিত শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে শরীরকে দীর্ঘদিন সুস্থ রাখে।
- শিলাজিৎ সেবনের ফলে খুব তাড়াতাড়ি বুড়িয়ে যাওয়া রোধে করে বা বার্ধক্য প্রতিরোধে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে।
- হিমালিয়ান শিলাজিত রক্তের হিমোগ্লো মুখে বৃদ্ধি করে রক্তস্বল্পতা দূর করতে সাহায্য করে।
- মেটাবলিজম কে বৃদ্ধি করে এবং অতিরিক্ত চর্বি কমিয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
- নিয়মিত শিলাজিৎ এর ব্যবহার গ্যাস্ট্রিক অ্যাসিড নিঃসরণ হ্রাস করে পাকস্থলীকে সুস্থ রাখে এবং আলসার প্রতিরোধে সাহায্য করে।
- শিলাজিৎ সেবন করলে দেহে অতিরিক্ত ক্যালরি যোগান দেই।
- শিলাজিৎ দেহের বিভিন্ন জয়েন্টের ব্যথা নিরাময় করে ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।
- মানসিক চাপ কমিয়ে ঘুমের সমস্যা দূর করে।
- এটি অন্ত্রের পেশীগুলোকে শক্ত করে হজমে সাহায্য করে এবং শরীর থেকে খাদ্য নিষ্কাশন করে আপনাকে কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি প্রদান করে।
- শিলাজিৎ শুক্রানুর পরিমাণকে বৃদ্ধি করে পুরুষের বন্ধ্যাত্ব কম হতে সাহায্য করে।
- শিলাজিত পুরুষদের টেস্টেস্টরনের মাত্রা বৃদ্ধি করার ক্ষেত্রে অব্যর্থ টনিক হিসেবে কাজ করে।
- নিয়মিত শিলাজিৎ সেবনে পুরুষদের লিঙ্গের দৃঢ়তা বাড়ায় এবং টাইমিং বৃদ্ধি করে।
আরো পড়ুনঃ eno খাওয়ার অপকারিতা কি হতে পারে
শিলাজিৎ এর কাজ কি
শিলাজিদের মধ্যে ভিটামিন এবং আমিনো এসিডের উপস্থিতি রয়েছে যা জৈবিক এবং
ভূতাত্ত্বিকভাবেই তৈরি হয়েছে। এই শিলাজিৎ কে ইংরেজিতে মিনারেল ওয়াক্স বা
মিনারেল পিচ বলা হয়। শিলাজিতে ৬০ থেকে ৮০% হিউমিক এসিড ও ফুলভিক এসিড থাকে।
উল্লেখিত উপাদান গুলোর পাশাপাশি এতে রয়েছে ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম,
ক্যালসিয়াম সহ প্রায় ৮০টিরও বেশি খনিজ উপাদান।
তাই মানবদেহে শিলাজিৎ এর কাজ কি বলতে যে সকল কাজগুলো শিলাজিৎ করে থাকে তার মধ্যে
উল্লেখযোগ্য হচ্ছে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বৃদ্ধি করে,শরীরের ব্যথা এবং
জ্বালাপোড়া কমায়, পুষ্টি শোষণ বৃদ্ধি করে, হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা করে,
মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কে উন্নত করে এবং মানব দেহের শক্তি বৃদ্ধি করে।
এছাড়াও শিলাজিতের আরেকটি প্রধান কাজ হচ্ছে এটি পুরুষদের যৌন ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়
কারণ বর্তমানে অনেক পুরুষ মানুষেরই অসুস্থতা লাইফ স্টাইল ও মানসিক চাপের কারণে
ইরেক্টাইল ডিসফাংশানের মত সমস্যাগুলো বৃদ্ধি পাচ্ছে। আবার এসব কারণে
শুক্রানুও কমে যাওয়া ছাড়োও দ্রুত পতনের মতো সমস্যাগুলো তৈরি হচ্ছে। এই সকল
সমস্যাগুলো শিলাজিত সেবনের ফলে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।
আসল শিলাজিৎ চেনার উপায়
প্রিয় পাঠক, আজকাল আসল জিনিস খুঁজে পাওয়া খুবই কঠিন। শিলাজিৎ যেহেতু একটি
দামি প্রোডাক্ট তাই এটিতে ভেজাল দেওয়াটাই স্বাভাবিক। এখন আমি আসল শিলাজিৎ
চেনার উপায় হিসেবে বেশ কিছু নিয়ম বা পদ্ধতি উল্লেখ করবো। এগুলো যথাযথভাবে
অনুসরণ করলে আপনি আসল ও নকল শিলাজিৎ এর মধ্যে পার্থক্য করতে পারবেন এবং খাঁটি
বা আসল শিলাজিৎ কোনটি তা চিনতে পারবেন। তাই চলুন কথা না বাড়িয়ে পদ্ধতি বা
নিয়ম গুলো জেনে নেওয়া যাক।
- গন্ধ নিয়েঃ আসল বা অরিজিনাল শিলাজিতের গন্ধ হবে মেটে গন্ধ অর্থাৎ মাটি বা অ্যাসফাল্ট এর মত গন্ধ পাওয়া যাবে।
- হাতে চাপ দিয়ে পরীক্ষাঃ এই পদ্ধতিতে সামান্য পরিমাণ শিলাজিৎ হাতে নিন এবং হাতে চেপে ধরুন। এটি যদি আসল শিলাজিত হয় তবে আপনার শরীরের তাপে গলতে শুরু করবে কিন্তু যদি ভেজাল বা নকল শিলাজিৎ হয় তাহলে তা একই রকম থাকবে অর্থাৎ তা গলবে না।
- রং এবং টেক্সচার দেখেঃ অরিজিনাল বা আসল শিলাজিত এর রং হবে গাড়ো কালো বা গাড়ো বাদামি রঙের। এটি আঠালো যুক্ত টেক্সচার এবং খুবই মসৃণ হবে কিন্তু যদি বেশি শুকনো মনে হয় তাহলে তা ভেজাল বা নকল হতে পারে।
- পানিতে ভিজিয়ে পরীক্ষাঃ অল্প পরিমাণ শিলাজিৎ পানিতে দিন। এরপর খেয়াল করুন যদি তা সম্পূর্ণরূপে পানিতে দ্রবীভূত হয় এবং এর মধ্যে কোন কাঁদা বা কঠিন পদার্থ না থাকে তবে নিশ্চিত হতে পারেন যে এটি আসল শিলাজিৎ। আর যদি তা পানিতে সম্পন্ন রূপে পানিতে দ্রবীভূত না হয় এবং পাত্রের তলানিতে যদি কনা জমে থাকে তবে তা বুঝবেন যে এটি ভেজাল বা নকল শিলাজিৎ।
- আগুন দ্বারা পরীক্ষাঃ আসল অরজিনাল সিলাজিৎ কে আগুনে পোড়ালে এটি ধোয়া তৈরি করবে কিন্তু কখনো পুরোপুরি পুড়ে ছাই হবে না। আর যদি তা নকল বা ভেজাল সিলাজিত হয় তবে তা পুরোপুরি পুড়ে ছাই হয়ে যাবে।
আশা করছি আপনারা শিলাজিৎ বাংলাদেশে কোথায় পাওয়া যায় ও চেনার উপায়
সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পেয়েছে।
শিলাজিৎ এর দাম
শিলাজিৎ বাংলাদেশে কোথায় পাওয়া যায় ও চেনার উপায় জানাতো হলো এইবার চলুন
শিলাজিৎ এর দাম সম্পর্কে জানা যাক। বাংলাদেশে শিলাজিৎ এর দাম মূলত নির্ভর
করে এর ব্র্যান্ড এবং পরিমাপের উপর। আবার বাজারের চাহিদার উপরে অনেক সময়
দাম নির্ভর করে থাকে। বিভিন্ন অনলাইন মার্কেটপ্লেস এবং অনলাইন শপগুলো যাচাই
বাছাই করে এখানে কিছু দাম দেওয়া হল যেগুলো আপনি পড়লে শিলাজিৎ প্রাইস ইন
বাংলাদেশ অর্থাৎ বাংলাদেশে শিলাজিৎ এর দাম সম্পর্কে একটু হলেও ধারনা পাবেন।
- অনলাইন সপ সুক্কারশপ ডট কমে ৫০ গ্রাম সলিড শিলাজিৎ এর দাম ৫৫০ টাকা।
- বিডি সাপ্লিমেন্ট স্টোরে ২০ গ্রাম হিমালিয়ান শিলাজিৎ এর দাম দিয়ে রেখেছে ১৯৯০ টাকা।
- দ্যা নাট সেলার বা বাদাম আলা ওয়েবসাইটে তারা ১০০ গ্রাম শিলাজিতের দাম দিয়ে রেখেছে ৯৮০ টাকা।
- ইউ কে ডিরেক্ট বিডি ডট কম তারা তাদের ওয়েবসাইটে হিমালিয়ান শিলাজিৎ এর দাম দিয়ে রেখেছে ২২৫০ টাকা।
- রকমারি ডট কম তারা তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ১০০ গ্রাম সিলেট এর দাম দিয়ে রেখেছে ১৩০০ টাকা।
আশা করা যায় শিলাজিৎ প্রাইস ইন বাংলাদেশ অর্থাৎ শিলাজিতের দাম
বাংলাদেশে কত হবে সে সম্পর্কে আপনারা মোটামুটি একটু হলেও ধারণা
পেয়েছেন। তবে উপরোক্ত দামে থেকে কিছুটা কম বেশি হতে পারে শিলাজিৎ এর
দাম।
শিলাজিৎ এর পার্শপ্রতিক্রিয়া
শিলাজিৎ মানব স্বাস্থ্যের জন্য প্রচুর উপকারী তবুও এর কিছু পার্শ্ব
প্রতিক্রিয়া রয়েছে যা জেনে রাখাটা অতিব জরুরী। অপরিশোধিত শিলাজিতে
সিসা, পারদ এবং আর্সেনিকের মত ভারী ধাতু থাকতে পারে তাই অবশ্যই এটা
নিরাপদ হিসাবে গ্রহণ করার জন্য পরিশোধন বা রিফাইন করা হতে হবে।
- অধিকাংশ ডাক্তারদের মধ্যে থ্যালাসেমিয়াতে আক্রান্ত রোগীদের জন্য শিলাজিত এর ব্যবহার এড়িয়ে চলা উচিত কারণ এতে লোহার পরিমাণ বেশি থাকে যা থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জন্য পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে।
- আবার অধিকাংশ আয়ুর্বেদিক ডাক্তার গণের মতে, গাটের বাতে আক্রান্ত রোগীদের শিলাজিত খাওয়া উচিত নয় কারণ শিলাজিৎ ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বৃদ্ধি করে বলে জানা যায়।
- এছাড়াও শিলাজিৎ কখনো কাঁচা বা রান্না করে খাওয়া উচিত নয় কারণ এভাবে খেলে এর মধ্যে ভারী ধাতু বা ছত্রাক থাকতে পারে যা আপনাকে অসুস্থ্য করে তুলতে পারে।
তবে মনে রাখতে হবে যে আপনাকে অবশ্যই এটি একজন ভালো ডাক্তার বা
আয়ুর্বেদিকের পরামর্শ মতে সঠিক মাত্রায় গ্রহণ করতে হবে এবং এটি আপনার
জন্য সবচাইতে নিরাপদ হবে।
এখানে বিশেষ ভাবে উল্লেখ্য যে, শিলাজিৎ বাংলাদেশে কোথায় পাওয়া যায় ও চেনার উপায় সম্পর্কিত আর্টিকেলটি শুধুমাত্র সাধারণ তথ্যর জন্য। তাই স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। তথ্য ব্যবহারজনিত কোন ক্ষয়-ক্ষতির জন্য লেখক বা ওয়েবসাইট কোনভাবেই দায়ী নয়।
শেষকথাঃ শিলাজিৎ বাংলাদেশে কোথায় পাওয়া যায় ও চেনার উপায়
নিঃসন্দেহ বলা যায় শিলাজিৎ হচ্ছে প্রকৃতির এক অমূল্য দান যা মানব
দেহের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ভূমিকা
পালন করে থাকে। সঠিক নিয়ম মেনে এবং বিশুদ্ধ শিলাজিৎ সেবন করার মাধ্যমে
আপনি এর সর্বোচ্চ ফলাফল পেতে পারেন। শিলাজিৎ বাংলাদেশের কোথায় পাওয়া যায়
ও চেনার উপায় সম্পর্কিত পোস্টটিতে শিলাজিতের আসল উৎস এবং বাংলাদেশে কোথায়
কিভাবে পাওয়া যায় তা পুঙ্খানু পুঙ্খভাবে উল্লেখ করার চেষ্টা করেছি এবং
এটি কিভাবে চিনবেন তার উপায়ও বর্ণনা করা হয়েছে।
পরিশেষে একটি কথা অবশ্যই মনে রাখবেন শিলাজিৎ সঠিক পরিমাণে সেবন করা যেমন
উপকারী এর অতিরিক্ত ব্যবহার ক্ষতি বয়ে আনতে পারে। তাই অবশ্যই একজন ভালো
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এটি সেবন করবেন।



ব্লগ টু বাজারের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url