থানাকা ফেস প্যাক আসল নকল চেনার উপায়
থানাকা ফেস প্যাক আসল নকল চেনার উপায় খুঁজে দিব নিজের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে। থানাকা ফেসপ্যাক একটি জনপ্রিয় ভাইরাল ফেসপ্যাক যা আপনারা সকলেই জানেন। কিন্তু এই ভেজালের ভিড়ে আসল থানকা ফেসপ্যাক খুঁজে বের করা বড়ই কঠিন।
তাই এই ভেজালের ভিড়ে থানাকা ফেস প্যাক অরিজিনাল কিভাবে খুঁজে পাবেন তাই নিয়ে আজকে আমার এই ব্লগ পোস্টটি সাজানো হয়েছে। এই ব্লগ পোস্টটি যদি আপনি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ধৈর্য সহকারে পড়েন তবে থানাকা ফেস প্যাকের আসল ও নকলের পার্থক্য নিজেই করতে পারবেন।
পোস্ট সুচিপত্রঃ থানাকা ফেস প্যাক আসল নকল চেনার উপায়
- থানাকা ফেস প্যাক আসল নকল চেনার উপায়
- থানাকা ফেস প্যাক ব্যবহারের নিয়ম
- থানাকা ফেস প্যাক এর কাজ কি
- থানাকা ফেস প্যাক এর উপকারিতা
- থানাকা ফেস প্যাক দাম বাংলাদেশ
- থানাকা ফেস প্যাক রিভিউ
- থানাকা ফেস প্যাক এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
- থানাকা ফেস প্যাক কি প্রতিদিন ব্যবহার করা যায়
- শেষকথাঃ থানাকা ফেস প্যাক আসল নকল চেনার উপায়
থানাকা ফেস প্যাক আসল নকল চেনার উপায়
থানাকা ফেস প্যাক অরিজিনাল খুবই কঠিন কারণ বর্তমানে বাজারে অনেক ধরনেরই থানাকা
ফেস প্যাক পাওয়া যায়। যার মধ্যে অনেকগুলো ভেজাল ও নকল থানাকা ফেস প্যাক
রয়েছে। তাই আসল ও নকল থানাকা ফেস প্যাক চেনার সহজ উপায় হিসাবে ৭
কার্যকরী উপায় বর্ণনা করছি। এই উপায় গুলো মনোযোগ সহকারে পড়লে আপনি খুব সহজেই
পার্থক্য করতে পারবেন আসল ও নকল থানাকা ফেস প্যাক এর মধ্যে।
আমি এমন ভাবে আপনাদের সামনে আসল থানাকা ফেস প্যাক চেনার উপায় বর্ণনা করবো যেন
আপনি কৌটা না খুলেই শুধুমাত্র কৌটার কালার উপরের স্টিকার ফিনিসিং লেখা ইত্যাদি
দেখেই বুঝতে পারেন কোনটি আসল ও কোনটি নকল থানাকা ফেস প্যাক।
- রেপ্লিকা বা স্টিকারঃ অরিজিনাল থানাকা ফেস প্যাকের স্টিকার টি খুবই মসৃণ হয়ে থাকবে এবং রেপ্লিকাটি চিক চিক করবে অর্থাৎ চকচকে হবে।
- লেখা দেখেঃ অরজিনাল থানাকা কোটার নিচের দিকে ব্যাচ নাম্বার, এমএফজি ডেট, এক্সপায়ার ডেট গাঢ় কালো রঙের লিখা থাকবে যা স্পষ্টভাবে বোঝা যাবে। কিন্তু অপরদিকে নকল থানাকা কোটার নিচের দিকে লেখাগুলো অস্পষ্ট ভাবে ছোট আকারে সিলের মতো করে বসানো থাকে অর্থাৎ মনে হবে যে এটি না লিখে সিল বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। নকল থানাকা কৌটার নিচে লেখাগুলো এবড়ো থেবড়া হয়ে থাকে মানে স্পষ্ট করে লিখা থাকে না।
- ক্রিমের কালার দেখেঃ অরিজিনাল থানাকা ফেস প্যাক এর কালার হবে হালকা হলুদ কিন্তু ডুপ্লিকেট বা নকল ফেসপ্যাক এর কালার হয় গাঢ় হলুদ।
- কৌটার স্টিকারঃ প্রথমে থানাকার উপরে যে স্টিকার রয়েছে তার দিকে লক্ষ্য করুন স্টিকারে যে চন্দন কাঠের ছবি দেওয়া থাকে অরজিনাল হলে সেটি হলুদ রঙের হবে আর নকল থানাকা ফেস প্যাকের কোটার উপরে চন্দন কাঠের যে ছবি দেওয়া থাকে সেটি লাল রঙের হবে।
- কৌটার রংঃ আসল থানাকা ফেস প্যাক এর কৌটার গায়ের রঙ গাঢ় হলুদ রঙের হয় অপরদিকে নকল ভেজাল থানাকা ফেস প্যাক কোটা রং হালকা হলুদ অর্থাৎ সাদা হলুদ মিশ্রিত কালারের হয়ে থাকে।
- কৌটার বডি এবং মুখের ফিনিশিং দেখে: অরিজিনাল ধামাকা ফেসপ্যাক এর বডি এবং কোটার মুখের এর ফিনিশিং টা খুব সুন্দর হবে অর্থাৎ কোন গ্যাস থাকবে না লাগানোর সময় সুন্দরভাবে কেটে যাবে কিন্তু অপরদিকে ভেজাল বা নকল থানা থানা বডি এবং মুখের সাথে একটু আলাদা গ্যাপ থাকবে অর্থাৎ ফিনিশিং টা অতটা সুন্দর হবে না।
- ছোট প্যাকেট লিকুইড প্যাকেট: থানাকা ফেস প্যাক অরজিনালটির সাথে কোম্পানি থেকে একটি ছোট প্যাকেট লিকুইড দিয়ে থাকে যা আপনি যা আপনি নকল বা ডুপ্লিকেট থানাকা ফেস প্যাক এর সাথে পাবেন না।
- কৌটার ভিতরের স্টিকার দেখে:কোটা টি খুলে দেখুন অরজিনাল থানাকা ফেস প্যাকের কোটা মুখ খোলার পর যে স্টিকারটি পাওয়া যায় সেটি পরিষ্কার থাকে অর্থাৎ স্টিকার সাথে ক্রিম লেগে থাকে না এবং অবশ্যই ট্রান্সপারেন্ট এবং পাতলা হয়ে থাকে অপরদিকে নকল এলাকা ফেসপ্যাক এর স্টিকার টি দেখুন একটু ঘোলাটে এবং ক্রিম গুলো লেগে আছে স্টিকারের সাথে।
আরো পড়ুনঃ চুলের যত্নে ত্রিফলা ব্যবহারের সুবিধা
থানাকা ফেস প্যাক ব্যবহারের নিয়ম
বার্মিজ থানাকা ফেসপ্যাক বা চন্দন ফেইস প্যাক সঠিক নিয়মে ব্যবহার করলে অবশ্যই
ভালো ফলাফল পাবেন। তাই থানাকা ফেসপ্যাক এর সর্বোচ্চ ভালো ফলাফল পেতে হলে কিছু
নিয়ম মেনে চলা উচিত। চলুন এখন থানাকা ফেস প্যাক ব্যবহারের কিছু নিয়ম
জেনে নেওয়া যাক।
- থানাকা পেস্ট তৈরি করুনঃ প্রথমে একটি পাত্রে হাফ চামচ পরিমান থানাকা ক্রিম নিয়ে নিন এবং এর সাথে পরিষ্কার পানি বা গোলাপজল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন।
- মুখমণ্ডল পরিষ্কার করুনঃ এরপর একটি ফেসওয়াশ দিয়ে আপনার পুরো মুখমন্ডল কে পরিষ্কার করে নিন কারণ মুখে যদি ময়লা লেগে থাকে তবে থানাকা ফেসপ্যাক ভালোভাবে কাজ করবে না।
- ফেসপ্যাক মুখে লাগানঃ এখন হাতের আঙ্গুলে অল্প পরিমাণ থানাকা পেস্ট নিয়ে হালকাভাবে মুখে মাসাজ করুন যতক্ষণ না এটি আপনার ত্বকের সাথে মিশে যায়।
- কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুনঃ থানাকা ফেসপ্যাক টি মুখে লাগিয়ে অন্তত ২০ থেকে ২৫ মিনিট অপেক্ষা করুন অর্থাৎ এটি মুখে লাগিয়ে রাখুন।
- পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুনঃ আপনার ত্বকে লাগানো ফেসপ্যাক টি সম্পূর্ণ শুকিয়ে যাওয়ার পর হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
- ময়শ্চাররাইজার ব্যবহার করুনঃ সর্বশেষ কাজ হিসেবে কুসুম গরম পানি দিয়ে দেওয়ার পর মুখ মুছে নিয়ে একটি মশ্চারাইজার ব্যবহার করুন এতে আপনার তো কোমল ও নরম হবে।
থানাকা ফেস প্যাক এর কাজ কি
থানাকা ফেস প্যাক অরিজিনাল এর কাজ কি বা থানাকা ফেসপ্যাক কেন ব্যবহার করে এ
ব্যাপারে অনেকেই সঠিক তথ্য জানেন না। এই থানাকা ফেস প্যাকটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক
উপাদানে তৈরি হয় যা আপনার ত্বকের যত্নে অল ইন ওয়ান সুবিধা প্রদান করে থাকে।
এটি মূলত মায়ানমারের ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন পদ্ধতি ও প্রাকৃতিক উপাদান সমৃদ্ধ এই
থানাকা শতাব্দীর শতাব্দী ধরে নারীদের রূপচর্চায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এটি
মায়ানমারে পাওয়া থানাকা গাছের বাকল থেকে তৈরি করা হয়।
ত্বকের উজ্জ্বলতা স্থায়ীভাবে বৃদ্ধি করতে অর্থাৎ উজ্জ্বল প্রাণবন্ত করতে
থানাকা ফেস প্যাকের জুড়ি মেলা ভার। থানাকায় রয়েছে এন্টিঅক্সিডেন্ট যা আপনার
ত্বককে কোমল-মসৃণ এবং স্বাস্থ্যকর রাখতে সহায়তা করে এছাড়াও এতে রয়েছেন
কুমারীণ ও মারমেসিন নামক দুটি সক্রিয় উপাদান যা অ্যান্টিফাঙ্গাল ও অ্যান্টি
ব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য থাকার কারণে আপনার ত্বকের যাবতীয় ড্যামেজকে
রিপিয়ার করতে সাহায্য করে।
এছাড়াও থানাকায় রয়েছে ভিটামিন ই অর্থাৎ থানাকা ভিটামিন ই সমৃদ্ধ হওয়ায়
এটি আপনার ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করতে সাহায্য করে এবং দূষিত আবহাওয়া ও বায়ু
থেকেও রক্ষা করে। এটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি হওয়ার কারণে
ত্বকের জন্য এটি খুবই উপকারী। এটি নিয়মিত ব্যবহার করার ফলে ত্বকে ব্রণ
ও ব্রণের দাগ, অবাঞ্ছিত দাগ দূর করতে সাহায্য করে এবং রোদে পুড়ে যাওয়া
ত্বকের ক্ষেত্রে উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে নিয়ে আসে।
থানাকা ফেস প্যাক এর উপকারিতা
আপনি যদি আপনার ত্বকের স্থায়ীভাবে উজ্জ্বলতা বাড়াতে চান তাহলে অবশ্যই থানাকা
ফেস প্যাক আসল নকল চেনার উপায় বের করে থানাকা ফেসপ্যাক এর উপর ভরসা রাখতে হবে।
কারণ থানাকা ফেস প্যাক অরিজিনাল এর প্রাকৃতিক উপাদান গুলো ত্বকের বিভিন্ন রকম
সমস্যা দূর করতে খুবই কার্যকর। তাই আর কথা না বাড়িয়ে চলুন জেনে নেওয়া যাক
থানাকা চন্দন ফেস প্যাকটির কি কি উপকারিতা রয়েছে।
- ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিঃ থানাকা ফেস প্যাক ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করার জন্য অতুলনীয় কারণ এটি আপনার ত্বকের মেলানিন উৎপাদন কমিয়ে ত্বককে উজ্জ্বল মসৃণ প্রাণবন্ত করে তুলে।
- ত্বকের স্ক্রিন টোন ঠিক রাখেঃ এটি আপনার চেহারার বিভিন্ন ক্ষত বা দাগকে দূর করে আপনার চেহারার টোন কে সমান করে।
- বিভিন্ন দাগ দূর করেঃ ব্রণ এর দাগ মেছতার দাগ এবং অবাঞ্চিত যেকোনো দাগকে দূর করে ত্বকে লাবণ্যতা ফিরিয়ে আনে।
- ব্রণের সমস্যা দূর করেঃ থানাকা ফেস প্যাক একটি প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপটিক এর কাজ করে থাকে যার ফলে আপনার ত্বকের ব্রণ র্যাশ এবং অন্যান্য সংক্রমণ প্রতিরোধে সহায়তা করে এছাড়াও এটি তিল বা তিলের দাগ দূর করতেও সাহায্য করে।
- রিংকেলস রিমুভ করেঃ একি ত্বকের সেল রিনিউয়াল প্রক্রিয়াকে বৃদ্ধি করে দীর্ঘ সময়ের জন্য ত্বকের তারুণ্যতা ধরে রাখে।
- রোদে পুড়ে যাওয়া ত্বকের ক্ষেত্রেঃ এটি রোদে পুড়ে যাওয়া ত্বকের দাগ দূর করতে সাহায্য করে এবং উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে নিয়ে আসে।
এছাড়া এটি ত্বকের একটি শীতলতা ভাব এনে দেয় যা আপনার ত্বককে জ্বালাপোড়া
থেকে বাঁচায়। এটি আপনার বয়সের ছাপ দূর করে ত্বককে টানটান করে রাখে ত্বকের
পোরোসকে লুকিয়ে রেখে আপনাকে এনে দেয় দারুন এক লাস্যময়ী উজ্জ্বল চেহারা।
থানাকা ফেস প্যাক দাম বাংলাদেশ
বাংলাদেশে থানাকা ফেস প্যাক এর দাম সাধারণত ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে শুরু হয়।
আর এটি মূলত একটি মায়ানমারের প্রোডাক্ট আমাদের দেশি প্রোডাক্ট নয় তাই এটির দাম
বিভিন্ন বিষয়ের উপর নির্ভর করে। যেমন বিভিন্ন ইম্পোর্টার বিভিন্ন রকম দামে সেল
করে থাকেন। আবার এর দাম নির্ভর করে যে এটি কত গ্রামের কোটা বা প্যাকেট। এছাড়াও
ব্র্যান্ড ও ধরন অনুযায়ী দাম ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। তবে অনলাইনে বিভিন্ন
মার্কেট প্লেস যাচাই-বাছাই করে থানাকা ফেস প্যাক দাম উল্লেখ করা হলো। এখানে
শুধুমাত্র দাম সম্পর্কে একটি প্রাথমিক ধারণা দেওয়া হইলো।
- এফ বি বাজার তাদের ওয়েবসাইটে ১৪০ গ্রাম ওজনের থানাকা চন্দন ফেসপ্যাক এর দাম ৭৫০ টাকা উল্লেখ করেছেন তারা প্যাকেজিং এর কন্ডিশন দেখিয়েছে হাইজেনিক এবং সিলকৃত।
- রকমারি ডট কমে থানাকা চন্দন ফেসপ্যাক ১৪০ গ্রামের দাম তারা দেখাচ্ছে ১ হাজার টাকা। তারা তাদের ওয়েবসাইটে কান্ট্রি অফ অরজিন দেখিয়েছে মায়ানমার।
- অনলাইন মার্কেট ওয়েবসাইট এনাবেলি থানাকা চন্দন ফেস প্যাক ১৪০ গ্রাম ওজনের থানাকা ফেস প্যাক দাম ৪১০ টাকা দেখিয়েছে।
- সান গ্যালারি ১৪০ গ্রাম অরিজিনাল থানাকা ফেসপ্যাক এর দাম ৭৫০ টাকা দিয়ে রেখেছে তবে তারা ১৫০ টাকা ছাড়ে ৬০০ টাকা দাম রাখছে।
- ফ্লিপ মার্ট তাদের ওয়েবসাইটে থানা কা ফেসপ্যাক এর দাম দিয়ে রেখেছে ৪৫০ থেকে ৭০০ টাকা।
- ফ্রেস রোজ ডট কম তাদের ওয়েবসাইটে চন্দন থানা কা ফেসপ্যাক ১৪০ গ্রামের দাম দিয়ে রেখেছেন ৯৫০ টাকা।
- কুইক বাজার বিডি.কম তাদের ওয়েবসাইটে ৫০ গ্রাম থানাকা ফেস প্যাক দাম দিয়ে রেখেছেন ৩৫০ টাকা যা পূর্বে ছিল ৪৫০ টাকা।
থানাকা ফেস প্যাক রিভিউ
থানাকা এমন একটি ফেসপ্যাক যা শত বছর ধরে রূপচর্চায় ব্যবহার হয়ে আসছে তাইতো
এই আধুনিক সময়ে এসেও এটি এখনো অধিক জনপ্রিয়। ব্যবহারকারীদের সাধারণ
অভিজ্ঞতার আলোকে থানাকা ফেসপ্যাক রিভিউ দিচ্ছি। ব্যবহারকারীদের সাধারণ
তথ্যমতে এটি ব্যবহার করার পর খুব দ্রুত উপকার পেয়েছেন এবং এটি ত্বককে টানটান
-মসৃণ এবং উজ্জ্বল করে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
এর ভালো দিকগুলো উল্লেখ করে বলতে হয় এটি ত্বককে ঠান্ডা রাখে এবং ন্যাচারালি
সান প্রটেকশন দেয় বলে অনেকে মনে করেন। আবার অনেকেই এরকম রিভিউ দিয়েছেন যে
এটি যদি নিয়মিত ব্যবহার করা হয় তাহলে স্ক্রিনটন বেশ উজ্জ্বল লাগে বিশেষ করে
যাদের তেলতেলে স্কিন। তাই যাদের তেলতেলে স্ক্রিন রয়েছে তাদের রিভিউ এইরকম
যে, এটা তেল নিয়ন্ত্রণের দুর্দান্ত কাজ করে অর্থাৎ যাদের ত্বক অয়েলি এটা
তাদের জন্য খুব সুবিধা জনক মুখের তেল তেলে ভাবটা অনেকটাই কম দেখায়।
থানাকা ফেসপ্যাক এর কিছু খারাপ দিকের ব্যাপারেও রিভিউ পাওয়া
যায় যেমন একটি ড্রাই স্কিনে শুষ্কতা এনে দেয়। তাই যাদের স্কিন ড্রাই হয়ে
থাকে তাদেরকে আলাদাভাবে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হয়। আবার অনেক
ব্যবহারকারী এরকম অভিযোগ করেন যে এটি যদি খুব ভালোভাবে গ্রাইন্ড বা মেশানো না
থাকে তাহলে মসৃণভাবে স্কিনে লাগানো কঠিন হয়ে পড়ে অর্থাৎ মসৃণ ভাবে স্কিনে
লাগে না।
থানাকা ফেস প্যাক এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
আমরা জানি থানাকা ফেসপ্যাক সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি একটি নিরাপদ
ফেসপ্যাক তবুও এটি অনেকের ক্ষেত্রে কিছু কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে
পারে। তাই থানাকা ফেস প্যাক ব্যবহারের ক্ষেত্রে যাদের সতর্ক হওয়া উচিত
এবং যে সকল বিষয় নিয়ে সতর্ক হওয়া উচিত তা উল্লেখ করা হইলো।
- যাদের ত্বকে বা শরীরে এলার্জির সমস্যা রয়েছে তারা ভুলেও এ ফেসপ্যাকটি ইউজ বা ব্যবহার করবেন না। যদি আপনি এটি ব্যবহার করতে চান তবে অবশ্যই আপনি প্রথমে প্যাচ টেস্ট করে নিবেন। এখানে উল্লেখ্য যে, প্যাচ টেস্ট হচ্ছে একটি অ্যালার্জির পরীক্ষা।
- আবার যারা দীর্ঘদিন থেকে স্কিন সাইন ক্রিমটি ইউজ করছেন তারা এটি ব্যবহার করবেন না।
- যাদের রোদে মুখ জ্বালাপোড়া করে, রান্না ঘরে গেলে মুখ বেশি ঘেমে যায় এবং যাদের রোদ সহ্য হয় না রোদে গেলেই মুখ লাল হয়ে যায় তারাও এই ফেসপ্যাকটি ব্যবহার করবেন না। তাদের ক্ষেত্রে একটি গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে।
- অনেকের ক্ষেত্রে এটি ত্বকে জ্বালা পোড়া তৈরি করতে পারে তাই যদি অতিরিক্ত জ্বালা বড় অনুভব করেন তাহলে এটি ব্যবহার করা বন্ধ করুন।
- এছাড়াও আরো কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে যেমন ত্বকের অতিরিক্ত শুষ্কতা। থানাকা ফেসপ্যাক কিছু কিছু ক্ষেত্রে ত্বকের শুষ্কতা বৃদ্ধি করতে পারে। সে ক্ষেত্রে আপনি এটি মধু মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন।
- এটির অতিরিক্ত ব্যবহারও সমস্যা কারণ হতে পারে। এটি বেশি ব্যবহার করার কারণে ত্বকের প্রাকৃতিক তেল কমে গিয়ে ত্বক রুক্ষ ও শুষ্ক করে তুলতে পারে।
থানাকা ফেস প্যাক কি প্রতিদিন ব্যবহার করা যায়
থানাকা ফেস প্যাক কি প্রতিদিন ব্যবহার করা যাবে না কারন এর ব্যবহারও সমস্যা
কারণ হয়ে দেখা দিতে পারে। এটি অতিরিক্ত ব্যবহার করলে ত্বক শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে
যেতে পারে। আবার এটি অতিরিক্ত ব্যবহারে ত্বকে জ্বালাপোড়া বা লালচে ভাব দেখা
দিতে পারে। তাই এটি কোনভাবেই বা কখনোই প্রতিদিন ব্যবহার করা উচিত হবে না।
এটি এক সপ্তাহ বা সাত দিনের মধ্যে দুই থেকে তিনবার ব্যবহার করায় যথেষ্ট হবে।
এটি সঠিক ব্যবহার যেমন আপনার ত্বকের জন্য ভালো ফলাফল নিয়ে আসবে তেমনি অতিরিক্ত
ব্যবহার আপনার ত্বকের জন্য ক্ষতিকরও হতে পারে। তাই আপনার ত্বক উজ্জ্বল, ফর্সা,
প্রাণবন্ত ও লাস্যময়ী করতে এটির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করুন। মনে রাখবেন
অতিরিক্ত কোনো কিছুর জন্যই ভালো না।
আরো পড়ুনঃ
ডায়াবেটিসে চিড়া খাওয়া যাবে কি
এখানে বিশেষ ভাবে উল্লেখ্য যে, থানাকা ফেস প্যাক আসল নকল চেনার উপায় বিষয়ক আর্টিকেলটি শুধুমাত্র সাধারণ তথ্যর জন্য। এটি কোন ওষুধ বা চিকিৎসার অংশ নয় এবং এটি ডাক্তার এর প্রেসক্রিপশন বা পরামর্শের বিকল্পও হিসাবে কাজ করবে না। তাই স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। তথ্য ব্যবহারজনিত কোন ক্ষয়-ক্ষতির জন্য লেখক বা ওয়েবসাইট কোনভাবেই দায়ী নয়।
শেষকথাঃ থানাকা ফেস প্যাক আসল নকল চেনার উপায়
প্রিয় পাঠক, থানাকা ফেস প্যাক আসল নকল চেনার উপায় হিসেবে আপনি যে বিষয়গুলো
অবশ্যই খেয়াল রাখবেন তা হচ্ছে থানাকার রঙ ও গন্ধ, এর প্যাকেজিং, স্টিকার এবং
উপাদান তালিকা দেখে ক্রয় করার চেষ্টা করবেন। থানাকা ফেসপ্যাক অরিজিনাল
পাওয়ার জন্য সর্বোপরি একজন বিশ্বস্ত বিক্রেতার উপর ভরসা করতে পারেন অর্থাৎ
চেষ্টা করবেন একজন বিশ্বস্ত বিক্রেতার কাছ থেকে থানাকা ফেসপ্যাক কেনার।
আমার আজকের আর্টিকেলটি যদি আপনাদের কাছে ভালো লেগে থাকে তবে অবশ্যই আপনার
পরিচিত বন্ধুবান্ধব এবং আত্মীয়স্বজনদের সাথে পোস্টটি শেয়ার করবেন এবং কোন
ভুল ভ্রান্তি আপনাদের চোখে ধরা পড়লে তা অবশ্যই কমেন্টে জানাবেন যেন আমি তা
সংশোধন করতে পারি।


ব্লগ টু বাজারের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url