গ্রিন টি এর উপকারিতা ও অপকারিতা জানুন সঠিক তথ্য
গ্রিন টি এর উপকারিতা ও অপকারিতা নিয়ে লেখা আজকের আর্টিকেলটিতে আপনাদের স্বাগতম। আপনারা আজকের আর্টিকেল থেকে জানতে পারবেন গ্রিন টি এর উপকারিতা সহ গ্রিন টি কীভাবে ওজন কমাতে সাহায্য করবে এবং কখন কিভাবে গ্রিন টি খেলে এর সর্বোচ্চ উপকারিতা পাবেন। এছাড়াও আরো জানতে পারবেন গ্রিন টিতে কি কি পুষ্টি উপাদান রয়েছে ও গ্রিন টি তৈরির নিয়ম সহ গ্রিন টি সম্পর্কিত অজানা সকল তথ্য।
আপনি যদি একজন স্বাস্থ্য ও সচেতন মানুষ হয়ে থাকেন তবে গ্রিন টি এর উপকারিতা ও অপকারিতা জেনে রাখা খুবই জরুরী। তাই আপনি ধৈর্য ধরে আর্টিকেলটি সম্পন্ন করতে থাকুন এবং গ্রিন টি সম্পর্কিত আপনার মনের অজানা সকল উত্তর জেনে নিন।পোস্ট সূচিপত্রঃ গ্রিন টি এর উপকারিতা ও অপকারিতা
গ্রিন টি এর উপকারিতা ও অপকারিতা
বিভিন্ন প্রকারের পানীয়র মধ্যে একটি স্বাস্থ্য উপকারী পানীয় হচ্ছে গ্রিন টি।
একে অনেক সময় বিশ্বের সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর পানীয় গুলোর একটি বলে বিবেচনা করা
হয়। গ্রিন টিতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে যা ত্বক ভালো রাখে,
হৃদরোগ ও ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়, ওজন কমাতে সাহায্য করে, মস্তিষ্কের
কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে, হজম শক্তিকে উন্নত করে এবং মুখের স্বাস্থ্যকে ভালো রাখে।
কিন্তু এত সব উপকার থাকা সত্ত্বেও এটি সকলের জন্য সব সময় উপকারী নয়। এটি
অতিরিক্ত পরিমাণে পান করলে মানবদেহের নেতিবাচক প্রভাবও পড়তে পারে। কারণ অতিরিক্ত
পরিমাণে খেলে পলিফেনল বেশি হয়ে সমস্যা তৈরি হতে পারে এছাড়াও গ্রিন টিতে রয়েছে
ক্যাফেইন ট্যানিন ও ক্যাটাচিন। তাই অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রিন টি পান করলে মাথা
ব্যথা হজমের সমস্যা ও ঘুমের সমস্যা হতে পারে।
এছাড়াও যদি এটি বেশি পরিমাণে পান করা হয় তবে পেট ব্যথা, বমি ভাব, কোষ্ঠকাঠিন্য
এবং শরীরের আয়রনের ঘাটতিও দেখা দিতে পারে। তাই এটি কতটুকু পরিমাণে কখন কিভাবে
খেলে উপকারিতা পাওয়া যাবে এবং কিভাবে খেলে এটি ক্ষতি করবে সে সম্পর্কে নিচে
বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হইলো।
আরো পড়ুনঃ ডায়াবেটিস রোগীর খাবার চার্ট pdf
গ্রিন টি খাওয়ার নিয়ম ও সতর্কতা
নিঃসন্দেহে বলা যায় গ্রিনটি একটি স্বাস্থ্য উপকারী পানীয়। ওজন কমাতে বা
সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য গ্রিন টি এর ওপরে অনেকেই ভরসা রাখেন। কিন্তু
গ্রিন টি পান করার ক্ষেত্রে বেশ কিছু নিয়ম বা সতর্কতা মেনে চলা উচিত। কারণ
গ্রিন টি স্বাস্থ্যের জন্য যেমন কিছু উপকারিতা রয়েছে তেমনি এর কিছু
অপকারিতাও রয়েছে। তাই গ্রিন টি খাওয়ার নিয়ম ও সতর্কতা না জেনে পান
করলে আপনার ক্ষতিও হতে পারে। তাই চলুন জেনে নেওয়া যাক গ্রিন টি পানের কিছু
নিয়ম বা সতর্কতা।
- সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে গ্রিন টি খাওয়া উচিত নয় কারণ এর ফলে পেট ব্যথা কোষ্ঠকাঠিন্য ও বমি ভাব হতে পারে কারণ গ্রিনটিতে ট্যানিন নামের যে উপাদান রয়েছে তা পেটে এসিড বৃদ্ধি করতে পারে। আর এই অতিরিক্ত এসিডের কারণে বমি ভাব ও কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা দেখা দিতে পারে।
- যাদের পেপটিক আলসার রয়েছে অথবা এসিড রিফ্লাক্সে আক্রান্ত রোগীদের খালি পেটে গ্রিন টি পান করা উচিত নয় কারণ এতে তাদের অতিরিক্ত এসিডের কারণে শারীরিক অবস্থা আরো খারাপ হতে পারে।
- গ্রিন টিতে প্রচুর পরিমাণে ক্যাফেইন থাকে তাই এটি বেশি পরিমাণে পান করলে অনিদ্রা দেখা দিতে পারে। এমনকি গভীর রাতে খেলে ঘুমের ব্যাঘাত সৃষ্টি হতে পারে।
- যে সকল রোগীরা রক্তস্বল্পতার রোগে ভুগছেন তাদের গ্রিন টি হতে দূরে থাকায় উচিত কারণ এটি শরীরে আয়রনের পরিমাণ কমিয়ে দিতে পারে। তবে কেউ যদি গ্রিন টি পান করতে চাই তবে অবশ্যই খালি পেটে না করে ভরা পেটে গ্রিন টি পান করা উচিত।
ওজন কমাতে গ্রিন টি খাওয়ার নিয়ম
ওজন কমাতে চাইলে অবশ্যই আপনাকে মেটাবলিজম ও ফ্যাট বার্নিং বাড়াতে হবে। আর
এর জন্য আপনাকে অবশ্যই দিনে ২-৩ কাপ গ্রিন টি চিনি ছাড়া খাবারের এক থেকে
দুই ঘন্টা আগে বা পরে পান করতে হবে, যা আপনার মেটাবলিজম ও ফ্যাট বার্নিং
বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এখানে একটি বিষয় অবশ্যই আপনাকে মনে রাখতে
হবে যে, ওজন কমানোর জন্য প্রত্যক্ষভাবে না হলেও পরোক্ষভাবে গ্রিন টির
যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে।
তবে শুধু গ্রিন টি খেয়ে ওজন কমানো সম্ভব না। মনে রাখা জরুরী যে ওজন কমানোর
জন্য নির্দিষ্ট ডায়েট অনুসরণ ও নিয়মিত ব্যায়াম এবং একই সাথে খাদ্য
তালিকায় গ্রিন টি রাখলে এটি দ্রুত ওজন কমাতে সাহায্য করবে। ওজন কমানোর
জন্য গ্রিন টি খাওয়ার সঠিক সময় হচ্ছে ভারী খাবার গ্রহণের দুই ঘন্টা আগে
বা পরে অর্থাৎ খাবার গ্রহণের পরপরই গ্রিন টি না খেয়ে কিছুটা সময় বিরতি
দিয়ে পান করতে হবে।
দ্রুত ফ্যাট বার্ন করতে চাইলে ব্যায়াম বা শরীরচর্চার ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট আগে
গ্রিন টি পান করতে হবে। এছাড়াও এটি খালি পেটে পান না করায় ভালো হবে এবং
দিনে দুই থেকে তিন কাপের বেশি গ্রহণ না করা স্বাস্থ্যসম্মত হবে।
আসল গ্রিন টি চেনার উপায়
খাঁটি বা আসল গ্রিন টি চেনার পূর্বে জানতে হবে আসল গ্রিন টি বলতে কি
বুঝায়। আসল গ্রিন টি হচ্ছে এমন ধরনের গ্রিন টি যা উৎপাদন বা
প্রক্রিয়াজাত করার সময় কোন ধরনের কৃত্রিম রং, সুগন্ধি বা রাসায়নিক কোন
উপাদান মেশানো বা ব্যবহার করা হয়নি। আসল বা খাঁটি গ্রিন টি সরাসরি গাছের
কচি পাতা থেকে তৈরি হয় যা সঠিক উপায়ে সঠিক তাপমাত্রায় শুকিয়ে সংরক্ষণ
করা হয়।
চলুন এবার জেনে নেওয়া যাক আসল গ্রিন টি চেনার কিছু কার্যকরী উপায়।
- আসল বা ভেজাল মুক্ত গ্রিন টি এর রং হবে হালকা সবুজ বা হলুদ বর্ণের কিন্তু ভেজাল বা নিম্নমানের গ্রিন টি এর রং হবে গাঢ় সবুজ বা বাদামি বর্ণের।
- আসল গ্রিন টি এর গন্ধ হবে হালকা,সতেজ, কচি ঘাসের মত। অপরদিকে ভেজাল বা নিম্নমানের গ্রিন টিতে কৃত্রিম সুগন্ধী মেশানো থাকবে।
- আসল গ্রিন টিনের পাতার আকার বড় হবে এটি মূলত মার্চ এপ্রিল মাসে চাষ করা হয় এবং এই মাসের মধ্যেই সর্বোচ্চ ভালো গ্রিন টি পাওয়া যায়।
- এছাড়াও আসল প্যাকেটে ইজিসিজি লেখা থাকবে। আশা করা যায় উপরোক্ত বিষয়গুলো খেয়াল করলে আপনি আসল গ্রিনটি কোনটি সহজেই চিনতে পারবেন।
আরো পড়ুনঃ ডায়াবেটিসে চিড়া খাওয়া যাবে কি
গ্রিন টি এর উপকারিতা
- ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে :গবেষণা সূত্রে পাওয়া গিয়েছে যে গ্রিনটিতে রয়েছে পলি ফেনাল যা ক্যান্সার বিরোধী কার্যকলাপকে উৎসাহিত করে থাকে। এতে উপস্থিত এন্টি অক্সিডেন্টগুলি টিউমার গুলোর মধ্যে নতুন রক্তনালী তৈরিতে বাধা প্রদান করে যা ক্যান্সার কোষগুলিকে বৃদ্ধি পেতে সাহায্য করে থাকে।
- বার্ধক্য দূর করে আয়ু বৃদ্ধি করে : গ্রিন টিয়ে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা বার্ধক্যের গতিকে মন্থর করে এবং আয়ু বৃদ্ধি করে। এছাড়াও এটি বয়সের ছাপ কমাতে সাহায্য করে একই সাথে ত্বক ও চুলের সুস্থতায় দারুন ভাবে কাজ করে থাকে।
- কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে হার্টের সমস্যা দূর করে: পূর্বেই বলা হয়েছে গ্রিন টিতে এন্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, কার্ডিওভাসকুলার স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটাতে সাহায্য করে। ফলে প্রতিদিন নিয়মিত গ্রিনটি পান করার ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে। এটি খারাপ কোলেস্টেরলকে কমায় এবং ভালো কোলেস্ট্রল এইচডিএল এর বৃদ্ধি ঘটায়।
- ওজন কমাতে সাহায্য করে: গ্রিন টিতে রয়েছে বায়ো-আক্টিভ পদার্থ যা দেহের বিপাক বৃদ্ধি করে ওজন কমাতে যথেষ্ট সাহায্য করে। এছাড়াও গ্রিন টিয়ে আরও কিছু উপাদান রয়েছে যা শরীরের তৈরি হওয়া চর্বি কোষগুলোকে মুক্ত করতে এবং মেটাবলিজম বৃদ্ধি করে ফ্যাট বার্ন করতে সাহায্য করে।
- শরীরের আদ্রতা কে ধরে রাখে: গ্রিন টি শরীরের আদ্রতা কে ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং আপনাকে সারা দিন সতেজ ও উদ্যমী রাখে। এছাড়া এটি পানীয় জলের মতোই হাইড্রেশন প্রদান করে থাকে।
- মেয়েদের হরমোনের সমতা ঠিক রাখে: গ্রিন টি মহিলাদের হরমোনের ভারসাম্যহীনতাকে সঠিক রাখতে সাহায্য করে। গ্রীন টিতে ফ্লাভোনোইড ও কাচেটিন উপস্থিত থাকার কারণে স্বাস্থ্যকর উপায়েই প্রোজেস্টেরন হরমোন বৃদ্ধি করে। যেসব মহিলাদের মাসিক চক্র অনিয়ত হয় তাদের জন্য গ্রিন টি হতে পারে একটি পারফেক্ট সলিউশন কারণ এটি মাসিক চক্র কে নিয়মিত করতেও সাহায্য করে।
- মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য বৃদ্ধি: গ্রিন টিতে উপস্থিত থাকা ক্যাফেইন এবং এলথিয়ানিনের অন্যান্য সংমিশ্রণ মস্তিষ্কের কার্যকারিতার ওপর উপকারী ইফেক্ট তৈরি করতে পারে। এই যৌগগুলি স্মৃতিশক্তি ধরে রাখা,কাজের সময় মনোযোগ ধরে রাখা এবং মানসিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি সহ অন্যান্য জ্ঞানীয় কার্যকারিতা উন্নত করতে সহায়তা করে।
- মানসিক সুস্থতা বৃদ্ধি: গ্রিন টি চাপের মাত্রা কমিয়ে মানসিক সুস্থতা বৃদ্ধি করতে পারে কারণ এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যামিনো এসিড ও এলথিয়ানিন যা মস্তিষ্কে আলফা তরঙ্গ তৈরি করে ফলে তন্দ্রা বা ঘুম না এনে প্রশান্তি এবং শিথিলতার অবস্থা তৈরি করতে যথেষ্ট সাহায্য করে।
- দাঁত ও মাড়ির উপকারিতা: গ্রিন টিয়ে উপস্থিত থাকা ক্যাটিচিন মুখের মধ্যে ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাসের বৃদ্ধিকে হ্রাস করে মুখে দুর্গন্ধ দূর করে দাঁতের ক্ষয় এবং মাড়ি রোগ হতে দূরে রাখে।
গ্রিন টি এর অপকারিতা
গ্রিন টি এর উপকারিতা ও অপকারিতা উভয়েই রয়েছে। আমরা এতক্ষন গ্রিন
টি এর উপকারিতা সস্পর্কে জেনেছি ,তাই চলুন এখন এর কিছু অপকারিতা
সম্পর্কেও জেনে নেওয়া যাক।
- অনিদ্রার জনিত সমস্যা: গ্রিন টিতে রয়েছে ক্যাফেইন তাই এটি বেশি পরিমাণে পান করলে অনিদ্রা জনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়াও গ্রিন টি বেশি পরিমাণে পান করা ফলে কারো কারো ক্ষেত্রে অস্থিরতা বা উদ্বেগও তৈরি হতে পারে।
- পাকস্থলী জনিত সমস্যা: গ্রিন টিতে রয়েছে ট্যানিন নামক উপাদান। এই উপাদান পেটে এসিডের মাত্রা কে বৃদ্ধি করে, যার দ্বারা বমি ভাব, এসিডিটি এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পারে।
- হাড়ের স্বাস্থ্য জনিত সমস্যা: অতিরিক্ত গ্রিন টি সেবনের ফলে শরীর থেকে ক্যালসিয়াম শোষণ বাধা সৃষ্টি করতে পারে যা হাড় দুর্বল করে দিতে পারে।
- রক্তস্বল্পতা দেখা দিতে পারে: গ্রিন টি শরীরে আয়রন শোষণের বাধা দিতে পারে তাই যাদের শরীরে আয়রনের অভাব রয়েছে তাদের গ্রিন টি পানে সতর্ক হওয়া জরুরি।
মোটা দাগে একটি কথা বলা যায় যে, পরিমাণ মতো গ্রিন টি পানে এর
উপকারিতা রয়েছে কিন্তু অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রিন টি পান করা
স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে আসতে পারে।
গ্রিন টি তৈরির নিয়ম
গ্রিন টিকে অন্যান্য চায়ের মত উচ্চ তাপমাত্রায় পুড়ানো হয় না। গ্রিনটি
মূলত তৈরি করায় ফার্মেন্টেশন ছাড়া যেন এর সবুজ রং অক্ষুন্ন থাকে। প্রথমে
চা পাতাকে আংশিক রোদে শুকানো হয় তারপর একে বাষ্পায়িত করা হয় এরপর
বাষ্পায়িত চা পাতাকে রোদে শুকিয়ে নেওয়া হয় এবং সর্বশেষে তাপ দিয়ে
গ্রিন টিতে পরিণত করা হয়। সর্বোচ্চ পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ গ্রিন টি পেতে চাইলে
মার্চ এপ্রিল মাসে যে গ্রিন টি চাষ করা হয় সেই গ্রিন টি আপনাকে সংগ্রহ
করতে হবে। উত্তমরূপে গ্রিন টি সংরক্ষণ করতে চাইলে পোর্সেলিন বা বদ্ধ কাঁচ
পাত্রে সংরক্ষণ করতে হবে।
সঠিক উপায়ে গ্রিন টি বানানোর জন্য এক চা চামচ বা পাঁচ গ্রাম গ্রিন টি
নিয়ে নিন। এরপর পানি গরম করে ফুটিয়ে নিন (৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস
তাপমাত্রায়) ফুটাতে পারলে সবচাইতে ভালো হয়। এরপর ফুটানো পানি সামান্য
ঠান্ডা হলে স্টিল বা কাঁচের পাত্রে রাখতে হবে। এরপর চা পাতা দিয়ে ২ -৩
মিনিট ঢাকনা দিয়ে রাখতে হবে। এরপর চা পাতা পুরোপুরি ভিজে গেলে তা ছাঁকনি
দিয়ে ছেঁকে পাত্রে ঢেলে নিন। ব্যাস তৈরি হয়ে গেল আপনার পছন্দের পানীয়।
একটু বাড়তি বা আলাদা ফ্লেভারের জন্য এতে আপনি দারুচিনি গুড়া বা এলাচ
গুঁড়ো অথবা সামান্য পরিমাণ আদাও যোগ করতে পারেন।
গ্রিন টি দাম কত
গ্রিন টি এর দাম ব্র্যান্ড গুণমান এবং পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত
হয়ে থাকে। বিভিন্ন বাজার বিশ্লেষণ করে গ্রিন টি এর নিম্নোক্ত দামগুলো দেখা
যায়। বর্তমানে বাংলাদেশে সাধারণ ব্র্যান্ডের ৫০ পিছের গ্রিন টি ব্যাগের
দাম প্রায় ১৬০ থেকে ২০০ টাকা হয়ে থাকে। অনলাইন মার্কেট শপ টি বাজার বিডি
তাদের ওয়েবসাইটে দিয়ে রেখেছে স্পেশাল গ্রিন টি ১০০ গ্রাম এর দাম ৩৫৫
টাকা। মা-মনি এক কেজির দাম ৪ হাজার টাকা এ গ্রেড কোয়ালিটির। অনলাইন
মার্কেট শপ ফালাক ফুড তাদের ওয়েবসাইটে ১০০ গ্রাম গ্রিন টি এর দাম দিয়ে
রেখেছে ৫৫০ টাকা।
ইস্পাহানি ব্লেন্ডার্স চয়েস প্রিমিয়াম গ্রিন টি ১০০ গ্রামের দাম ১৭৫
টাকা। ইস্পাহানি কোম্পানির ২৫পিছ এর টি ব্যাগের দাম ১১০ টাকা এবং 50 টি
ব্যাগের দাম ২০০ টাকা। এছাড়াও কিছু অর্গানিক গ্রিন টি পাওয়া যায় সেগুলোর
দাম এক কেজি অর্গানিক গ্রীন টি এর দাম ২৫০০ টাকা। ৫০০ গ্রাম অর্গানিক গ্রীন
টি এর দাম ১২৫০ টাকা, ১০০ গ্রাম অর্গানিক গ্রীন টি এর দাম ২৫০ টাকা এবং ৫০
গ্রাম অর্গানিক গ্রিন টি এর দাম ১৩০ টাকা।
এখানে উল্লেখিত দামগুলো স্থান, অঞ্চল, ব্র্যান্ড এবং সময় ভেদে কিছুটা কম
বেশি হতে পারে তবে গ্রিন টি কেনার আগে অবশ্যই বাজার দর যাচাই করে
কিনবেন।
এখানে বিশেষ ভাবে উল্লেখ্য যে, গ্রিন টি এর উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কিত আর্টিকেলটি শুধুমাত্র সাধারণ তথ্যর জন্য। এটি কোন ওষুধ বা চিকিৎসার অংশ নয়। তাই স্বাস্থ্য সংক্রান্ত যে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন। তথ্য ব্যবহারজনিত কোন ক্ষয়-ক্ষতির জন্য লেখক বা ওয়েবসাইট কোনভাবেই দায়ী নয়।
শেষকথাঃ গ্রিন টি এর উপকারিতা ও অপকারিতা
প্রিয় পাঠক, গ্রিন টি মানবদেহের জন্য অত্যন্ত স্বাস্থ্য উপকারী একটি পানীয়।
যা সঠিক সময়ে সঠিক উপায়ে নিয়ম মেনে পান করলে অবশ্যই এর উপকারিতা পাওয়া
যাবে কিন্তু এটি অতিরিক্ত পরিমাণে পান করলে ক্ষতিরও আশঙ্কা রয়েছে। তাই আমি
আশা করছি আজকের এই পোস্টটি আপনারা ভালোভাবে পড়ে গ্রিন টি এর উপকারিতা এবং
অপকারিতা সম্পর্কে জানতে পেরেছেন এবং এটি কখন কিভাবে পান করা উচিত তা
সম্পর্কেও আপনারা জানতে পেরেছেন।
প্রিয় পাঠক, এরকম স্বাস্থ্য সম্পর্কিত উপকারী আর্টিকেল পেতে আমাদের পেজটি
এখনই সাবস্ক্রাইব করে রাখুন এবং আমাদের এই আর্টিকেলটি যদি আপনার কাছে ভালো
লেগে থাকে তবে অবশ্যই আপনার পরিচিত বন্ধুবান্ধব এবং আত্মীয় স্বজনের সাথে
শেয়ার করুন। আমাদের সম্বন্ধে কোন মূল্যবান মন্তব্য বা পরামর্শ থাকলে তা
অবশ্যই কমেন্টসে জানাবেন।

ব্লগ টু বাজারের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url