পাতলা পায়খানার এন্টিবায়োটিক ট্যাবলেট এর নাম কি

পাতলা পায়খানার এন্টিবায়োটিক ট্যাবলেট এর নাম জানার জন্য আমরা হর হামেশাই গুগলে বা ইন্টারনেটে সার্চ করে থাকি। কারণ পাতলা পায়খানার ওষুধ বা এন্টিবায়োটিক এর নাম জানা থাকলে খুব জরুরী মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সহজ হতে পারে। 

পাতলা পায়খানার এন্টিবায়োটিক ট্যাবলেট এর নাম

যাই হোক পাতলা পায়খানার এন্টিবায়োটিক ট্যাবলেট বা ওষুধের নাম জানলেই তো আর হবেনা, এর সঠিক ডোজ, ব্যবহারের নিয়ম, বয়স অনুযায়ী এর মাত্রা বা ব্যবহার এবং সতর্কতা নিয়ে আজকের এই আর্টিকেলে বিস্তারিত আলোচনা করব।

পোস্ট সূচিপত্রঃ পাতলা পায়খানার এন্টিবায়োটিক ট্যাবলেট এর নাম

পাতলা পায়খানায় কেন এন্টিবায়োটিক খেতে হবে

পাতলা পায়খানার এন্টিবায়োটিক ট্যাবলেট এর নাম জানার পূর্বে পাতলা পায়খানার ওষুধ হিসাবে কেন আপনি এন্টিবায়োটিক খাবেন তা জানা জরুরী। পাতলা পায়খানা বা ডায়রিয়া হলে কেন এন্টিবায়োটিক খেতে হয় এই প্রশ্নটা খুব গুরুত্বপূর্ণ কারণ বাস্তব ক্ষেত্রে সব ডায়রিয়ায় অ্যান্টিবায়োটিকের দরকার হয় না বরং নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে ডায়রিয়ায় অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন হয়। 

ডায়রিয়া যদি ব্যাকটেরিয়া বা পরজীবের দ্বারা হয়ে থাকে তাহলে এন্টিবায়োটিক খেতে হবে এবং এন্টিবায়োটিক এক্ষেত্রে কাজ করবে। পাতলা পায়খানার ওষুধ এন্টিবায়োটিক খাওয়ার মূল কারণ হলো ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করা। এখানে একটি বিষয় বুঝিয়ে বলা দরকার তা হচ্ছে ,যখন ডায়রিয়া হয় ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার কারণে যেমন ডিসেন্ট্রি বা  কলেরা তখন এন্টিবায়োটিক জীবাণুকে মেরে ফেলে এবং ডায়রিয়া রোগ দ্রুত ভালো করে এবং অন্যান্য জটিলতাকে কমাতে সাহায্য করে। 

এছাড়াও যদি ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানা তিন থেকে পাঁচ দিনের বেশি হয়ে থাকলে তখন শরীরে জীবাণু থেকে যেতে পারে তখন এন্টিবায়োটিক দিয়ে সেই জীবাণুকে নিষ্ক্রিয় করা হয়। এছাড়াও পাতলা পায়খানায় অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ এই কারণে খেতে হয় ডিহাইড্রেশন বা পানি সল্পতার ফলে শরীর যদি দুর্বল হয়ে পড়ে তখন এন্টিবায়োটিক দিলে তার দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে। 

উপরের কথাগুলো শুধুমাত্র একটি সাধারণ তথ্য হিসাবে নেওয়া উচিত কারণ। যেকোনো রোগের ক্ষেত্রে এন্টিবায়োটিক ওষুধ একটি খুবই স্পর্শকাতর বিষয়। পাতলা পায়খানায় এন্টিবায়োটিক ওষুধ কেন খেতে হবে এর সঠিক ব্যাখ্যা বা পরামর্শ একমাত্র একজন অভিজ্ঞ রেজিস্টার্ড ডাক্তার ভালো বলতে পারবেন।

পাতলা পায়খানা হলে কখন এন্টিবায়োটিক প্রয়োজন 

পাতলা পায়খানার অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ সব সময় খাবার দরকার হয়না বরং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এন্টিবায়োটিক না খেলেই ভালো হয়ে যায়। কারণ অনেক সময় ডায়রিয়া হয় ভাইরাসের কারণে যেখানে অ্যান্টিবায়োটিক কোন কাজই করে না। আমি পূর্বেই বলেছি এন্টিবায়োটিক তখনই কাজ করবে যখন তা ব্যাকটেরিয়ার দ্বারা সংক্রমিত হবে। অর্থাৎ ব্যাকটেরিয়ার দ্বারা বা কিছু পরজীবী দ্বারা সংক্রমিত ডায়রিয়ার ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে। 

তবে কিছু লক্ষণ রয়েছে যা দেখা দিলে ডাক্তারের পরামর্শে এন্টিবায়োটিক খেতে হবে যেমন 
  • রক্ত বা প্রযুক্ত পায়খানা: এই ধরনের পায়খানা সাধারণত ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ এর লক্ষণ হিসাবে ধরা হয়। 
  • দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া: যদি একটানা (৩-৫) বেশি সময় ধরে ডায়রিয়া চলতেই থাকে সেক্ষেত্রে এন্টিবায়োটিক এর প্রয়োজন হতে পারে।
  • বেশি তাপমাত্রা জ্বর: উচ্চ জ্বর ১০১°F ফারেনহাইট বা তার বেশি তাপমাত্রার জ্বর সহ ডায়রিয়া দেখা দিলে বা শরীরে মারাত্মক ইনফেকশন থাকলে এন্টিবায়োটিক খেতে হতে পারে।
  • মারাত্মক পেট ব্যথা: টাইগার সাথে মারাত্মক পেট ব্যথা দিলে বিশেষ করে ক্রামপিং টাইপের ব্যথা হলে এন্টিবায়োটিক খেতে হতে পারে।
  • ইমিউনিটি দুর্বল রোগী: যে সকল রোগীদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা খুবই কম যেমন ডায়াবেটিস ক্যান্সার রোগী বা বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ডাক্তারদের পরামর্শ অনুযায়ী এন্টিবায়োটিক খেতে হতে পারে।

পাতলা পায়খানার এন্টিবায়োটিক ট্যাবলেট এর নাম

পাতলা পায়খানার এন্টিবায়োটিক ট্যাবলেটের নাম জানলেই আপনি এটা খাওয়া শুরু করতে পারেন না। কারণ আপনার রোগের লক্ষণ, ধরন, বয়স,ওজন অনুযায়ী একজন অভিজ্ঞ রেজিস্টার্ড ডাক্তার আপনার রোগ নিরাময়ের ক্ষেত্রে এন্টিবায়োটিক প্রয়োজন কিনা তা ঠিক করে দিবেন। একই সাথে এর ডোজ বা মাত্রা এবং কয়দিন কিভাবে খেতে হবে তাও তিনি ঠিক করে দিবেন এবং সেই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী আপনাকে পাতলা পায়খানার এন্টিবায়োটিক খেতে হবে। 

মনে রাখার জরুরি যে, এখানে প্রদত্ত তথ্যগুলো শুধুমাত্র সাধারণ গাইডলাইন বিবেচিত হবে। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া আপনি এন্টিবায়োটিক ওষুধ শুরু করবেন না। নিচে ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানার এন্টিবায়োটিক হিসাবে প্রচলিত বাংলাদেশের বিভিন্ন কোম্পানিও ব্র্যান্ডের নাম সহ এন্টিবায়োটিক এর  জেনেরিক নাম তুলে ধরছি।
  1. সিপ্রোফ্লোক্সাসিন (Ciprofloxacin): প্রাপ্তবয়স্কদের ব্যাকটেরিয়াল ডায়রিয়ার ক্ষেত্রে এটি বহুল ব্যবহৃত একটি পাতলা পায়খানার এন্টিবায়োটিক ওষুধ। এগুলো সাধারণত বাজারে সিপ্রোসিন, নিয়োফ্লক্সিন, সিপ্রো নামে পরিচিত। 
  2. মেট্রোনিডাজল (Metronidazole): এই এন্টিবায়োটিক ওষুধটি আমাশয় বা পরজীব জনিত সংক্রমন প্রতিরোধে পাতলা পায়খানার এন্টিবায়োটিক হিসাবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এখানে আমাশয় বলতে রক্তসহ পায়খানার কথা বোঝানো হয়েছে। এটি বাজারে স্কয়ার কোম্পানি ফিলমেট, ইনসেপ্টা কোম্পানি মেট্রো এবং অপশনিন কোম্পানি মেট্রোনিড নামে বাজারজাত করে থাকেন। 
  3. এজিথ্রোমাইসিন (Azithromycin): পানির মত ডায়রিয়া এবং একই সাথে জ্বর দেখা দিলে ডায়রিয়ার অ্যান্টিবায়োটিক হিসাবে এই ওষুধটি ব্যবহার করা হয়। এর জেনেটিক নাম হচ্ছে এজিথ্রোমাইসিন। এটি ইনসেপ্টা কোম্পানি এজিথ্রোসিন(Azithrocin), স্কয়ার কোম্পানি এজিথ্রীন (Azithrin)এবং বেক্সিমকো কোম্পানি এজিথ(Azyth) নামে মার্কেটে বাজারজাত করে থাকেন। 
  4. এরিথ্রোমাইসিন (Arythromycin): এটি বিশেষ কিছু ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণে বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা হয়। এটি জনপ্রিয় ব্র্যান্ড নামগুলো হচ্ছে এরিমাইসিন(Eromycin), Erythro ইত্যাদি।
  5. রিফ্যাক্সিমিন (Rifaximin): এটি ট্রাভেলার্স ডায়রিয়া থেকে সুস্থ করতে ব্যবহার করা হয়। এটি স্কয়ার কোম্পানি রিফাক্সিন (Rifaxin) এবং পপুলার ফার্মাসিটিক্যাল লিমিটেড রিফ্যাক্স (Rifax) নামে বাজারজাত করে থাকেন।
পাতলা পায়খানার এন্টিবায়োটিক ট্যাবলেট এর নাম

পেট খারাপ এর ঔষধ নাম

পেট খারাপ হওয়া বা পেটের গন্ডগোল আমাদের দেশে খুবই একটি সাধারণ স্বাস্থ্যসমস্যা। পেট খারাপের কারণ হিসাবে সাধারণত খাবারের সমস্যা, দূষিত পানি, জীবাণু দ্বারা সংক্রমণ যেমন ভাইরাস/ব্যাকটেরিয়া বা পরজীবী ইত্যাদির কারণে সংক্রমণ অথবা হজমের কারণেও পেট খারাপের মত সমস্যা দেখা দিতে পারে। পেট খারাপ বলতে বারবার পাতলা পায়খানা হওয়া, পেট ব্যথা করা বা পেট মোচড়ানো অথবা বমি বমি ভাব ইত্যাদি বিষয়গুলোকে সাধারণত বুঝানো হয়।

পেট খারাপের বা পাতলা পায়খানার ওষুধ হিসাবে প্রথমে আপনাকে যেটা মাথায় রাখতে হবে তা হচ্ছে (স্যালাইন + জিংক)। এটি সবচেয়ে জরুরী চিকিৎসা হিসাবে প্রাথমিকভাবে ধরা হয়। ওরাল রিহাইড্রেশন সলিউশন (ORS) স্যালাইন বারবার খাওয়া যেতে পারে। এমনকি প্রতিবার পায়খানা হওয়ার পরে এক গ্লাস খাওয়া যেতে পারে একই সাথে জিংক সালফেট দিনে একবার করে খেতে পারেন। এছাড়াও পেট খারাপের ওষুধ হিসাবে লোপেরামাইড (Imotil,Lopamid,Emodium) এছাড়াও পেট খারাপের ওষুধ হিসাবে যে সকল ওষুধ রয়েছে তা হচ্ছে ফিলমেট বা ফ্লাজিল।

তবে আপনার পেট খারাপের ধরন যেমনি হোক না কেন চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া পেট খারাপের বা পাতলা পায়খানার ঔষধ খাওয়া উচিত নয়। কারণ ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া যেকোনো ধরনের ওষুধ গ্রহণ করলে আপনার স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে তাই যেকোনো ধরনের ওষুধ সেবনের পূর্বে অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ রেজিস্টার ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

বড়দের পাতলা পায়খানার ট্যাবলেট এর নাম 

হঠাৎ করে কারো ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানা হলে এটিকে অনেকেই ওষুধ খেয়ে থামানোর চেষ্টা করে থাকেন কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ডায়রিয়ায় কোন ওষুধ খাওয়ার প্রয়োজন হয় না। ডায়রিয়া হওয়ার ফলে শরীর থেকে যে লবন পানি বেরিয়ে যায় সেটা খাওয়ার স্যালাইন দিয়ে পূরণ করতে পারলেই আপনি সুস্থ হয়ে উঠবেন। মনে রাখা জরুরী যে , বেশিরভাগ ডায়রিয়া নিজে থেকেই সেরে যায়। তবে অবস্থা খুব খারাপ বা গুরুতর হলে অবশ্যয় ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ খেতে হবে। ডায়রিয়া বন্ধ হওয়ার কিছু প্রচলিত ওষুধ রয়েছে চলুন সেই ওষুধ গুলোর নাম জেনে নেওয়া যাক।

বড়দের পাতলা পায়খানা বা ডায়রিয়ার জন্য চিকিৎসকেরা সাধারণত লপেরামাইড(Loperamide) গ্রুপের ওষুধ যেমন ইমোটিল(Imotil) বা ইমোডিয়াম(Imodium) খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। আবার অবস্থা যদি খুব জটিল বা গুরুতর হয় তবে মেট্রোনিডাজল বা ফ্লাজিল এবং জিংক ট্যাবলেট দিয়ে থাকেন।

বড়দের পাতলা পায়খানার ট্যাবলেট হিসেবে লোপামাইড, ইমোটিল ২ মি.গ্রা. ফ্লাজিল, এজিথ্রোমাইসিন, সিপ্রোফ্লকসিন ইত্যাদি ঔষধ গুলোই দেওয়া হয়ে থাকে। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা মনে রাখা উচিত শুধুমাত্র ট্যাবলেট খেলেই হবেনা একই সাথে ORS স্যালাইন এবং বেশি বেশি পানি খেতে হবে। কখনোই নিজে নিজে অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ খাবেন না এবং রক্তসহ পায়খানা বা জ্বর থাকলে দ্রুত একজন অভিজ্ঞ ডাক্তারের শরণাপন্ন হবেন।

পাতলা পায়খানার ক্ষেত্রে যে কোন ওষুধ ট্যাবলেট বা এন্টিবায়োটিক এর চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো রিহাইড্রেশন বা শরীরে পানির ঘাটতি পূরণ করা। এক্ষেত্রে প্রতিবার পায়খানার পর হাফ কেজি বাধা লিটার পানিতে এক প্যাকেট স্যালারি পুরোটাই মিশে পান করুন এবং একই সাথে ভাতের মাড়, চিড়ার পানি বা ডাবের পানি বেশি বেশি পান করুন।

বাচ্চাদের পাতলা পায়খানার ট্যাবলেট এর নাম

বাচ্চাদের পাতলা পায়খানার ট্যাবলেট এর নাম বা সিরাপ এর নাম লিখে যদি আপনি ইন্টারনেট বা গুগলে সার্চ দেন তবে অনেকগুলোই নাম পেয়ে যাবেন। তবে কখনোই ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া আপনার আদরের সোনামণিকে পাতলা পায়খানার ওষুধ বা সিরাপ খাওয়াবেন না। কারণ পাতলা পায়খানা বা ডায়রিয়া বাচ্চাদের জন্য খুবই বিপদজনক। শিশুদের পাতলা পায়খানা যেকোন মুহূর্তে ডিহাইড্রেশন বা পানি শূন্যতার দিকে নিয়ে যেতে পারে। 

সাধারণত চিকিৎসকগণ বাচ্চাদের ডায়েরিয়া প্রতিরোধে খাবার স্যালাইন, জিংক ট্যাবলেট, লোপারামাইড এবং গুরুতর ক্ষেত্রে এন্টিবায়োটিক জাতীয় ওষুধের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। নিচে বাচ্চাদের পাতলা পায়খানার ট্যাবলেট এর নাম দেওয়া হইল যা বাজারে বা ফার্মেসিতে পাওয়া যায়।
  • ও আর এস (ORS): ওরাল রিহাইড্রেশন সলিউশন বা খাবার স্যালাইন 
  • জিংক ট্যাবলেট (Zinc tablet)
  • শিপ্রোফ্লক্সিন- Ciprofloxacin (অ্যান্টিবায়োটিক)
  • লোপারামাইড (Loperamaide)
  • এমোক্সিসিলিন (Amoxicillin)
  • এমোডিস সিরাপ(Amodis Syrup)
  • জোক্স সিরাপ (Zox Syrup)
  • নাইটানিড সিরাপ(Nitanid Syrup)
  • ফিলমেট সিরাপ (Filmet Syrup)
মনে রাখবেন বাচ্চাদের পাতলা পায়খানার ক্ষেত্রে এখানে যে ওষুধগুলোর নাম উল্লেখ করা হয়েছে এগুলো শুধুমাত্র সাধারণ পরামর্শ হিসাবে দেওয়া হয়েছে। এটি কোন রোগের সুস্থতা বা সমাধান হিসেবে উল্লেখ করা হয় নাই।

গর্ভাবস্থায় পাতলা পায়খানার ট্যাবলেট এর নাম

গর্ভাবস্থায় পাতলা পায়খানার ট্যাবলেট বা কোন ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া খাওয়া উচিত নয়। গর্ভাবস্থায় পাতলা পায়খানা বা ডায়েরি হলে খুব সতর্ক হয় ওষুধ খেতে হবে। মনে রাখা জরুরি যে গর্ভাবস্থায় পাতলা পায়খানার সব ট্যাবলেট নিরাপদ নয় তাই ডাক্তারের পরামর্শ সবচেয়ে জরুরী।

তবে গর্ভাবস্থায় পাতলা পায়খানার ট্যাবলেট বা ওষুধ হিসাবে যেগুলো ব্যবহার করা হয় সেগুলো হচ্ছে ওর স্যালাইন বা (ORS ) ওরাল রিহাইড্রেশন সল্ট। গর্ভাবস্থায় পাতলা পায়খানার ক্ষেত্রে এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রথমেই এটি খেতে হবে কারণ এটি খাওয়ার ফলে শরীরে পানিশূন্যতা দূর করবে।

এছাড়াও অনেক সময় জিংক ট্যাবলেট বা সিরাপ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে যা ডায়রিয়ার সময় কালকে কমায়। এছাড়াও অবস্থা খুবই গুরুতর হলে গর্ভাবস্থায় ডায়রিয়ার জন্য ওষুধ হিসাবে লোপেরামাইড নামক একটি ওষুধ ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে। এটি বাজারে ইমোডিয়াম নামে যে কোন ফার্মেসিতে কিনতে পাওয়া যায়। 

তবে মনে রাখা জরুরি যে, গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাস এটি এড়িয়ে চলা জরুরী তাই পারতোপক্ষে গর্ভাবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধটি ব্যবহার না করায় ভালো।
পাতলা পায়খানার এন্টিবায়োটিক ট্যাবলেট এর নাম

পাতলা পায়খানার ঔষধ স্কয়ার

বাংলাদেশে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড এর উপর মানুষের আস্থা খুবই ভালো। কারণ এটি দেশের প্রথম সারির ফার্মাসিটিক্যালস কোম্পানি যা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে ফার্মাসিটিক্যালস মার্কেটে প্রথম অবস্থান ধরে রেখেছে। স্কয়ার ফার্মার ওষুধগুলো বাংলাদেশের মানুষের কাছে বেশি বিশ্বস্ত এবং ভালো মানের এবং অধিকাংশ ডাক্তারদের মধ্যে জনপ্রিয়।

স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের পাতলা পায়খানার এন্টিবায়োটিক ট্যাবলেট এর নাম হচ্ছে সিপ্রোসিন (Ciprosin) যার জেনে নাম হচ্ছে Ciprofloxacin এটি স্কয়ার কোম্পানির একটি শক্তিশালী এন্টিবায়োটিক হিসাবে পরিচিত। ব্যাকটেরিয়াজনিত ডায়রিয়া টাইফয়েড পাতলা পায়খানা এবং অন্ত্রের সংক্রমণ প্রতিরোধে এটি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। স্কয়ার কোম্পানির অন্যতম পরিচিত ডায়রিয়ার এটি অ্যান্টিবায়োটিক।

স্কয়ার কোম্পানির পাতলা পায়খানার ওষুধের মধ্যে রয়েছে আমোডিস ৪০০ (Amodis 400), ইমোটিল ২ মি. গ্রাম (Imotil), ইমোটিল প্লাস(Imotil Plus), এলমেক্স ৪০০ (Almex 400), সিপ্রোসিন ৫০০ মি. গ্রা.(Ciprocin), স্কয়ার জিংক।

এছাড়াও বাচ্চাদের পাতলা পায়খানার জন্য স্কয়ার কোম্পানির সিরাপ হচ্ছে জক্স সিরাপ (Zox Syrup), জেসাপ সিরাপ (Zesup Syrup) বাংলাদেশে স্কয়ার ফার্মাসিটিক্যাল এর উপরোক্ত ওষুধগুলো খুব সহজেই যে কোন নিকটস্থ ফার্মাসিতে পাওয়া যায়। এই ওষুধগুলো খুবই সহজলভ্য।

আরো পড়ুনঃ গ্রিন টি এর উপকারিতা ও অপকারিতা জানুন সঠিক তথ্য

এখানে বিশেষ ভাবে উল্লেখ্য যে, পাতলা পায়খানার এন্টিবায়োটিক ট্যাবলেট এর নাম সম্পর্কিত আর্টিকেলটি শুধুমাত্র সাধারণ তথ্যর জন্য। এটি কোন ওষুধ বা চিকিৎসার অংশ নয় এবং এটি ডাক্তার এর প্রেসক্রিপশন বা পরামর্শের বিকল্পও হিসাবে কাজ করবে না। তাই স্বাস্থ্য সংক্রান্ত যে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ রেজিস্টার্ড ডাক্তারের পরামর্শ নিন। বিশেষ সতর্কতা হচ্ছে যে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কখনোই কোনো ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করবেন না। তথ্য ব্যবহারজনিত কোন ক্ষয়-ক্ষতির জন্য লেখক বা ওয়েবসাইট কোনভাবেই দায়ী নয়।

শেষকথাঃ পাতলা পায়খানার এন্টিবায়োটিক ট্যাবলেট এর নাম

পাতলা পায়খানার এন্টিবায়োটিক ওষুধ এর নাম জেনে রাখা ভালো, তবে অ্যান্টিবায়োটিক এর নাম জেনেই তা সেবন করা উচিত হবে না। মনে রাখবেন ডায়রিয়া হলে প্রথম কাজ হল শরীরকে পানি শূন্যতা থেকে রক্ষা করা। খাবার স্যালাইন, বিশুদ্ধ পানি এবং পুষ্টিকর তরল খাবারই ডায়রিয়া মোকাবেলার আসল অস্ত্র। পাতলা পায়খানার ক্ষেত্রে যদি চিকিৎসক আপনাকে অ্যান্টিবায়োটিক সেবন এর পরামর্শ দিয়ে থাকেন তবে শুধুমাত্র তখনই এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করবেন।

প্রিয় পাঠক, আমাদের এই আর্টিকেলটি যদি আপনাদের কাছে ভালো লেগে থাকে তবে আপনার পরিচিত বন্ধুবান্ধব আত্মীয় স্বজনদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। আমাদের সাথে যোগাযোগের প্রয়োজন হলে যোগাযোগ পেজে দেওয়া লিংকে ক্লিক করে আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারবেন এবং আমাদের সম্পর্কে আপনার মূল্যবান কোনো মতামত থাকলে তা অবশ্যই কমেন্টসে জানাবেন।



এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ব্লগ টু বাজারের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

Md. Abu Saleh
Md. Abu Saleh
আমি একজন ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট আমি অনলাইন ইনকাম, ব্লগিং, SEO ও টেকনোলজি নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করি।