শিশুদের জিংক সিরাপ এর উপকারিতা কি
শিশুদের জিংক সিরাপ এর উপকারিতা সম্পর্কিত আজকের এই পোস্টে আপনাদেরকে স্বাগতম। জিংক বাচ্চাদের শরীরের খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান কারণ এর অভাবে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং নানা ধরনের অসুখ-বিসুখে আক্রান্ত করে।
জিংক সিরাপ বাচ্চাদেরকে কেন খাওয়াবেন ,কখন খাওয়াবেন, কিভাবে খাওয়াবেন, কতটুকু পরিমাণে খাওয়াবেন এবং এর দাম ও এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া কি কি? এছাড়াও জিংক সিরাপ সম্পর্কিত যাবতীয় অজানা প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবো।
পোস্ট সূচিপত্র ঃ শিশুদের জিংক সিরাপ এর উপকারিতা
- শিশুদের জিংক সিরাপ এর উপকারিতা
- জিংকের কাজ কি এবং কিভাবে কাজ করে
- Xinc B এর কাজ কি
- Xinc B syrup এর কাজ কি
- Xinc syrup এর কাজ কি
- Xinc B syrup এবং Xinc syrup এর আসল পার্থক্য
- বেবি জিংক সিরাপ বাংলাদেশ
- জিংক সিরাপ এর দাম কত
- শেষকথাঃ শিশুদের জিংক সিরাপ এর উপকারিতা
শিশুদের জিংক সিরাপ এর উপকারিতা
শিশুদের জিংক সিরাপ এর উপকারিতা জানার আগে আপনাকে জানতে হবে জিংক আসলে কি ?
জিংক হলো শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় একটি খনিজ উপাদান। মানবদেহে এটি খুব অল্প
পরিমাণে প্রয়োজন হয় কিন্তু এর কাজ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জিংক কি এর উত্তরে বলা
যায় যে, এটি একটি মাইক্রো মিনারেল যা মানব দেহ বা শরীর নিজে তৈরি করতে পারেনা।
তাই এই অতি প্রয়োজনীয় মিনারেলটি খাবার বা ওষুধের মাধ্যমে নেওয়া হয়। জিংক
ছাড়া শরীরের অনেক কাজ ঠিকঠাক ভাবে হয় না। যেমন রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করা বা
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা, ক্ষত সারানো , ত্বক চুল ইত্যাদিকে ভালো রাখা।
শারীরিক বৃদ্ধি স্বাভাবিক রাখতে জিংকের অবদান অপরিসীম কারণ জিংক হাড়, পেশি এবং
শরীরের কোষ গঠনে সাহায্য করে থাকে তাই শিশুর উচ্চতা এবং ওজন ঠিকমতো বাড়াতে
জিংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। এছাড়াও জিংক বাচ্চাদের খাবার প্রতি
চাহিদা বাড়িয়ে তুলে অর্থাৎ খাবারের রুচি বৃদ্ধি করে যার ফলে শিশুরা খাবার
ভালোভাবে খেতে পারে।
জিংকের ঘাটতির ফলে মস্তিষ্কের স্মরণশক্তি বা শেখার ক্ষমতা কমে যেতে পারে তাই এ
ক্ষেত্রে স্মরণশক্তি ও শেখার ক্ষমতা উন্নত করতে জিংকের ভূমিকা অতুলনীয়।
এছাড়াও জিংক শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কে বৃদ্ধি করে, ডায়রিয়া বেশি হওয়া
থেকে রক্ষা করে, চুল পড়া বা ত্বকের সমস্যা দূর করে এবং মস্তিষ্কের বিকাশে
সহায়তা করে থাকে।
জিংকের কাজ কি এবং কিভাবে কাজ করে
জিংক সিরাপ এর উপকারিতা বর্ণনার পূর্বে একটি বিষয় মনে রাখা উচিত শিশুদের শরীরে
জিংক খুবই একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এটি শিশুদের শারীরিক ও মানসিক এবং শিশুর
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে এবং সুস্থ বিকাশে সহায়তা করে থাকে। শিশুদের
শরীরে জিংক কিভাবে কাজ করে চলুন জেনে নেওয়া যাক।
- জিংক শিশুর ক্ষুধামন্দা দূর করতে খুব ভালো কাজ করে থাকে। যে সকল শিশুরা ভালোভাবে খেতে পারেনা তাদের জন্য জিংক খুবই প্রয়োজনীয় একটি উপাদান। এটি শিশুর রুচি এবং ক্ষুধাকে বৃদ্ধি করে তাই শিশুদের খাবারের রুচি বৃদ্ধিতে একটি অতুলনীয়।
- শিশুদের মেধা শক্তি এবং স্মরণশক্তি বৃদ্ধির জন্য জিংক অতুলনীয় উপাদান। মস্তিষ্কের বিকাশে সহায়ক হিসেবে জিংক খুব ভালো কাজ করে। সরস্বতী ও শেখার ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে জিংক খুবই কার্যকরী ভূমিকা রাখে।
- দ্রুত শারীরিক বৃদ্ধিতে জিংক সহায়তা করে থাকে। জিংক হাড় পেশী ও শরীরের কোষ গঠনে সহায়তা করে। তাই যে সকল শিশু জিংকের অভাবে ভুগতে থাকে তাদের উচ্চতা ওজন ঠিকমতো বাড়ে না।
- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য জিংক অতীব জরুরী একটি উপাদান। কারণ এটি শিশুর দেহে সর্দি, কাশি, জ্বর, ডায়রিয়া ও বিভিন্ন রকমের সংক্রমণের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
- জিংক শরীরের ক্ষত বা চামড়ার সমস্যা খুব দ্রুত নিরাময় করে এছাড়াও এটি কাটাছেঁড়া বা ত্বকের সমস্যা ভালো হতে সাহায্য করে থাকে।
Xinc B এর কাজ কি
জিংক মানবদেহের বায়োলজিক্যাল ফাংশন যেমন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করার
প্রজনন বা শারীরিক বৃদ্ধি এবং মানসিক বিকাশের জন্য অপরিহার্য। পূর্বেই বলা
হয়েছে জিংক বি হচ্ছে জিংক এবং ভিটামিন বি কমপ্লেক্সের একটি যৌথ মিশ্রণ।
মানবদেহে জিংকের ঘাটতি মেটাতে এবং ত্বক, চুল ও শরীরের কোষ ভালো রাখতে
জিংক অপরিহার্য উপাদান।
এছাড়াও জিন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং বারবার অসুস্থ হওয়া
থেকে রক্ষা করে। এইজিং খুদাপাড়াতে সাহায্য করে এবং দুর্বলতা কমিয়ে আনেন। আবার
জিপি ট্যাবলেটের উপস্থিত ভিটামিন বি কমপ্লেক্স শক্তি বৃদ্ধি করে স্নায়ুর কাজ
ঠিকঠাক রাখে এবং মাথা ঘোরা ও দুর্বলতা কমায়। এছাড়াও এটি ডায়রিয়া বা
অসুস্থতার পর শরীরে দুর্বলতা কাটাতে সাহায্য করে অর্থাৎ শরীর খুবই দ্রুত রিকভার
করে।
তবে এই ওষুধ গ্রহণ করার পূর্বে অবশ্যই একজন রেজিস্টার্ড ডাক্তারের পরামর্শ
অনুযায়ী ডোজ বা মাত্রা ঠিক করে নিতে হবে। এই ওষুধ নিজের ইচ্ছামতো দীর্ঘদিন না
না খাওয়াই ভালো হবে। এটি বেশি পরিমাণে খেলে বমি বা পেট ব্যথা হতে পারে তাই
অবশ্যই এটি অন্য ভিটামিন বা আয়রন ওষুধের সাথে খাওয়ার আগে অবশ্যই ডাক্তারের
পরামর্শ নিন।
Xinc B syrup এর কাজ কি
Xinc B syrup হচ্ছে একটি ফুড সাপ্লিমেন্ট অর্থাৎ এটি পুষ্টি সম্পূরক হিসাবে
মানবদেহে কাজ করে। এই সিরাপে দুই ধরনের পুষ্টি উপাদান থাকে একটি হচ্ছে জিংক এবং
অপরটি ভিটামিন বি কমপ্লেক্স। জিংক ছোট বাবুদের উচ্চতা ওজন বৃদ্ধিতে
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ,ক্ষত দ্রুত শুকাতে সাহায্য করে, দেহের ইমিউন
সিস্টেমকে শক্তিশালী করে থাকে। এছাড়াও ডায়রিয়া জনিত কারণে শরীরের জিংকের
ঘাটতি কমাতে এটি সাহায্য করে থাকে।
আর ভিটামিন বি কমপ্লেক্স ছোট বাবুদের ক্ষুধা বৃদ্ধি করে এবং দুর্বলতা ও
ক্লান্তি কমিয়ে দেয় এছাড়াও Xinc B syrup এটি খাবার কে শক্তিতে রূপান্তর করতে
সাহায্য করে থাকে এবং স্নায়ু ভালো রাখে। ভিটামিন বি কমপ্লেক্স এর মধ্যে থাকতে
পারে B1,B2,B3,B5,B6 এবং B12 , এক কথায় যাদের শরীরে জিংক ও ভিটামিন বি
কমপ্লেক্সের কমতি রয়েছে তাদের জন্য জিংক বি সিরাপ একটি উত্তম ফুড সাপ্লিমেন্ট
হিসেবে কাজ করে থাকে।
যদি আপনার ছোট সোনামণির খাবারের প্রতি চাহিদা কমে যায় অথবা বারবার অসুস্থ হয়
অথবা ওজন বা বৃদ্ধি কম হয় তখন আপনি এটি একজন অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ মতে
খাওয়াতে পারেন। আবার বড়দের ক্ষেত্রে চুল পড়া বা ত্বকের সমস্যা দূর করতে এটি
ভালো কাজ করে থাকে। এছাড়া এটি বড়দের দুর্বলতা ক্লান্তি ও অপুষ্টি দূর করতে
যথেষ্ট সহায়তা করে থাকে।
Xinc syrup এর কাজ কি
জিংক সিরাপ এর আসল কাজ হচ্ছে ইমিউন সিস্টেম বৃদ্ধি করা। তাই জিংক সিরাপ এর
উপকারিতা বুঝার আগে আপনাকে জানতে হবে ইমিউনিটি সিস্টেম টা কি? ইউনিটি বলতে
মানবদেহের সেই ক্ষমতা কে বুঝায়, যা রোগ জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করে দেহকে সুস্থ
রাখে। এখানে রোগ জীবাণু বলতে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা ফাঙ্গাস কে বুঝানো
হয়েছে।
এক কথায় সহজ ভাবে বুঝালে ইমিউনিটি হল দেহের নিজস্ব একটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
অর্থাৎ এটি রোগ জীবাণুর বিরুদ্ধে ঢাল হিসাবে কাজ করে থাকে। যখন শরীরে কোন রোগ
জীবাণু প্রবেশ করে সে সময় ইমিউন সিস্টেম দেহে কার্যকর থাকলে সেটি শরীর চিনে ফেলে।
তারপর তাকে ধ্বংস করার জন্য সাদা রক্তকণিকা কাজ শুরু করে এবং জীবাণুকে মেরে ফেলে
অথবা দুর্বল করে দেয়। এছাড়াও মানবদেহে ইমিউনিটি কম হওয়ার কারণে বারবার সর্দি
কাশি হওয়া, অসুস্থ হয়ে পড়া, শরীর দুর্বল লাগা এবং কাটা বা ছেড়া ক্ষত শুকাতে
দেরি হওয়ার মতো সমস্যাগুলো দেখা দেয়।
আশা করা যায় মানবদেহে ইমিউনিটির গুরুত্ব কতটুকু তা আপনাদেরকে বুঝাতে পেরেছি। তাই
এখন মোটা দাগে বলা যায় জিংক এই ইমিউনিটি বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রেখে রোগ
জীবাণুর বিরুদ্ধে শক্ত বলয় তৈরি করে। তাই আপনার সোনামনির বারবার অসুস্থ হওয়া
কমাতে এবং শরীরকে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়তে ডাক্তারের পরামর্শ
অনুযায়ী জিঙ্ক সিরাপ খাওয়াতে পারেন।
Xinc B syrup এবং Xinc syrup এর আসল পার্থক্য
উপরে আপনাদের কাছে আমি Xinc B syrup এবং Xinc syrup এর ব্যাপারে বিস্তারিত
উল্লেখ করেছি। আর এখন শুধুমাত্র Xinc B syrup এবং Xinc syrup এর আসল
পার্থক্য নিয়ে কিছু সঠিক এবং বিশ্লেষণ মূলক তথ্য আপনাদেরকে দেব। চলুন জেনে
নেওয়া যাক জিংক সিরাপ এবং জিন বি সিরাপ এর আসল পার্থক্যটা কি এবং কখন কোন কাজে
কোনটি বেশি দরকার হয়।
যদি উপাদানগত তথ্যর কথা বলা হয় তবে, জিংক সিরাপ এ শুধুমাত্র জিংক রয়েছে এবং
জিংক বি সিরাপে জিংক প্লাস ভিটামিন বি (Zinc+ Vitamin B) রয়েছে। আবার যদি এই
দুই সিরাপের প্রধান কাজ সম্পর্কে বলা হয় তবে, জিংক সিরাপ শুধুমাত্র ইমিউনিটি
এবং ডায়রিয়ার ক্ষেত্রে ভালো কাজ করে এবং জিংক বি সিরাপ (ইমিউনিটি+
ক্ষুধা+শক্তি) বাড়াতে ভালো কাজ করে থাকে।
আবার যদি এই দুই সিরাপ এর মধ্যে রোগ নিরাময়ের ক্ষেত্রে কোন রোগের জন্য কোনটি
বেশি কার্যকর সেই হিসাবে বলতে গেলে জিংক সিরাপ ডায়রিয়া ও জিংকের এর ঘাটতি
জনিত রোগে বেশি কার্যকর বা উপযোগী। আর অপরদিকে জিংক বি সিরাপ ক্ষুধামন্দা এবং
দুর্বলতা দূর করতে বেশি কার্যকর।
এক কথায় সহজভাবে বলতে গেলে জিংক সিরাপ এ শুধুমাত্র জিংক রয়েছে যা ইমিউনিটি
বৃদ্ধি করতে এবং ডায়রিয়া ভালো করতে সাহায্য করে। অপরদিকে জিংক বি সিরাপে রয়েছে
জিং ক এবং ভিটামিন বি যা ইমিউনিটি বাড়ায় ক্ষুধা বৃদ্ধি করে এবং শক্তি বৃদ্ধি
করে দুর্বলতাকে কমায়। আশা করি বিষয়টি পরিষ্কার ভাবে বুঝতে পেরেছেন।
আরো পড়ুনঃ থানাকা ফেস প্যাক আসল নকল চেনার উপায়
বেবি জিংক সিরাপ বাংলাদেশ
বাংলাদেশের শিশু স্বাস্থ্যের যত্নে বেবি জিংক সিরাপ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
এবং বহুল ব্যবহৃত ওষুধ। এটি বিশেষ করে ডায়রিয়া ও পাতলা পায়খানার সময়
শিশুদের দ্রুত সুস্থ করে তুলতে খুবই কার্যকরী ভূমিকা রাখে। ইউনিসেফ ও বিশ্ব
স্বাস্থ্য সংস্থা শিশুদের ডায়রিয়ার চিকিৎসায় জিংক ব্যবহারের সুপারিশ করে
থাকেন।
বেবি জিংক সিরাপ হল এমন একটি ওষুধ যাতে জিংক নামের একটি খনিজ উপাদান থাকে এবং এটি
জিংক সালফেট আকারে তৈরি করা হয়। মনে রাখতে হবে জিঙ্ক অবশ্যই মানব স্বাস্থ্যের
জন্য একটি অপরিহার্য উপাদান যা দেহের বৃদ্ধি এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও কোষের
সঠিক কার্যকারীতার জন্য প্রয়োজন।
বেবি জিংক সিরাপ বাংলাদেশের বিভিন্ন ফার্মাসিটিক্যাল কোম্পানি উৎপাদন ও বিপণন করে
থাকে। এই সিরাপ খুবই সহজলভ্য এবং দেশের প্রায় সব ফার্মেসিতেই পাওয়া যায় এবং
দামও তুলনামূলকভাবে কম। বেবি জিংক সিরাপ সম্পর্কে কিছু কথা না বললেই নয় তা
হচ্ছে, এই সিরাপ কখনো নিজের ইচ্ছায় বাচ্চাকে নিয়মিত খাওয়াবেন না। অবশ্যই
ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ডোজ দেওয়া উচিত এবং ডাক্তারের পরামর্শ মতে নির্ধারিত
সময় পর্যন্ত নিয়মিত খাওয়ানো যেতে পারে।
জিংক সিরাপ এর দাম কত
শিশুদের জিংক সিরাপ এর উপকারিতা জানার পরে এর দাম সম্পর্কেও একটু তথ্য জেনে রাখা
দরকার। তাই এই পর্যায়ে আপনাদের কাছে বর্তমান বাজারে জিংক সিরাপ এর দাম কত তা
তুলে ধরছি। জিংক সিরাপ জিংকের ঘাটতি এবং জিংক ক্ষয় নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার করা হয়ে
থাকে। বাংলাদেশে বিভিন্ন ওষুধ উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো এই জিংক সিরাপ তৈরি করে
থাকেন এবং তাই কোম্পানি অনুযায়ী দাম কমবেশি হয়ে থাকে।
যেমন এসকেএফ বাংলাদেশ লিমিটেড এর জিংক সিরাপ ১০০ এমএল এর দাম ৪৮ থেকে ৫০ টাকা এবং
১৫০ এমএল এর দাম ৭০ টাকা। ডেল্টা ফার্মাসিটিক্যালস লিমিটেড এর (Znkid Syrup)
সিরাপ ২৮ থেকে ৩০ টাকা। আমিকো ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড এর জিংক সিরাপ এর দাম ২৪ থেকে
২৫ টাকা। নাফকো ফার্মা লিমিটেড এর জিংক সিরাপ (Naffzinc-DS Syrup) এর দাম ৪০ থেকে
৪৫ টাকা। আদ দ্বীন ফার্মাসিটিক্যালস লিমিটেড এর জিংক সিরাপ এর দাম ৪৫ থেকে ৫০
টাকা।
এই দামগুলো বাজারের খুচরা মূল্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সংক্ষেপে দামের
সারমর্ম এই হয় যে, সাধারণ জিংক সিরাপ ২৪ থেকে ৩০ টাকা এবং মাঝারি ব্র্যান্ডের
জিংক সিরাপ গুলো ৩০ থেকে ৫০ টাকা এবং ডাবল স্ট্রেংথ (DS) এর জিংক সিরাপ গুলো ৪০
থেকে ৫০ টাকায় আপনার নিকটস্থ যেকোনো ফার্মেসিতে পেয়ে যাবেন। আপনাদের
সুবিধার্থে আরো কিছু তথ্য দিয়ে রাখি, এই জিংক সিরাপের মূল উপাদান গুলো প্রায়
একই থাকে এবং এর দাম ফার্মেসী ও এলাকায় ভেদে কিছুটা কম বেশি হতে পারে।
এখানে বিশেষ ভাবে উল্লেখ্য যে, শিশুদের জিংক সিরাপ এর উপকারিতা সম্পর্কিত আর্টিকেলটি শুধুমাত্র সাধারণ তথ্যর জন্য। এটি কোন চিকিৎসার অংশ নয় এবং এটি ডাক্তার এর প্রেসক্রিপশন বা পরামর্শের বিকল্পও হিসাবে কাজ করবে না। তাই স্বাস্থ্য সংক্রান্ত যে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ রেজিস্টার্ড ডাক্তারের পরামর্শ নিন। তথ্য ব্যবহারজনিত কোন ক্ষয়-ক্ষতির জন্য লেখক বা ওয়েবসাইট কোনভাবেই দায়ী নয়।
শেষকথাঃ শিশুদের জিংক সিরাপ এর উপকারিতা
প্রিয় পাঠক, পরিশেষে বলা যায় যে জিংক মানবদেহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং
আবশ্যকীয় একটি উপাদান যার ঘাটতি দেখা দিলে বিভিন্ন রকম সমস্যা দেখা দেয়।
এছাড়াও এটি ডায়রিয়া প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে সঠিক
ব্যবহার নিশ্চিত করতে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরণ করা উচিত। সচেতনতা ও সঠিক
ব্যবহারের মাধ্যমে যে সিরাপ শিশুদের সুস্থ ও নিরাপদ রাখতে কার্যকরী ভূমিকা রাখাতে
পারে।
এইরকম স্বাস্থ্য সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় আর্টিকেল পড়তে আমাদের পেজটি এখনই
সাবস্ক্রাইব করে রাখুন এবং আমাদের আর্টিকেলটি যদি আপনাদের কাছে ভালো লেগে থাকে
তবে অবশ্যই শেয়ার করুন এবং যে কোন গঠনমূলক পরামর্শের জন্য অবশ্যই আমাদের
কমেন্টসে জানাতে ভুলবেন না।



ব্লগ টু বাজারের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url