খালি পেটে ডায়াবেটিস কত হলে নরমাল

খালি পেটে ডায়াবেটিস কত হলে নরমাল এমন প্রশ্ন আজকের দিনে অসংখ্য স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে। কারণ ডায়াবেটিস এখন শুধু বয়স্কদের নয় তরুণদের মাঝেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে ব্লাড সুগারের সঠিক মাত্রা জেনে রাখা খুবই জরুরী।

খালি পেটে ডায়াবেটিস কত হলে নরমাল

এই আর্টিকেলে সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করব খালি পেটে রক্তে শর্করার স্বাভাবিক ও সর্বোচ্চ মাত্রা কত হওয়া উচিত, কখন তা বিপদের ইঙ্গিত দেয় এবং কিভাবে আপনি নিজেকে সচেতন রাখতে পারবেন। আপনি যদি নিজের বা প্রিয়জনের সুস্থতা নিয়ে চিন্তিত থাকেন তাহলে এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।

পোস্ট সূচিপত্রঃ খালি পেটে ডায়াবেটিস কত হলে নরমাল

খালি পেটে ডায়াবেটিস কত হলে নরমাল

খালি পেটে ডায়াবেটিস কত হলে নরমাল এটা বুঝতে হলে আগে খালি খালি পেট বলতে কি বুঝায় তা জানা জরুরী। অর্থাৎ শর্করা পরীক্ষার জন্য কতক্ষণ না খেয়ে থাকতে হবে সেই সময়টা জানা উচিত। সাধারণত ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা না খেয়ে থাকার পর যে রক্তের  শর্করা পরীক্ষা করা হয় সেটাকেই খালি পেটে ডায়াবেটিস বলে ধরা হয়ে থাকে। 
  • খালি পেটে ডায়াবেটিস বা রক্তে শর্করার স্বাভাবিক মাত্রা হচ্ছে ৩.৯-৫.৫ মিলিমোল/লিটার অথবা ৭০-৯৯ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার। এই পরিমাণ ডায়াবেটিস থাকলে আপনি সুস্থ স্বাভাবিক অর্থাৎ প্রতিটি মানুষের রক্তে শর্করা স্বাভাবিক মাত্রাই হচ্ছে এইটা।
  • যদি খালি পেটে ডায়াবেটিসের মাত্রা ৫.৬- ৬.৯ মিলিমোল/লিটার অথবা ১০০-১২৫ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার হয় তবে এটাকে প্রি-ডায়াবেটিস বলা হয়। প্রি ডায়াবেটিস এর মানে হচ্ছে ভবিষ্যতে ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, এক্ষেত্রে সুস্থ থাকতে নিয়মিত চেকআপ এবং ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী জীবনযাপন করা উচিত। 
  • রক্তে শর্করার মাত্রা ৭.০ মিলিমোল/লিটার অথবা ১২৬ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার এর বেশি হয় তবে একে ডায়াবেটিস হিসাবে ধরা হয়, এই অবস্থায় চিকিৎসা নেওয়া জরুরী।
এক কথায় বলা যায় যে, যদি খালি পেটে ডায়াবেটিস এর মাত্রা ৩.৯ থেকে ৫.৫ মিলিমোল/লিটার অথবা ৭০ থেকে ৯৯ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার এর মধ্যে থাকলে সেটাকে নরমাল বা স্বাভাবিক ধরা হয়।

ডায়াবেটিস কত হলে ঔষধ খেতে হবে

খালি পেটে ডায়াবেটিস কত হলে নরমাল তা তো জানা হলো, এখন আসা যাক ডায়াবেটিস কত হলে ওষুধ খেতে হবে এ বিসয়তিতে। আসলে এ বিষয়টি নির্দিষ্ট একটি সংখ্যার উপর উপরে নির্ভর করে না। বরং রক্তে শর্করার মাত্রা, রোগের ধরন, উপসর্গ এবং ডাক্তারের সুপারিশের উপর নির্ভর করে। এরপরও ডাক্তারগণ সাধারণত ডায়াবেটিস যে মাত্রায় পৌঁছালে ওষুধ শুরু করা পরামর্শ দেন তা হচ্ছে, 

যদি খালি পেটে রক্তে শর্করার মাত্রা ৭.০ মিলিমোল/লিটার অথবা ১২৬ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার এর বেশি হয় এবং খাওয়ার ২ ঘন্টা পর রক্তে শর্করার মাত্রা ১১.১ মিলিমোল/লিটার অথবা ২০০মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার এর বেশি হয় তবে ডাক্তারের পরামর্শে ওষুধ খেতে হবে। তবে রক্তে শর্করার মাত্রা কয়েকবার পরীক্ষা করার পরে যদি এই অবস্থা গুলো আসে তাহলে সাধারণত ডায়াবেটিস ধরা হয় এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ডাক্তারগণ ওষুধ শুরু করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

আবার যদি কারো রক্তে শর্করার মাত্রা ৫.৬- ৬.৯ মিলিমোল/লিটার অথবা ১০০ থেকে ১২৫ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার এর মধ্যে থাকে অর্থাৎ প্রি-ডায়াবেটিস হয়ে থাকে তবে শুরুতেই ওষুধ না খেয়ে শুধু খাবার নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত ব্যায়াম, ওজন কমানো ইত্যাদির মাধ্যমেই প্রি-ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তবে ঝুঁকি বেশি থাকলে ডাক্তার হালকা ওষুধ দিতে পারেন। 

এখানে একটি বিষয় জরুরিভাবে মনে রাখা উচিত যে, অনেকেই ভাবেন ডায়াবেটিস একটু বেশি হলে ওষুধ শুরু করতে হবে, এটা সব সময় ঠিক না। আবার অনেকেই দেরি করে ওষুধ শুরু করেন এটাও ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ দেরি করলে শরীরের ক্ষতিও শুরু হয়ে যেতে পারে। তাই ডায়াবেটিস কত হলে ওষুধ খেতে হবে এই বিষয়টি একজন ডাক্তার ভালো বলতে পারবেন এবং তার পরামর্শ মতই ওষুধ শুরু করা উচিত হবে।

ডায়াবেটিস ঔষধ খাওয়ার নিয়ম

ডায়াবেটিস ওষুধ খাওয়ার নিয়ম একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম হতে পারে অর্থাৎ প্রত্যেকের ক্ষেত্রে যে একই রকম নিয়ম হবে তা নয়। ডায়াবেটিস ওষুধ খাওয়ার নিয়ম মূলতঃ নির্ভর করে রোগের ধরন, রক্তে শর্করার মাত্রা ও রোগীর শারীরিক অবস্থার ওপর। তবে ডায়াবেটিসের এমন কিছু ওষুধ রয়েছে যা সাধারণত খাবার গ্রহণের আগে খেতে হয় এবং কিছু ওষুধ পরেও খেতে হয়, আবার কিছু ওষুধ যেকোনো সময় খাওয়া যায়। 

প্রতিটি ওষুধ শরীরে আলাদাভাবে কাজ করে। কিছু ওষুধ এমন আছে যা খাবারের পর হঠাৎ শর্করা বৃদ্ধি করা কমায় আবার কিছু ওষুধ আছে যা সারাদিন রক্তে শর্করাকে নিয়ন্ত্রণে রাখে। তাই ওষুধের ধরণ অনুযায়ী ডায়াবেটিস ওষুধ খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
  1. Salfonylurea (যেমন:Glimepiride, Gliclazide): এই ধরনের ওষুধ গুলো সাধারণত খাবারের ১৫ থেকে ৩০ মিনিট আগে ডাক্তারগণ খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কারণ এগুলো খাবার আগে খেলে খাবারের সময় যে শর্করা বৃদ্ধি পায় তা নিয়ন্ত্রণ করে এবং ইনসুলিন নিঃসরণ বৃদ্ধি করে।
  2. Meglitinides ( যেমন:Repaglinide): এই টাইপের ওষুধ খাবারের (০-১৫ মিনিট) আগে সাধারণত ডাক্তারগন খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কারণ এই টাইপের ওষুধ খাবারের পর শর্করার হঠাৎ বৃদ্ধি কমায় এবং খুব দ্রুত কাজ করে তবে খাবার না খেলে এই ওষুধ না খাওয়াই ভালো। 
  3. Metformin: এই টাইপের ওষুধগুলো ডাক্তারগণ সাধারণত খাবারের সাথে বা খাবারের পরে খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কারণ এই টাইপের ওষুধ খালি পেটে খেলে পেটের সমস্যা যেমন গ্যাস বা বমি হতে পারে। 
  4. Alpha-glucosidase inhibitors (যেমন: Acarbose): এই টাইপের ওষুধ ডাক্তার কোন সাধারণত খাবারের প্রথম কামরের সাথে খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন কেননা এগুলো কার্পোহাইড্রেট ভাঙ্গার গতি কম করে ফলে শর্করার পরিমাণ ধীরে ধীরে বাড়ে।
  5. DPP-4 inhibotors (যেমন:Sitagliptin): এ ধরনের ওষুধ গুলো খাবারের সাথে সম্পর্ক কম তাই এ টাইপের ওষুধগুলো ডাক্তারগণ সাধারণত খাবার আগে বা পরে যেকোনো সময় খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। 
এখানে উল্লেখ্য ওষুধের নাম গুলো মূলত ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত সাধারণ ওষুধ। তবে কোনটি আপনার জন্য উপযুক্ত ওষুধ এবং কখন, কোনটি, কিভাবে খেতে হবে তা নির্ভর করে আপনার শারীরিক অবস্থা ও ডাক্তারের পরামর্শের উপর। তাই ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবন করবেন না এবং ওষুধের ডোজ বা ওষুধ খাওয়ার সময় সূচি পরিবর্তন করা যাবে না।

ডায়াবেটিস পয়েন্ট তালিকা

এখানে একটি ডায়াবেটিস পয়েন্ট তালিকা দেওয়া হল। এই ডায়াবেটিস পয়েন্ট তালিকা থেকেই আপনি গ্লুকোমিটারের ব্লাড সুগার লেভেল রেজাল্ট দেখে প্রাপ্ত ফলাফলের সাথে এই পয়েন্ট তালিকা দেখে মিলিয়ে নিতে পারবেন যে, আপনি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত কিনা বা আপনার ডায়াবেটিস কোন পর্যায়ে রয়েছে।

ব্লাড সুগার লেভেল মূলত দুটি একক দিয়ে পরিমাপ করা হয়ে থাকে একটি হচ্ছে মিলিমোল/লিটার (mmol/lit) অপরটি হচ্ছে মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার (mg/DL), আপনাদের সুবিধার্থে এখানে দুইটি একক উল্লেখ করে দেওয়া হলো। তাই চলুন এক নজরে দেখে নেওয়া যাক, ডায়াবেটিস পয়েন্ট তালিকা।
  • খালি পেটেঃ ৩.৯-৫.৫ মিলিমোল/লিটার অথবা ৭০-৯৯ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার এর মধ্যে হলে তা স্বাভাবিক। ৫.৬-৬.৯ মিলিমোল/লিটার অথবা ১০০-১২৫ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার এর মধ্যে হলে তা প্রি-ডায়াবেটিস। ৭.০ মিলিমোল/লিটার অথবা ১২৬ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার এর বেশি হয় তাহলে ডায়াবেটিস।
  • খাবার গ্রহনের ২ ঘণ্টা পরঃ ৭.৮ মিলিমোল/লিটার অথবা ১৪০মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার এর কম হলে তা স্বাভাবিক। ৭.৮-১১ মিলিমোল/লিটার অথবা ১৪০-১৯৯ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার এর মধ্যে হলে তা প্রি-ডায়াবেটিস। ১১.১ মিলিমোল/লিটার অথবা ২০০ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার এর বেশি হয় তাহলে ডায়াবেটিস।
  • যে কোন সময়ঃ ৪.৪-৭.৮ মিলিমোল/লিটার অথবা ৮০-১৪০মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার এর মধ্যে হলে তা স্বাভাবিক। ৭.৮-১১.১ মিলিমোল/লিটার অথবা ১৪০-২০০ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার এর মধ্যে হলে তা প্রি-ডায়াবেটিস। ১১.১ মিলিমোল/লিটার অথবা ২০০ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার এর বেশি হয় তাহলে ডায়াবেটিস।
  • হিমোগ্লবিন A1C টেস্টঃ ৫.৭% এর কম হলে তা স্বাভাবিক। ৫.৭%-৬.৪% এরমধ্যে হলে তা প্রি-ডায়াবেটিস এবং ৬.৫% বা তার বেশি হলে ডায়াবেটিস।
ডায়াবেটিস পয়েন্ট তালিকা

নরমাল ব্লাড সুগার লেভেল চার্ট

নরমাল ব্লাড সুগার লেভেল চার্ট উপরে দেওয়া তথ্য হতে আশা করছি আপনারা একটি পরিষ্কার ধারণা পেয়েছেন। তাই এখন আমি আপনাদের সামনে বর্ণনা করবো বয়স অনুসারে সাধারণ রক্তে শর্করার মাত্রা চার্ট। এই লেখায় আমরা বয়স অনুযায়ী নরমাল ব্লাড সুগার লেভেল চার্ট সহজভাবে তুলে ধরেছি যেন আপনি নিজের বা পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন থাকতে পারেন। 
  • শিশু (০-৫ বছর): এই বয়সের শিশুদের ক্ষেত্রে রক্তে শর্করা স্বাভাবিক মাত্রা হচ্ছে খালি পেটে ৮০-১০০ মি.গ্রাম/ডে.লিটার এবং খাবারের দুই ঘন্টা পরে ১০০-১৪০ মি.গ্রাম/ডে.লিটার।
  • শিশু (৬-১২ বছর): এই বয়সের শিশুদের ক্ষেত্রে রক্তে শর্করা স্বাভাবিক মাত্রা হচ্ছে খালি পেটে ৭০ -১০০ মি.গ্রাম/ডে.লিটার এবং খাবারের দুই ঘন্টা পরে ১০০-১৪০ মি.গ্রাম/ডে.লিটার।
  • কিশোর (১৩-১৯ বছর): এই বয়সের ক্ষেত্রে রক্তে শর্করা স্বাভাবিক মাত্রা হচ্ছে খালি পেটে ৭০ -১০০ মি.গ্রাম/ডে.লিটার এবং খাবারের দুই ঘন্টা পরে ১৪০ মি.গ্রাম/ডে.লিটার এর কম হতে হবে। 
  • প্রাপ্তবয়স্ক (২০-৫৯ বছর): এই বয়সের ক্ষেত্রে রক্তে শর্করা স্বাভাবিক মাত্রা হচ্ছে খালি পেটে ৭০ -৯৯  মি.গ্রাম/ডে.লিটার এবং খাবারের দুই ঘন্টা পরে ১৪০ মি.গ্রাম/ডে.লিটার এর কম হতে হবে। 
  • বয়স্ক (৬০ বছরের উপরে ): এই বয়সের ক্ষেত্রে রক্তে শর্করা স্বাভাবিক মাত্রা হচ্ছে খালি পেটে ৭০ -১১০   মি.গ্রাম/ডে.লিটার এবং খাবারের দুই ঘন্টা পরে ১৫০ মি.গ্রাম/ডে.লিটার এর কম হতে হবে। 
উপরে উল্লেখিত মানগুলো সাধারণ মানুষের জন্য অর্থাৎ যাদের ডায়াবেটিস নেই তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কারো যদি ডায়াবেটিস থাকে তাহলে তাদের বিষয়টি আলাদা হবে। ব্যক্তি ভেদে রক্তে সরকারের মাত্রা অনুযায়ী ডাক্তার ভিন্ন ত্বকের সেট করতে পারেন।

ডায়াবেটিস কত হলে মানুষ মারা যায়

ডায়াবেটিস কত হলে মানুষ মারা যায় বা এটি কত হলে বিপদজনক এটি জানতে হলে আগে বুঝতে হবে ডায়াবেটিসে মানুষ কেন মারা যায়। ডায়াবেটিসে মানুষ মারা যাওয়ার দুইটি অবস্থা রয়েছে একটিকে বলা হয় হাইপোগ্লাইসেমিয়া এবং অপরটি হচ্ছে হাইপারগ্লাইসেমিয়া।
  1. হাইপোগ্লাইসেমিয়াঃ এটি হচ্ছে রক্তে শর্করা মাত্রা খুব কম হওয়া। যখন রক্তের শর্করার মাত্রা ৭০ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার এ কম হয় তখন সেই অবস্থাকে হাইপোগ্লাইসেমিয়া বলে। যদি এই হাইপোগ্লাইসেমিয়াকে দ্রুত সামলানো না যায় তবে এটি কোমা বা মৃত্যুর কারণ হতে পারে।
  2. হাইপারগ্লেইসেমিয়াঃ এটি হচ্ছে রক্তে শর্করা মাত্রা খুব বেশি হয়ে যাওয়া। এই মাত্রা ২০০ মিলিগ্রাম/ ডেসিলিটার এর বেশি হলে বিপদজনক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে যেমন: হৃদরোগ এবং স্ট্রোক, কিডনি বিকল হয়ে যাওয়া, স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি এবং বিভিন্ন রকমের সংক্রমণ ইত্যাদি। যা নিচে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো।
এখানে একটি অবাক করা বিষয় হলো, ডায়াবেটিসে মানুষ শর্করা বেশি থাকার কারণে সরাসরি মারা যায় না বরং দীর্ঘ দিন যাবৎ রক্তে শর্করা বেশি থাকলে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো নষ্ট হয়ে যায়। যদি রক্তে শর্করার মাত্রা ৩০০ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার এর বেশি হয় তবে জটিলতা গুলো বেশি বেড়ে যায়। আর সেখান থেকেই বড় ধরনের সমস্যা গুলো তৈরি হয় যেমনঃ
  • হৃদরোগঃ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মানুষের মৃত্যুর সবচেয়ে বড় একটি কারণ হচ্ছে হৃদরোগ। ডায়াবেটিসে রক্তে শর্করা থাকলে রক্তনালী শক্ত ও সরু বা চিকন হয়ে যায়, যার ফলে হার্টে রক্ত ঠিকমতো পৌঁছায় না। ফলস্বরূপ হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক হতে পারে।
  • কিডনি বিকলঃ ডায়াবেটিস কিডনির ছোট ছোট ফিল্টার গুলো নষ্ট করে দেয় যার ফলে কিডনি ধীরে ধীরে কাজ করা বন্ধ করে দেয়। এই কিডনি বিকল হওয়ার দরুন মৃত্যু পর্যন্তও হতে পারে।
  • স্নায়ুর ক্ষতিঃ ডায়াবেটিস হলে হাত-পা অবশ হয়ে যায়, শরীরের অনুভূতি কমে যায়। তখন ছোট ক্ষত হলেও সহজে বোঝা যায় না। পরবর্তীতে এই ছোট ক্ষত বড় ইনফেকশন অঙ্গহানি হতে পারে এমনকি মৃত্যু পর্যন্তও হতে পারে।
এছাড়াও হাতে পায়ে ঘা বা ইনফেকশন হলে রক্ত চলাচল কম থাকায় ক্ষত জায়গা সহজে শুকায় না। চোখের রক্তনালী নষ্ট হয়ে দৃষ্টিশক্তি কমে যায় এমনকি অন্ধত্ব দেখা দিতে পারে। আশা করছি উপরের আলোচনা হতে আপনার বুঝতে পেরেছেন যে, ডায়াবেটিসের দ্বারা সরাসরি মৃত্যু হয় না। ডায়াবেটিসে মৃত্যু হয় মূলত হৃদরোগ, কিডনি নষ্ট, স্ট্রোক ও ইনফেকশন থেকে।

রেনডম ব্লাড সুগার কত থাকা উচিত

রেনডম ব্লাড সুগার হচ্ছে দিনের যেকোনো সময় রক্তে যে পরিমাণ চিনি বা গ্লুকোজ থাকে সেটাই রেনডম ব্লাড সুগার। বিষয়টি যদি আরও সহজভাবে বুঝাতে চাই তাহলে, ধরুন আপনি কখনো খাওয়ার পরে অথবা কখনো না খেয়ে অর্থাৎ খাওয়ার সাথে কোন সম্পর্ক না রাখে যে কোন সময় রক্ত পরীক্ষা করলেন। সে সময়ের সুগারের মাত্রাই হচ্ছে রেনডম ব্লাড সুগার। 

রেনডম ব্লাড সুগার এ কারণে চেক করা হয় যে, শরীরে হঠাৎ সুগার বেশি হয়েছে কিনা তা জানার জন্য। আবার অনেক সময় ডায়াবেটিস আছে কিনা তা বুঝার প্রাথমিক ধারণা পাওয়ার জন্য। এক কথায়, যখন খুশি তখন মাপা সুগারই হচ্ছে রেনডম ব্লাড সুগার।

রেনডম ব্লাড সুগার কত থাকা উচিত চলুন এক পলকে দেখে নেওয়া যাক।

স্বাভাবিক অবস্থায় রেনডম ব্লাড সুগার সাধারণত ৭.৮ মিলিমোল/লিটার অথবা ১৪০ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার এর নিচে থাকা উচিত। আবার যদি ৭.৮ মিলিমোল/লিটার হতে ১১.০ মিলিমোল/লিটার এর মধ্যে হয় তবে তা প্রি ডায়াবেটিস হিসাবে ধরা হয়। আর যদি ১১.১ মিলিমোল/লিটার অথবা ২০০ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার এর বেশি হয় তাহলে তা ডায়াবেটিস হিসাবে সন্দেহ করা যায়। 

এখানে একটি বিষয় খেয়ালে রাখা জরুরী যে, রেনডম ব্লাড সুগার ১১.১ মিলিমোল/লিটার বা এর চেয়ে বেশি হয় এবং একই সাথে পিপাসা, বার বার প্রস্রাব, দুর্বলতা ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দেয় তাহলে ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এই অবস্থায় একবারের রিপোর্ট দেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নিয়ে আরো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা উচিত এবং জরুরিভাবে একজন রেজিস্টার্ড অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ এবং চিকিৎসা নেওয়া উচিত।

ফাস্টিং ব্লাড সুগার লেভেল

ফাস্টিং ব্লাড সুগার (Fasting Blood Sugar) মানে হচ্ছে রাতে অন্তত ৮-১০ ঘণ্টা না খেয়ে থাকার পর সকালে খালি পেটে যে রক্তে শর্করার মাত্রা মাপা হয়। এই পরীক্ষাটি একজন ডাক্তারের পরামর্শ মতে করা হয় যদি ডাক্তার সন্দেহ করেন যে শরীরে রক্তে শর্করা মাত্রা বাড়ছে বা কমে যাচ্ছে কেননা শরীরের রক্তে শর্করা মাত্রার উঠানামা করার কারণে স্বাস্থ্যের অবস্থার অবনতি হয় যেমন: হাইপোগ্লাইসেমিয়া বা হাইপারগ্লাইসেমিয়া দেখা দিতে পারে।

একজন মানুষের স্বাভাবিক ফাস্টিং ব্লাড সুগার লেভেল হচ্ছে ৭০-৯৯ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার অথবা ৩.৯ থেকে ৫.৬ মিলিমোল/লিটার। আবার যদি এই মাত্রা ১০০ থেকে ১২৫ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার এর মধ্যে হয় তবে তা প্রি ডায়াবেটিস হিসাবে ধরা হয়ে থাকে এইমাত্র যদি ১২৬ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার বা এর বেশি হয় তবে তা ডায়াবেটিস হিসাবে ধরে নেওয়া হয়, তবে মিনিমাম দুইবার পরীক্ষায় নিশ্চিত হতে হবে।
খালি পেটে ডায়াবেটিস কত হলে নরমাল

এখানে বিশেষ ভাবে উল্লেখ্য যে, খালি পেটে ডায়াবেটিস কত হলে নরমাল বিষয়ে লেখা আর্টিকেলটি শুধুমাত্র সাধারণ তথ্যর জন্য। এটি কোন ওষুধ বা চিকিৎসার অংশ নয় এবং এটি ডাক্তার এর প্রেসক্রিপশন বা পরামর্শের বিকল্পও হিসাবে কাজ করবে না। তাই স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। তথ্য ব্যবহারজনিত কোন ক্ষয়-ক্ষতির জন্য লেখক বা ওয়েবসাইট কোনভাবেই দায়ী নয়।

শেষকথাঃ খালি পেটে ডায়াবেটিস কত হলে নরমাল

পরিশেষে বলা যায় যে, খালি পেটে রক্তে শর্করা মাত্রা স্বাভাবিক রাখা শুধু একটি সংখ্যা নয় এটি সুস্থ জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কখন ওষুধ শুরু করতে হবে, কোন পর্যায়ে সতর্ক হওয়ার জরুরী, আর কত হলে ঝুঁকি বাড়ে এসব বিষয়ে আশা করছি আপনারা পরিষ্কার ধারণা পেয়েছেন।

প্রিয় পাঠক, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবন-যাপনই পারে আপনাকে নিরাপদ রাখতে। তাই নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি সচেতন এবং যত্নবান হোন, আর স্বাস্থ্য সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ ও সঠিক তথ্য জানতে আমাদের ওয়েব সাইটটি নিয়মিত ভিজিট করুন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ব্লগ টু বাজারের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

Md. Abu Saleh
Md. Abu Saleh
আমি একজন ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট আমি অনলাইন ইনকাম, ব্লগিং, SEO ও টেকনোলজি নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করি।